Posts

প্রাণী নিধনের নতুন ইতিহাস

Image
বিশ্ব ভরা যে বিপুল প্রাণের বৈচিত্র তা যে , ক্র মশই ধ্বংস হচ্ছে , লুপ্ত হচ্ছে তার শুরুটা কিন্তু হয়েছিল হাজার হাজার বছর আগে। মানুষ যখন পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে , সে আবিষ্কার করছে বিশাল বিশাল সব প্রাণীদের , যারা নির্ভয়ে তখন পৃথিবীর বুকে ঘুরে বেড়াতো। কিন্তু সেই দৈত্যাকার প্রাণীরাই একে একে আমাদের এই নীল গ্রহ থেকে হারিয়ে যেতে লাগল। যদিও তখন কোনও বন্দুক ছিল না। ছিল না চোরা শিকারিদের মতো অপরাধী মানুষজনও। তবু তাদের বিলুপ্ত হওয়ার পেছনে মানুষের হাতই বেশি ছিল কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ থাকছে।   দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত ফোব ওয়েস্টনের প্রতিবেদন থেকে যেমন জানা যাচ্ছে , অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা সেই জেনিয়রনিস ’ র কথা। যে ছিল ২ মিটার লম্বা , ২০০ কেজি ওজনেরর পৃথিবীর অন্যতম ভারী ওজনের পাখি। অন্যান্য অনেক দৈত্যাকার প্রাণীদের সঙ্গে সেও সেখানে ঘুরে বেড়াত। কিন্তু সে ৫০ , ০০০ বছর আগেই পৃথিবীর বুক থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।   আবার উত্তর আমেরিকার দৈত্যাকার আর্মাডিলো , যে আকারে ছোট খাটো একটা গাড়ির মতো। সে কিন্তু ১২ , ০০০ বছর আগে পর্যন্তও এই পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াতো।   এই রকম ১৭৮ টিরও বেশি বিশাল প্রজাত...

পদ্ম ফুলের ইতিকথা: প্রথম ফুটেছিল ১৪৫ কোটি বছর আগে

Image
  একদা পৃথিবীর বুকে ঘুরে বেড়ানো দৈত্যাকার ডায়নোসরের মতো প্রাণীরা প্রাকৃতিক বিপর্যয় কিম্বা প্রতিকুল আবহাওয়ায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। ম্যামোথরাও বিলীন হল। অথচ আশ্চর্য , জলের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা একটা হালকা পলকা ডাঁটার ওপর ফোটা নরম কমল বা পদ্ম ফুল কি করে কোটি কোটি বছর ধরে অযুত ঝড় ঝাপটা সয়ে টিকে গেল এই পৃথিবীতে! অসাধারণ সুন্দর এই জলজ ফুলটি প্রথম ফুটেছিল বাতার পথম জন্ম হয়েছিল নাকি ১৪৫ কোটি ৫০ লক্ষ থেকে ৬৫ কোটি ৫০ লক্ষ বছর আগে । বিজ্ঞানীরা অন্তত তেমনটাই বলছেন।   না , যুগ যুগ ধরে ঘটে চলা কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ই তার অস্তিত্বকে নির্মূল করতে পারেনি। এমনকি বিগত তুষার  যুগে যা ১ কোটি ৮০ লক্ষ বছর থেকে ১০ , ০০০ আগে পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল , সেই যুগেও অনন্য এই পদ্ম ফুল কিন্তু হাজারও প্রতিকুলতার সঙ্গে লড়াই করেছে। এবং তার মোকাবিলা করে সে আজও পৃথিবীর বুকে আন্দোলিত হচ্ছে। তবে সত্য যে , পৃথিবীর কোনও কোনও জায়গা থেকে সে উধাও হয়ে গেছে। বর্তমানে সেই সব জায়গা থেকে পাওয়া তার ফসিল বা জীবাশ্ম জানান দেয় যে , একদা সেখানেও তারা প্রস্ফুটিত হত।   প্রাগৈতিহাসিক যুগের বাসিন্দা এই পদ্মের বহু...

উট কাঁটা বেছে খায় না

Image
  উটরা কি কাঁটা বেছে খায় ? সোনার কেল্লায় যাওয়ার পথে , এই অতি জরুরি প্র শ্ন টা জেগে ছিল জটায়ুর মনে। মরুভূমিতে গাছপালা তো তেমন থাকে না। যেগুলি থাকে , অনেক ক্ষেত্রে সেগুলির ডাল পালা আবার কাঁটায় ভরা। তা হলে , মরুভূমিতে উটেরা খায় কী ? লাইভ সায়েন্স-এ প্রকাশিত একটি লেখা থেকে উটেদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জানা গেল বেশ কিছু কথা। জটায়ু যেবার ফেলুদার সঙ্গে মরুপ্রান্তর পেরিয়ে সোনার কেল্লায় যাচ্ছিলেন , সেই সময় উটেদের খাদ্য তালিকা ও তাদের খাওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে এত কিছু জানা ছিল না।   লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের সঙ্গে কথা বলে , লাইভ সায়েন্স জানতে পারে যে , মরুভূমিতে থাকতে থাকতে , সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে নানা ভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে উটেরা। তিন ধরনের উট আছে পৃথিবীতে। ‘ ক্যামেলাস ড্রোমেডারিয়াস ’, ‘ ক্যামেলাস ব্যাক্ট্রিয়ানাস ’ ও ‘ ক্যামেলাস ফেরাস ’ । এদের সকলের পিঠে কুঁজ আছে। ব্যাক্ট্রিয়ানাস উটের পিঠে আবার থাকে দু ’ টো কুঁজ। তাতে জমা থাকে চর্বি। দুর্দিনে , কুঁজে সঞ্চিত চর্বিই ওদের শক্তি যোগায়। তাছাড়া , মরুভূমির কঠিন খাদ্য বেছে বেছে খাওয়ার জন্য , ওদের ঠোঁটগুলিও বিশেষ ভাবে তৈরি। তাদের ও...

২০০০ বছরের বরফ ৩০ বছরে হারালো হিমালয়

Image
  হিমের আলয়ে বরফ আর কত দিন থাকবে ? এভারেস্ট থেকে যে তথ্য এসেছে , তা মোটেই ভালো নয়। হিমালয় সম্পর্কে যাঁরা খোঁজ খবর রাখেন , তাঁরা সাউথ কোল-এর নাম শুনে থাকবেন। ২৬ , ০০০ ফিট ওপরে , সেটি একটি হিমবাহ। এভারেস্টে যে পর্বতারোহীরা ওঠেন , তাঁরা এই হিমবাহ পেরিয়ে পৃথিবীর সব চেয়ে উঁচু শৃঙ্গের দিকে অগ্রসর হন।   সেই হিমবাহ দ্রু ত গলে যাচ্ছে। সব হিমবাহই গলে। আবার তুষারপাতের ফলে , বরফ জমা হয় সেখানে। কিন্তু ‘ সাউথ কোল গলছে এক অস্বাভাবিক হারে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা পত্রে বলা হয়েছে যে , সাউথ কোল-এ যে হারে বরফ জমে ছিল , তার চেয়ে ৮০ গুণ হারে গলে যাচ্ছে সেখানকার বরফ।   গবেষকরা ওই পাহাড়ে দু ’ টি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ স্টেশন তৈরি করে ছিলেন। পৃথিবীতে সেগুলি হল সব চেয়ে উঁচুতে অবস্থিত ওই ধরনের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। সেখান থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে , সেখানে যে বরফ জমা হতে সময় লেগে ছিল ২ , ০০০ বছর , সেই পরিমাণ বরফ ১৯৯০-এর পর থেকে গলে গেছে । অর্থাৎ , মাত্র ৩২ বছরের মধ্যে।   গবেষকরা এও বলেছেন , যে দশ বছর ধরে জমে ওঠা বরফ গলে যাচ্ছে এক বছরে। তথ্য থেকে আরও জানা গেছে যে , সাউথ কোল-...

এবার রেকর্ড ভাঙ্গল সিও-২

Image
  বেড়েই চলেছে ,   সে বেড়েই চলেছে। তাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশ্ব জুড়ে কত বৈঠক , কত চুক্তি। কিন্তু লাগাম ছাড়া গতিতে তার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে আমাদের বায়ু মন্ডলে , যা পৃথিবীকে ক্র মশ গরম করে তুলছে। সে কার্বন ডাইঅক্সাইড বা সিও-২। এবং গত মে মাসে সে সমস্ত রেকর্ডই ভেঙে ফেলেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন , শিল্প যুগ শুরুর আগে বায়ুমন্ডলে গড়ে যে পরিমাণ সিও টু থাকত , বর্তমানে তার থেকে ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে। আসলে বিদ্যুৎকেন্দ্র , যানবাহন , ফার্ম ও অন্যান্য নানা উৎস থেকে বেরিয়ে আসা কার্বন ডাইঅক্সাইড বায়ুমন্ডলে বিপুল পরিমাণে মিশে যাচ্ছে। ২০২১ সালে বাতাসে ওই কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা ছিল ৩৬২০ কোটি টন। মানব সভ্যতার ইতিহাসে যা সর্বোচ্চ। আর বাতাসে এই সিও টু ’ র মাত্রা বেড়ে পৃথিবী যত গরম হয়ে উঠছে , ততই প্রকৃতিতে অঘটনও ঘটছে বেশি। বর্তমানে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা শিল্প যুগের আগের থেকে বেশি। এবং প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী এই তাপমাত্রা কমানোর যে লক্ষ্য মাত্রাই ঠিক করা হোক না কেন দেখা যাচ্ছে , তা ক্র মশই বেড়ে চলেছে। ফলে বিশ্বের নানা প্রান্তে প্রবল তাপপ্রবাহ বেড়েছে। তার প্রভাবে বিশেষ করে ইউরোপে...

চাঁদের মাটিতে জন্মাল গাছ

Image
  চাঁদে গাছ না জন্মালেও , চাঁদের মাটিতে গাছ জন্মেছে। না এটা কোনও ধাঁধার লাইন নয়। সত্যিই , চাঁদ থেকে নিয়ে আসা মাটিতে লাগানো হয়ে ছিল বীজ। আর তাই থেকে ফুটে বেরিয়েছে গাছের চারা। মানুষের ইতিহাসে কেন , পৃথিবীর চারশো কোটি বছরের ইতিহাসে এমনটা আগে কখনও ঘটেনি। চাঁদ থেকে নিয়ে আসা মাটিতে গজালো গাছ! তাই হয়তো কোনও একদিন , পূর্ণিমার চাঁদের বুকে চাষ করে , গম ফলিয়ে , তৈরি করা যাবে ঝলসানো রুটি। মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এই অকল্পনীয় সাফল্য অর্জনকরেছেন । ‘ কমিউনিকেশন বায়োলজি ’ জার্নালে বেরিয়েছে তাঁদের গবেষণার ইতিবৃতান্ত। চাঁদের মাটি পৃথিবীর মাটি থেকে গুণগত ভাবে আলাদা। তবুও সেই মাটিতে যে গাছ গজাতে পারে , বিজ্ঞানীরা তা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। এই সাফল্যের পেছনে বিজ্ঞানীদের কৃতিত্ব যেমন আছে , তেমনই আবার , গাছও প্রমাণ করেছে তার অসীম প্রাণশক্তি। কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবীর মাটিতে নিজেদের বিস্তার ঘটিয়ে , বাতাস থেকে কার্বন-ডাইঅক্সাইড শুষে নিয়ে আর অক্সিজেন ছড়িয়ে , তারা এই গ্রহকে সব প্রাণীর বাসযোগ্য করে তুলেছে একটু একটু করে। এবার তারা দেখিয়ে দিল , চাঁদের মাটিকেও তারা আপন করে নিতে পা...

অ্যামাজনে ছানাধরাদের উপদ্রব চলছে

Image
  সাও পাওলোতে উদ্ধার-করা  ‘ টার্কয়েজ  ফ্র নটেড ’  টিয়ার বাচ্চা অগস্ট আর সেপ্টেম্বর , এই দুটো মাস খুব দুঃসময় অ্যামাজনের ‘ টার্কয়েজ ফ্র নটেড ’ টিয়াদের জন্য। অসাধারণ দেখতে ওই পাখি। বুকটা তাদের নীল-সবুজ পালকে ঢাকা। চোখের চারপাশটা হলুদ। আর চোখের মনিটা একটা লাল রিং দিয়ে ঘেরা। ওই দুটি মাসে তাদের বাচ্চারা একটু বড় হয়ে ওঠে। ছোট ছোট ডানা গজায় তাদের। কিন্ত ডানা মেলে উড়ে যাওয়ার মতো বড় হয়ে ওঠে না তখনও। মায়েরা খাবার নিয়ে এলে , তারা বাসায় বসেই মায়ের মুখ থেকে খাবার খায়। ওই সময় , টিয়ার ছানাদের ডাকে ভরে ওঠে অ্যামাজনের জঙ্গল। টিয়াদের কাছে এ এক অতি সুখের সময় হওয়ারই কথা। কিন্তু ওই আনন্দমুখর দিনগুলিতেই হঠাৎই শোকের ছায়া নামে অ্যামাজনের বনে। গাছে গাছে টিয়াদের বাসা থেকে এক এক করে উধাও হয়ে যেতে থাকে বাচ্চারা। টিয়া দম্পতিরা উড়ে উড়ে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়ায় তাদের। কিন্ত দেখা মেলে না আর। খাঁচাব ন্দী হয়ে , জঙ্গলের চোরাপথ দিয়ে , তারা পাচার হয়ে যায় বনের সীমানার বাইরে। এক অচেনা , অজানা ইঁট-কাঠের জঙ্গলে চিরকালের জন্য হারিয়ে যায় ওই নীল-সবুজ টিয়ার শিশুরা। মোঙ্গাবে-তে প্রকাশিত ডিমাস মা র্কে জ-এর   এ...