পোস্টগুলি

জুন, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ওরাংওটাংয়ের শরীরচর্চা

ছবি
  ইন্দোনেশিয়ায় বর্ণিওর গভীর বর্ষারণ্যে বাস কারে আমাদের এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় — ওরাঙ্গওটাং। প্রাণী জগতে মানুষের অতি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের মধ্যে তারা এক জন।   এখন তারা ঘোরতর বিপন্ন। এবং মানুষই তাদের বিলুপ্তির দোরগোড়ায় নিয়ে গিয়ে দাঁড় করিয়েছে। ওরাংওটাং এক বিস্মকর প্রাণী। তাদের ওজন বাড়েও না, কমেও না। শরীরের ওজন ধরে রাখতে তারা খাওয়া নিয়ন্ত্রণ ও দৌড়ঝাঁপের ওপর নির্ভর করে। পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তাদের জুড়ি মেলা ভার। জঙ্গলে খাদ্য প্রচুর পরিমাণে থাক বা ঘাটতি দেখা দিক , ওরাঙ্গওটাংরা তাদের শরীরের ওজন বজায় রাখতে পারে। বেশি খেয়ে তারা মোটা হয়ে যায় না , বা কম খেয়ে রোগা। স্বাস্থ্য ঠিক রাখার ব্যাপারে , আমরা ও রাং ওটাংদের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারি , বলছেন গবেষকরা। রাটগারইউনিভার্সিটির তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল ১৫ বছর ধরে বোর্র্নিওর জঙ্গলে ও রাং ওটাংদের নিয়ে গবেষণা করেন। তাঁরা দেখেন , সেখানকার ও রাং ওটাংরা অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়। যেমন , খাদ্যের জোগানের ওপর ভিত্তি করে ওরা ঠিক করে কতটা খাবে , আর সেই অনুযায়ী নির্ধারিত হয় তাদের কর্মকাণ্ড ও এনার্জির ব্যবহার। যখন জ...

ভয় পেয়েছে শিকারীরা

ছবি
  দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রেটার ক্রুগার ন্যাশনাল পার্ক ও ভারতের কাজিরাঙ্গা ন্যাশনাল পার্কের মধ্যে একটি বিশেষ মিল আছে। দুটিই সুরক্ষীত অরণ্য , কিন্তু দু ’ জায়গাতেই প্রাণীদের ভয়ের যথেষ্ট কারণ আছে। বিশেষ করে , ওই দুই অভয়ারণ্যে গ ন্ডা রদের খুবই ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়। মানুষের ভয়! কখন যে ও ৎ পেতে থাকা চোরা শিকারীরা তাদের হত্যা করে বসে , তার কোনও দিনক্ষণ বাঁধা নেই। বিশ্ব বাজারে গ ন্ডা রের শিং য়ের বিপুল চাহিদা রয়েছে আজও। কিছু বিশেষ ধরনের ওষুধ তৈরি করতে কাজে লাগে তাদের শিং। তাই শিকারীরা তাদের হত্যা করে শিং কেটে নিয়ে বিক্রি করে চোরা বাজারে। ক্রুগার ও কাজিরাঙ্গা , উভয় অভয়ারণ্যেই চলে ওই নৃশংস অবৈধ ব্যাবসা। তবে , ২০১৩ থেকে , ক্রুগারে , ও ২০১৬ থেকে কাজিরাঙ্গায় , শিকারীদের উপদ্রব কমেছে বলে জানা গেছে। ক্রুগারে এখন বন পাহারা দেয় ‘ ব্ল্যাক মাম্বা ’ । ব্ল্যাক মাম্বা হল আফ্রিকার এক প্রজাতির অত্যন্ত বিষধর সাপ। ওই অভয়ারণ্যের বাসিন্দাদের সুরক্ষা দিতে তৈরি হয়েছে একটি মেয়েদের বাহিনী। তার নাম রাখা হয়েছে ‘ ব্ল্যাক মাম্বা ’ । ২০১৩ থেকে ওই মেয়েরাই নজর রাখছেন শিকারীদের চলাফেরার ওপর। ফলে , বিশেষ সুবিধে করতে পারছে না ...

গাছের অস্ত্রই মানুষের ওষুধ

ছবি
  গাছেরা কি ভেবেচিন্তে , নিজেদের ভালমন্দ বুঝে কাজ করে ? প্রশ্নটা নির্বোধের মতো মনে হতে পারে। কারণ , গাছেদের তো মস্তিষ্ক নেই। তাদের পক্ষে তো মাথা খাটিয়ে কিছু করার প্রশ্নই ওঠে না! কিন্তু গাছেদের রকম-সকম দেখলে মনে হবে তাদের বুদ্ধি আছে। আত্মরক্ষার স্বার্থে , তারা নিজেদের শরীরে নানান ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে। উদ্দেশ্যটা হল জীবাণু , পোকামাকড়র , এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে গরু ছাগলদেরও দূরে রাখা। কিন্তু , সব গাছ একই পদার্থ তৈরি করে , এমন নয়। বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে আত্মরক্ষার জন্য রাসায়নিক পদার্থের ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। এমনকি আলাদা পরিবেশে বেড়ে ওঠা একই প্রজাতির গাছেদের মধ্যেও রাসায়নিক অস্ত্রশস্ত্রের রকমফের ঘটে। এর কারণ , সব প্রজাতির গাছের শত্রু এক নয়। কেউ কালো শুঁয়োপোকার আগমনে শিউরে ওঠে , হয় তো কেউ সবুজের আনাগোনায় প্রমাদ গোনে। বাংলার তেঁতুল গাছ হয়ত কোনও এক ধরনের জীবাণুকে আশকারা দিতে চায় না। আর তামিলনাডুতে সেই একই তেঁতুল গাছের প্রধান শত্রু হয়ত অন্য কোনও জীবাণু। অর্থাৎ , গাছেরা তাদের প্রয়োজন মতো অস্ত্র সানায়। তবে একথা বলা যায় যে , প্রতিটি উদ্ভিদই হল এক একটি রাসায়নিক কারখানা। যেখান...

ব্রহ্মাণ্ডের প্রথম আলো

ছবি
  টেলিস্কোপ এমনই একটি যন্ত্র যার সাহায্যে অনেক দূরের বস্তু দেখা যায়। আবার টেলিস্কোপকে একটি টাইম মেশিন বললেও ভুল বলা হবে না। তার মাধ্যমে আমরা কেবল দূরের জিনিসই দেখতে পাই , তা নয়। আমরা অনেক , অনেক কাল আগের অনেক কিছু দেখারও সুযোগ পাই টেলিস্কোপের চোখ দিয়ে। এক সময় যখন টাইম মেশিন বা সময়-যানের মত যন্ত্রের কথা লেখা হয়েছিল , তখন তা ছিল কল্পবিজ্ঞানের বিষয়। তাতে করে নাকি আমরা অতীত পাড়ি দিতে পারতাম। যেমন , চাইলে , আমরা রাজা রামমোহনের সঙ্গে দেখা করে আসতে পারতাম। আকবরের দরবারে তানসেনের সংগীতানুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মুগ্ধ হয়ে শোনার সুযোগ পেতাম তাঁর গলায় গাওয়া দরবারি কানাড়া। অথবা পূজোর সময় কয়েকদিন সপরিবারে ছুটি কাটাতে চলে যাওয়া যেত সেই সুদূর অতীতের মহেঞ্জোদারোয়! তবে , এখন কোনও আলাদা যন্ত্রের আর প্রয়োজন নেই। টেলিস্কোপই আমাদের অতীত ভ্রমণের সব ব্যবস্থা করে দিয়েছে। অতীতে পাড়ি দেওয়ার জন্য , মহাকাশে পাঠানো হাব্ল বা জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের সাহায্য নিতে পারলে তো কথাই নেই। কিন্তু , তা যদি নাগালের বাইরে হয় , তাহলেও অতীত দর্শন করা যে সম্ভব হবে না , তা নয়। দক্ষিণ আমেরিকার অ্যান্ডিজপাহাড়ে বসানো এক টেলিস্কোপের ...