ব্রহ্মাণ্ডের প্রথম আলো
টেলিস্কোপ
এমনই একটি যন্ত্র যার সাহায্যে অনেক দূরের বস্তু দেখা যায়। আবার টেলিস্কোপকে একটি
টাইম মেশিন বললেও ভুল বলা হবে না। তার মাধ্যমে আমরা কেবল দূরের জিনিসই দেখতে পাই, তা নয়। আমরা অনেক, অনেক কাল আগের অনেক কিছু দেখারও সুযোগ
পাই টেলিস্কোপের চোখ দিয়ে।
এক
সময় যখন টাইম মেশিন বা সময়-যানের মত যন্ত্রের কথা লেখা হয়েছিল, তখন তা ছিল কল্পবিজ্ঞানের বিষয়। তাতে
করে নাকি আমরা অতীত পাড়ি দিতে পারতাম। যেমন, চাইলে, আমরা রাজা রামমোহনের সঙ্গে দেখা করে
আসতে পারতাম। আকবরের দরবারে তানসেনের সংগীতানুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মুগ্ধ হয়ে শোনার
সুযোগ পেতাম তাঁর গলায় গাওয়া দরবারি কানাড়া। অথবা পূজোর সময় কয়েকদিন সপরিবারে ছুটি
কাটাতে চলে যাওয়া যেত সেই সুদূর অতীতের মহেঞ্জোদারোয়! তবে, এখন কোনও আলাদা যন্ত্রের আর প্রয়োজন
নেই। টেলিস্কোপই আমাদের অতীত ভ্রমণের সব ব্যবস্থা করে দিয়েছে।
অতীতে
পাড়ি দেওয়ার জন্য, মহাকাশে পাঠানো হাব্ল বা জেমস ওয়েব
টেলিস্কোপের সাহায্য নিতে পারলে তো কথাই নেই। কিন্তু, তা যদি নাগালের বাইরে হয়, তাহলেও অতীত দর্শন করা যে সম্ভব হবে না, তা নয়। দক্ষিণ আমেরিকার অ্যান্ডিজপাহাড়ে বসানো এক টেলিস্কোপের কাছে পৌঁছতে পারলেই দেখা যাবে অনেকটাই — এক গভীর অতীতের বিস্ময়কর সব দৃশ্য!
এই
প্রথম পৃথিবীর মাটিতে বসানো এক টেলিস্কোপের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন এই
ব্রহ্মাণ্ডের জন্মের কিছু কাল পরের সব ছবি। এক
প্রকাণ্ড
বিস্ফোরণের মধ্যে — যাকে বলা হয় বিগ ব্যাং — দিয়ে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি হয়ে ছিল ১৩০০ কোটি বছরেরও কিছু কাল আগে।
সেই মহাজাগতিক ভোরের ১০০ কোটি বছর পরের ছবি ধরা পড়েছে চিলির অ্যান্ডিজ পর্বতমালায়
অবস্থিত ক্লাস (সিএলএএসএস) পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের টেলিস্কোপে।
সেই
১৩০০ কোটি বছর আগের মহাবিস্ফোরণে যে বিপুল আলো সৃষ্টি হয়েছিল, তারই ক্ষীণ আভা দেখা গেছে ক্লাস’র দূরবীক্ষণ যন্ত্রে। পৃথিবীতে বসে, সেই আলো যে দেখা যেতে পারে, তেমন সম্ভাবনার কথা বিজ্ঞানীরা নিজেরাই
কোনও দিন ভাবতে পারেন নি। অর্থাৎ, ১৩০০
কোটি বছর আগে যে আলোয় আলোকিত হয়ে ছিল সদ্য সৃষ্ট ব্রহ্মাণ্ড, সেই গভীর অতীতের আলোক রশ্মির তরঙ্গ আজ
ধরা পড়েছে আকাশের দিকে চেয়ে থাকা অ্যান্ডিজের ওই টেলিস্কোপের চোখে।
ছবি: উইকিপিডিয়া কমন্স

Awesome. Dr Kajjal Chatterjee
ReplyDelete