গাছেরা কি দেখতে পায়

 


লতানে গাছেদের কাণ্ডকাখানা দেখলে মনে হবে তারা বোধহয় দেখতে পায়। তাদের হয়ত দৃষ্টিশক্তি আছে। তা না হলে, তারা শুঁড় বার করে মাচার বাঁশ, গাছের ডাল, বা যে কোনও সরু, শক্ত, লম্বা বস্তুকে প্যাঁচিয়ে ধরে কী করে? ধরার আগে তো কোন দিকে শুঁড় বাড়ালে সেই রকম এক বস্তুর নাগাল পাওয়া যাবে, তা স্থির করতে হবে। তা ওরা তো স্থির করতে পারে। যে দিকেই থাকে ভর দেওয়ার মতো শক্ত কিছু, সেই দিকেই তাদের ল্যাকপ্যাকে ডাল থেকে বেরিয়ে আসা সরু সরু সুতোর মতো শুঁড় বা আঁকড়া (ইংরেজিতে যাকে বলে টেন্ড্রিল) প্রতিদিন আস্তে আস্তে এগোতে থাকে। তারপর সেটি নাগালের মধ্য এলেই সেটিকে পেঁচিয়ে ধরে শক্ত করে। কিন্তু এ কথাও তো ঠিক, গাছের কোনও চোখ নেই। তবুও ঠিক দিকেই আঁকড়া এগিয়ে দিতে সক্ষম হয় তারা।

ছবিতে তেমনই এক লতানে গাছকে দেখা যাচ্ছে। অতি সাধারণ, আমাদের অনেকেরই চেনা উচ্ছে গাছ। স্প্রিঙ্গ জিনিসটার সঙ্গে আমরা পরিচিত। টানলে লম্বা হয়। ছেড়ে দিলে আবার নিজের জায়গায় ফিরে যায়। আমাদের উচ্ছে গাছটিও, নিজের তন্তু ও কোষ দিয়ে তৈরি করেছে বেশ কয়েকটি নিখুঁত স্প্রিঙ্গ। ঠিক যেমনটি আমরা যন্ত্রংশ হিসেবে ব্যবহার করি নানা ক্ষেত্রে। কিন্তু কথা হলো, উচ্ছে গাছ স্প্রিঙ্গ তৈরি করেছে কেন? ওই স্প্রিঙ্গ কী কাজে লাগবে তার?

সম্ভবত, সাবধানতা অবলম্বন করার জন্য সে স্প্রিঙ্গ তৈরি করেছে। যদি জোরে হাওয়া চলে, যদি কোনও কারণে হেলে বা ঝুলে যায় তার সহায়ক খুঁটি, তা হলে তার আঁকড়ার ওপর টান পড়লেও, সেটি ছিড়বে না। টান পড়লেও, স্প্রিঙ্গটি লম্বা হয়ে গিয়ে সেই টানের চাপ সামলে নিতে সাহায্য করবে।

আবার, ওই স্প্রিঙ্গগুলি থেকে এও বোঝা যায় যে, খুঁটি ধরতে যতটা লম্বা আঁকড়ার প্রয়োজন, তার চেয়ে অনেকটা বড় আঁকড়াই তৈরি করেছে উচ্ছে গাছটি। কিন্তু বড় হলে কী হবে, গাছটি বাড়তি অংশটিকে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে স্প্রিঙ্গে পরিণত করেছে যাতে আঁকড়াটি ঝুলে পড়ার বদলে টান টান থাকে। আর প্রয়োজন দেখা দিলে, স্প্রিঙ্গের সাহায্যে সেটির অতিরিক্ত দৈর্ঘকে কাজে লাগানো যায়।

অর্থাৎ, নিজের বিস্তারকে নিশ্চিত করতে, উচ্ছে গাছটি বেশ হিসেব নিকেশ করেই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এমনটা মনে করা হয়ত ভুল হবে না।

অনীশ গুপ্ত

ছবি: অনীশ গুপ্ত  

 

 

 

Comments

Popular posts from this blog

জল - চাহিদা বড়ছে, যোগান কমছে

এক চিলতে বাগানে হাজারও প্রাণীর বাস