Posts

গাছের অস্ত্র, মানুষের ওষুধ

Image
  গাছেরা কি ভেবেচিন্তে , নিজেদের ভালমন্দ বুঝে কাজ করে ? প্রশ্নটা নির্বোধের মতো মনে হতে পারে। কারণ , গাছেদের তো মস্তিষ্ক নেই। তাদের পক্ষে তো মাথা খাটিয়ে কিছু করার প্রশ্নই ওঠে না! কিন্তু গাছেদের রকম-সকম দেখলে মনে হবে তাদের বুদ্ধি আছে। আত্মরক্ষার স্বার্থে , তারা নিজেদের শরীরে নানান ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে। উদ্দেশ্যটা হল জীবাণু , পোকামাকড়র , এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে গরু ছাগলদেরও দূরে রাখা। কিন্তু , সব গাছ একই পদার্থ তৈরি করে , এমন নয়। বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে আত্মরক্ষার জন্য রাসায়নিক পদার্থের ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। এমনকি আলাদা পরিবেশে বেড়ে ওঠা একই প্রজাতির গাছেদের মধ্যেও রাসায়নিক অস্ত্রশস্ত্রের রকমফের ঘটে। এর কারণ , সব প্রজাতির গাছের শত্রু এক নয়। কেউ কালো শুঁয়োপোকার আগমনে শিউরে ওঠে , হয় তো কেউ সবুজের আনাগোনায় প্রমাদ গোনে। বাংলার তেঁতুল গাছ হয়ত কোনও এক ধরনের জীবাণুকে আশকারা দিতে চায় না। আর তামিলনাডুতে সেই একই তেঁতুল গাছের প্রধান শত্রু হয়ত অন্য কোনও জীবাণু। অর্থাৎ , গাছেরা তাদের প্রয়োজন মতো অস্ত্র সানায়। তবে একথা বলা যায় যে , প্রতিটি উদ্ভিদই হল এক একটি রাসায়নিক কারখানা। যেখান...

ব্রহ্মাণ্ডের প্রথম আলো

Image
  টেলিস্কোপ এমনই একটি যন্ত্র যার সাহায্যে অনেক দূরের বস্তু দেখা যায়। আবার টেলিস্কোপকে একটি টাইম মেশিন বললেও ভুল বলা হবে না। তার মাধ্যমে আমরা কেবল দূরের জিনিসই দেখতে পাই , তা নয়। আমরা অনেক , অনেক কাল আগের অনেক কিছু দেখারও সুযোগ পাই টেলিস্কোপের চোখ দিয়ে। এক সময় যখন টাইম মেশিন বা সময়-যানের মত যন্ত্রের কথা লেখা হয়েছিল , তখন তা ছিল কল্পবিজ্ঞানের বিষয়। তাতে করে নাকি আমরা অতীত পাড়ি দিতে পারতাম। যেমন , চাইলে , আমরা রাজা রামমোহনের সঙ্গে দেখা করে আসতে পারতাম। আকবরের দরবারে তানসেনের সংগীতানুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মুগ্ধ হয়ে শোনার সুযোগ পেতাম তাঁর গলায় গাওয়া দরবারি কানাড়া। অথবা পূজোর সময় কয়েকদিন সপরিবারে ছুটি কাটাতে চলে যাওয়া যেত সেই সুদূর অতীতের মহেঞ্জোদারোয়! তবে , এখন কোনও আলাদা যন্ত্রের আর প্রয়োজন নেই। টেলিস্কোপই আমাদের অতীত ভ্রমণের সব ব্যবস্থা করে দিয়েছে। অতীতে পাড়ি দেওয়ার জন্য , মহাকাশে পাঠানো হাব্ল বা জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের সাহায্য নিতে পারলে তো কথাই নেই। কিন্তু , তা যদি নাগালের বাইরে হয় , তাহলেও অতীত দর্শন করা যে সম্ভব হবে না , তা নয়। দক্ষিণ আমেরিকার অ্যান্ডিজপাহাড়ে বসানো এক টেলিস্কোপের ...

একশো বছর আগে ও পরে

Image
  একশো বছর আগে যা ঘটে ছিল , তার ফল ভোগ করতে হচ্ছে আজ। উত্তর মেরুর সাদা ভালুক ও ডলফিন প্রজাতির প্রাণীদের রক্তে অতিমাত্রায় মার্কারি বা পারদ পাওয়া যাচ্ছে। পারদ অত্যন্ত ক্ষতিকর পদার্থ বলে মনে করা হয়। শরীরে তার মাত্রা সহনশীল সীমা ছাড়িয়ে গেলে , ওই পদার্থ মস্তিষ্ক ও স্না য়ুতন্ত্রের বিশেষ ক্ষতি করতে পারে। সাদা ভালুক ও ডলফিনদের শরীরে তার মাত্রা আগের তুলনায় এখন ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি। মনে করা হচ্ছে , মেরু মহাসাগরের জলে যে পারদ আজ মিশে আছে এবং সাদা ভালুক ও ডলফিনদের শরীরে প্রবেশ করছে , তা একশ বছর আগে মানুষের কাজের ফল। বিগত শতাব্দীর শুরু থেকে , বাষ্প-চালিত ইঞ্জিন আর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিপুল পরিমাণ কয়লা পোড়ানো হত। সেই কালো কয়লা-পোড়া ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ত। তার মধ্যে , আরও অনেক পদার্থের সঙ্গে , মিশে থাকত পারদ। আজও থাকে। কয়েক বছর ধরে হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে , সেই পারদের ক্ষুদ্র কণা নীচে নামতে নামতে , এক সময় সমুদ্রের জলে গিয়ে মিশে যেত। কিন্তু মেরু অঞ্চলে তো কলকারখানা নেই , যে কয়লার ধোঁয়া থেকে পারদ মিশবে সমুদ্রের জলে। সেটাই প্রকৃতির আশ্চর্য নিয়ম। সে কোনও সীমানা মানে না — ...

জিনের জাদু মানুষের শরীরে

Image
  প্রতিকূল পরিবেশ যে মানুষের শরীরকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে , কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা আমরা দেখতে পাই। বা ঘুরিয়ে বলা যেতে পারে যে , মানুষের শরীর পরিবেশের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য নিজের মধ্যে কিছু পরিবর্তন ঘটায়। তা না হলে , সেই সব অবস্থায় টিকে থাকা সম্ভব হতো না মানুষের পক্ষে। সম্প্রতিআফ্রিকার একটি অঞ্চলের কথা জানা গেছে। কেনিয়ার উত্তরে অবস্থিত ওই এলাকা হলো অত্যন্ত রুক্ষ , শুষ্ক অঞ্চল। ফলে , সেখানে জলের খুব অভাব। সেখানে বাস করেন এক যাযাবর জনজাতি। প্রবল জলসঙ্কটের মধ্যেই দিন কাটে তাঁদের। কিন্তু সেই জায়গা ছেড়ে অন্যত্র কোথাও , যেখানে সহজে জল মেলে , সেখানে চলে যাননি তাঁরা। কেনিয়ার ওই জায়গাটির নাম টুরকানা। ওই জনগোষ্ঠী (ছবি) টুরকানা নামেই পরিচিত। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কেনিয়ার গবেষকরা দেখেন যে , ওই জনজাতির মানুষেরা খুব কম পরিমাণ জল পান করা সত্ত্বেও জলাভাব দেখা দেয় না তাঁদের শরীরে। এক দিকে তাঁরা কম জল খান , আর অন্য দিকে তাঁদের আহারের একটা বড়ো অংশ জুড়ে থাকে প্রোটিন। সাধারণভাবে , গবেষকরা বলেন , এই অবস্থায় মানুষের কিডনি আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে খুব বেশি। অথচ , টুরকানা জ...

ভালো হরমোন বাড়ায় কুকুর, বেড়াল

Image
অনেকে বলেন , বাড়িতে কুকুর থাকলে মানুষের মন ও শরীর দুইই ভালো থাকে। তা সে দেশি বা বিদেশি , যাই হোক না কেন। কিন্তু তাঁদের ওই ধারণা ও আচরণের সত্যিই কি কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে ? নাকি তা নেহাতই আবেগতাড়িত ভাবনা ? নেকড়ে থেকে কুকুর এসেছে , এটাই প্রতিষ্ঠিত ধারণা। কিন্তু মানুষের সঙ্গে তাদের আচরণের ক্ষেত্রে নেকড়ে আর কুকুরের মধ্যে মিল পাওয়া ভার। কুকুর মানুষের সঙ্গে চোখে মুখে কথা বলে। বাড়িরই হোক বা রাস্তার , তারা মানুষের আদর , ভালবাসা পেতে উদ্‌গ্রীব। ওদের গায়ে মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে হঠাৎ থেমে গেলে , পা নেড়ে ইশারা করে বলে , “ থেমো না , আরও চাই। ” নেকড়ে মানুষের চোখের দিকেই তাকায় না। ‘ সায়েন্টিফিক আমেরিকান ’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি লেখা থেকে জানা যাচ্ছে যে , কুকুরের ও মানুষের ভালোবাসার সম্পর্ক উভয়েরই উপকার করে। দেখা গেছে , চেনা কুকুরের সঙ্গে সময় কাটালে মানুষ ও কুকুরের শরীরে ‘ বেটা-এন্ডোরফিন ’, ‘ অক্সিটোসিন ’ ও ‘ ডোপামিন ’- এর মতো জরুরি হরমোনের মাত্রা উভয়ের মধ্যেই বেড়ে যায়। এগুলি ¯œ স্নায়ুতন্ত্রের ওপর কাজ করে , এবং ইতিবাচক অনুভূতি ও মানসিক বন্ধন সৃষ্টি করে। কিন্তু কোনও ব্যক্তি যখন তাঁর পোষ্যটির...

হুমকির মুখে ধান-চাল, মানুষও

Image
  চালের ওপর নির্ভর করে কয়েকশো কোটি মানুষের জীবন। চাল থেকে তৈরি নানা খাবারই তাদের প্রধান খাদ্য। কিন্তু দেখা যাচ্ছে , সেই চালের উৎপাদন কমছে। এবং উৎপাদন কমার মূল কারণ হল অতি বৃষ্টি। ধান থেকে চাল হয়। এবং যে সব দেশে ব্যাপক হারে ধান চাষের চলন আছে , সেই সব দেশে বৃষ্টিও হয় যথেষ্ট। পর্যাপ্ত পরিমাণ বৃষ্টির জল পেলে , ধানের ফলন হয় ভালো। কিন্তু অতিবৃষ্টি ধান গাছ নষ্ট করে দিতে পারে। মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে , ২০০০ সাল থেকে , ধান চাষ-করা বিভিন্ন দেশে ঘনঘন বন্যা দেখা দেওয়ায় , ধানের ক্ষতি বছরে বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এবং গবেষকরা দেখছেন যে , আগামী দিনে জলবায়ু পরিবর্তন যত তীব্র হবে , ধান চষের ক্ষতি হবে তত বেশি। গবেষকরা বলছেন , এত দিন , বিজ্ঞানী ও কৃষক উভয়েরই নজর থেকেছে অনাবৃষ্টির ওপর। কারণ , অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ধানের ফলন ব্যাহত করে। তাঁরা বলছেন , এখন , অনাবৃষ্টির সঙ্গে অতিবৃষ্টির ওপরও নজর রাখতে হবে। কারণ , বেশি বৃষ্টিপাতও ধান গাছকে মেরে দেয়। এবং দিচ্ছে। গবেষকরা বলছেন , ধান গাছ যদি এক সপ্তাহ টানা জলের তলায় ডুবে থাকে , তাহলে তার মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে প...