পোস্টগুলি

নিরামিষ কি ভালো রাখে কুকুর, বেড়ালকে

ছবি
অনেকের মনে এই প্রশ্নটা উঁকি দেয় — কুকুর ও বেড়াল কি একেবারে নিরামিষ খাবার খেয়ে সুস্থ সবল হয়ে বেঁচে থাকতে পারে ? কুকুর এসেছে নেকড়ে থেকে আর বেড়াল এক সহজাত শিকারি। মাংস মাছ ছাড়া তাদের পক্ষে কি ভালো থাকা সম্ভব ? ভারতে অনেক সম্পূর্ণ নিরামিষাশী পরিবারেও পোষ্য কুকুর থাকে। তারা তো নিরামিষ খাবারই খায়। এবং সুস্থ থাকে বলেই মনে হয়। কুকুর বেড়ালের প্যাকেট খাবার দোকানে কিনতে পাওয়া যায়। তার সিংহভাগই আমিষ খাবার। কিন্তু প্যাকেটজাত নিরামিষ খাবারের বাজারও দিন দিন বড় হচ্ছে। আর্থ.কম-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে , পোষ্যদের জন্য নিরামিষ খাবার প্রস্তুত করার যে শিল্প গড়ে উঠেছে , ২০২৪ সালে তার অর্থমূল্য ছিল ২৭ বিলিয়ন (২৭০ কোটি) মার্কিন ডলার। এবং ওই লেখায় অনুমান করা হয় , আরও দশ বছরের মধ্যে তা দ্বিগুণের চেয়ে বেশি হয়ে যাবে। তার মানে , কুকুর বেড়ালের জন্য নিরামিষ খাবার তৈরির শিল্প ক্রমশ বড়ো হয়ে উঠছে। এবং তা থেকে এটাও মনে করা যেতে পারে যে , সেই খাবার খেয়ে ওই পোষ্যরা ভালোই আছে।   গবেষণা কী বলছে , তা জানতে ৩১টি গবেষণা পত্রের সিদ্ধান্ত খুঁটিয়ে দেখা হয়। কাজটি করেন অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিট...

ভাব বিনিময় করে কি প্রাণীরা

ছবি
প্রাণীরা কি একে অপরের সঙ্গে ভাব বিনিময় করে ? এই ধরা যাক কিছু কাজের কথা। যেমন , কোথায় খাবার পাওয়া যাবে , পরজীবিদের শায়েস্তা করা যায় কী ভাবে , বিপদ থেকে বাঁচার উপায় আছে নাকি কিছু ? বিজ্ঞানীরা এত দিন মনে করতেন যে , একই প্রজাতির প্রাণীরা নিজেদের মধ্যে ভাব আদান-প্রদান করে থাকে। কুকুর কুকুরের সঙ্গে। বেড়াল বেড়ালের সঙ্গে। হাতি আর পাঁচটা হাতির সঙ্গে। প্যাঁচা প্যাঁচানীর   সঙ্গে। তাঁরা এখন বলছেন , না। সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর মধ্যেও আলাপ-আলোচনা হয়ে থাকে , তাদের নিজস্ব ভাষায়। যেমন , বক আর কুমিরের মধ্যে , বা বেজি আর বুনো শুয়োরের মধ্যে। এমন কী মানুষের সঙ্গে পোষ্য ও বন্য প্রাণীরও। এবং বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীদের মধ্যে নিজেদের ভাষায় এই ভাব বিনিময় , প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এমনটাই অভিমত বিজ্ঞানীদের। আফ্রিকায় এক প্রজাতির পাখি আছে যারা মৌলেদের সঙ্গে কথা বলে। যখনই তারা মধু-ভরা মৌচাকের সন্ধান পায় , তখনই গ্রামের কাছে উড়ে এসে এক বিশেষ স্বরে ডাকতে থাকে। সেই ডাকের মানে গ্রামবাসীরা বোঝেন। মৌচাকের সন্ধান পেয়েছে পাখিরা। ওরা উড়তে উড়তে পথ দেখিয়ে নিয়ে যায় মধুকরদের। চাক ভা...

সজীব, সবুজ, সে অন্য এক সাহারা

ছবি
  তাস্সেলিতে পাথরের গায়ে জিরাফের ছবি আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়া। আলজেরিয়াই আফ্রিকার বৃহত্তম দেশ। এবং সে দেশেই আছে আফ্রিকার সব চেয়ে বড়ো জাতীয় উদ্যান , তাস্সিলি নাজ্জের। আলজেরিয়ার দক্ষিণ ভাগ জুড়ে রয়েছে সাহারা মরুভূমি। ওই জাতীয় উদ্যান ছড়িয়ে আছে সাহারার একটা অংশ জুড়ে। এই উদ্যানের বৈশিষ্ট্য হল , এখানে আছে প্রকা ন্ড সব বালি - পাথরের চাঁই। যার অনেক গুলোই টিলার মতো ব ড় । প্রকৃতির এই অদ্ভুত সৃষ্টি সেখানকার এক বড় আকর্ষণ। তবে অনেকে বলেন , দূরদূরান্তে ছড়ানো ওই টিলাগুলি হল বিশ্বের বৃহত্তম আর্ট মিউজিয়ামের প্রদর্শনী গ্যালারি। কারণ , পাথরের চাঁইগুলির দেওয়ালে দেওয়ালে আঁকা আছে অজ স্র ছবি। প্রায় ১৫ , ০০০ প্রাচীন , প্রাগৈতিহাসিক সব দেওয়াল চিত্র রয়েছে সেখানে। বেশ কিছু প্রায় ১১ , ০০০ বছর পুরোনো। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বয়স মাপার প্রযুক্তি ব্যবহার করে তেমনটাই জানা গেছে। তবে ছবিগুলিতে সে কালের মানুষ যা এঁকে ছিলেন , তার সঙ্গে আজকের মরুপ্রান্তেরের কোনও মিল নেই। বরং ছবিতে দেখা যাচ্ছে সাভানা ঘাসের বিস্তার। বিচরণরত হাতি , জিরাফ , গন্ডার , জলহস্তী। আজকের রুক্ষ , শুষ্ক তাস্সিলি নাজ্জের-এর তপ্ত বালিয়াড়ির সঙ্গে অ...

মরুবিজয়ের কেতন উড়ছে সোনার কেল্লায়

ছবি
  পালটে যাচ্ছে সোনার কেল্লার দেশ, রাজস্থান। মরু্ভূমি, ঝলসানো গরম, হাড়কাঁপানো শীত, আর মাত্র ছিটেফোঁটা বৃষ্টি - এই ছিল ওই রাজ্যে বৈশিষ্ট্য। এখন সেখানে গরমও আছে। শীতের মরসুমে এখনও   হাড় কাঁপে কোথাও কোথাও। কিন্তু ছিটেফোঁটার বদলে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হয় অনেক জায়গায়। আর মরুভূমি ক্রমশ হয়ে উঠছে সবুজ। ডাউন টু আর্থ-এর একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে , রাজস্থানের পশ্চিম অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্যাটার্ন ও জমির চেহারা বদলে যাচ্ছে। আর সেই সঙ্গে বদলাচ্ছে সেখানকার মানুষের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য। ওই রাজ্যের পশ্চিমের ১২ জেলায় বাস করেন ২.৭ কোটি মানুষ (২০১১-র জনগণনা) ও ২.৬ গৃহপালিত পশু (২০১৯-র পশু গণনা)। পৃথিবীর কোনও মরু অঞ্চলে এত মানুষের বাস নেই। ওই রাজ্যে প্রায় অর্ধেক এলাকাজুড়ে রয়েছে বালিয়াড়ি। এখানে বৃষ্টি কম হয়। দু ’ তিন বছর অন্তর দেখা দিত খরা। কিন্তু এখন সেখানে আগের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। কখনও কখনও এত বৃষ্টি হচ্ছে যে দেখা দিচ্ছে বন্যা। সেচের ব্যবস্থা প্রসারিত হয়ে চলেছে। চাষের জমি বাড়ছে , গাছগাছালি এখন অনেক বেশি চোখে পড়ে। খরা আর তেমন ঘনঘন দেখা দিচ্ছে না। ‘ আঁধি ’ বা ধুলর ঝড়ের প্রকোপও কমেছে। আ...

টানা পাঁচ বছর আকাশেই থাকে অ্যালবাট্রস

ছবি
অ্যালবাট্রস এক বিস্ময়কর পাখি। অনেক পেঙ্গুইনের মতো তারা কুমেরুতে বাস করে। ন ’ মাস বয়স হলেই অ্যালবাট্রসের বাচ্চারা প্রথমবার ডানা মেলে উড়ে যায়। ডানা ঝাপটিয়ে , হাওয়ায় ভর করে , একটু একটু করে ওপরে উঠতে থাকে তারা। তারপর একবার উন্মুক্ত আকাশের স্বাদ পেলে , সেখান থেকে আর শক্ত মাটিতে পা রাখে না তারা। অন্তত পাঁচ বছর। আকাশই তাদের আস্তানা হয়ে ওঠে। সায়েন্স হিস্ট্রি ইনস্টিটিউট মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরি ’ র একটি লেখা থেকে সে কথাই জানা গেছে। বাতাসের নানা স্তরে , নানা গতিতে বহমান হওয়ায় ভর করে ভেসে বেড়ায় তারা। একটু আধটু ডানা নেড়ে , ওপর-নীচ করে , এই মাত্র। ওই ভাবে , হাওয়ার সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে বছরে দু ’ তিনবার কুমেরুকে প্রদক্ষিণ করে নেয় তারা। যা করার মধ্যে দিয়ে প্রায় ৭৫ , ০০০ আকাশপথ অতিক্রম করে অ্যা লবা ট্রসরা। আকাশে একটানা উড়ে বেড়ানর সময় ওরা খায় কী ? হাওয়া খেয়ে তো আর বেঁচে থাকা যায় না! তাদের আহার করাটাও এক বিস্ময়কর ব্যাপার। অল্পবয়সী অ্যালবাট্রসরা এক অতি প্রখর ঘ্রাণশক্তি নিয়ে আকাশে ওড়ে। ১২ মাইল বা প্রায় ২০ কিমি দূরে , সমুদ্রের জলের তলায় তাদের পছন্দের শিকারকে তারা শনাক্ত করতে পারে। সেই দিকে তারা এগিয়ে ...

মহাশূন্যে বদলে যায় খাবারের স্বাদ

ছবি
  ধরুন আপনি মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশ্যে , এক মহাকাশ যানে করে , কাচের জানালার বাইরে গ্রহ নক্ষত্র দেখতে দেখতে চলেছেন। এমন দিন হয়ত একদিন আসবে যখন , দিল্লি , মুম্বাই , চেন্নাই , বেঙ্গালুরু , কলকাতা বা হায়েদ্রাবাদ যাওয়ার মতোই আমরা কাজের সূত্রে মঙ্গলের কোনও এক শহরে যাব। তবে , আপনার মহাকাশ যান যতই দ্রুতগামী হোক না কেন , মঙ্গলে পৌঁছতে কয়েক দিন সময় লাগবে। ফলে , আপনার যানে , আরামে সময় কাটানোর সব সুবন্দোবস্ত থাকবে। যার মধ্যে অবশ্যই থাকবে ভাল , সুস্বাদু খাবারের আয়জন । আপনি যখন জানলা দিয়ে মহাকাশের শোভা দেখতে ব্যস্ত , তখনই এক সময় হয়ত আপনার যানের সুসজ্জিত ভোজোনালয়ে গিয়ে ১৩:৩০-এর আহার সেরে নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হবে আপনাকে। মহাকাশে দিন বা রাত বোঝার উপায় নেই। তাই ঘণ্টা হিসেব করেই সব কিছু করতে হয়। নানা ধরনের সাজানো খাবার থেকে একটু একটু নিয়ে থালায় সাজিয়ে আপনি খেতে বসলেন। আর আপনার পদগুলি জিভে ঠেকাতেই , আপনার মুখ ব্যাজার হয়ে উঠল। চেনা সুস্বাদু খাবার বিস্বাদ ঠেকছে! কোনওটার আবার স্বাদ গেছে পাল্টে। বিরিয়ানি যেন হয়ে গেছে হবিষ্যি। আইসক্রিম , কিটকিটে মিষ্টি। এমনটা হবে আপনি ভাবেননি। আপনার প্রথম যাত্রার , প...