Posts

একশো বছর আগে ও পরে

Image
  একশো বছর আগে যা ঘটে ছিল , তার ফল ভোগ করতে হচ্ছে আজ। উত্তর মেরুর সাদা ভালুক ও ডলফিন প্রজাতির প্রাণীদের রক্তে অতিমাত্রায় মার্কারি বা পারদ পাওয়া যাচ্ছে। পারদ অত্যন্ত ক্ষতিকর পদার্থ বলে মনে করা হয়। শরীরে তার মাত্রা সহনশীল সীমা ছাড়িয়ে গেলে , ওই পদার্থ মস্তিষ্ক ও স্না য়ুতন্ত্রের বিশেষ ক্ষতি করতে পারে। সাদা ভালুক ও ডলফিনদের শরীরে তার মাত্রা আগের তুলনায় এখন ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি। মনে করা হচ্ছে , মেরু মহাসাগরের জলে যে পারদ আজ মিশে আছে এবং সাদা ভালুক ও ডলফিনদের শরীরে প্রবেশ করছে , তা একশ বছর আগে মানুষের কাজের ফল। বিগত শতাব্দীর শুরু থেকে , বাষ্প-চালিত ইঞ্জিন আর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিপুল পরিমাণ কয়লা পোড়ানো হত। সেই কালো কয়লা-পোড়া ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ত। তার মধ্যে , আরও অনেক পদার্থের সঙ্গে , মিশে থাকত পারদ। আজও থাকে। কয়েক বছর ধরে হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে , সেই পারদের ক্ষুদ্র কণা নীচে নামতে নামতে , এক সময় সমুদ্রের জলে গিয়ে মিশে যেত। কিন্তু মেরু অঞ্চলে তো কলকারখানা নেই , যে কয়লার ধোঁয়া থেকে পারদ মিশবে সমুদ্রের জলে। সেটাই প্রকৃতির আশ্চর্য নিয়ম। সে কোনও সীমানা মানে না — ...

জিনের জাদু মানুষের শরীরে

Image
  প্রতিকূল পরিবেশ যে মানুষের শরীরকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে , কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা আমরা দেখতে পাই। বা ঘুরিয়ে বলা যেতে পারে যে , মানুষের শরীর পরিবেশের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য নিজের মধ্যে কিছু পরিবর্তন ঘটায়। তা না হলে , সেই সব অবস্থায় টিকে থাকা সম্ভব হতো না মানুষের পক্ষে। সম্প্রতিআফ্রিকার একটি অঞ্চলের কথা জানা গেছে। কেনিয়ার উত্তরে অবস্থিত ওই এলাকা হলো অত্যন্ত রুক্ষ , শুষ্ক অঞ্চল। ফলে , সেখানে জলের খুব অভাব। সেখানে বাস করেন এক যাযাবর জনজাতি। প্রবল জলসঙ্কটের মধ্যেই দিন কাটে তাঁদের। কিন্তু সেই জায়গা ছেড়ে অন্যত্র কোথাও , যেখানে সহজে জল মেলে , সেখানে চলে যাননি তাঁরা। কেনিয়ার ওই জায়গাটির নাম টুরকানা। ওই জনগোষ্ঠী (ছবি) টুরকানা নামেই পরিচিত। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কেনিয়ার গবেষকরা দেখেন যে , ওই জনজাতির মানুষেরা খুব কম পরিমাণ জল পান করা সত্ত্বেও জলাভাব দেখা দেয় না তাঁদের শরীরে। এক দিকে তাঁরা কম জল খান , আর অন্য দিকে তাঁদের আহারের একটা বড়ো অংশ জুড়ে থাকে প্রোটিন। সাধারণভাবে , গবেষকরা বলেন , এই অবস্থায় মানুষের কিডনি আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে খুব বেশি। অথচ , টুরকানা জ...

ভালো হরমোন বাড়ায় কুকুর, বেড়াল

Image
অনেকে বলেন , বাড়িতে কুকুর থাকলে মানুষের মন ও শরীর দুইই ভালো থাকে। তা সে দেশি বা বিদেশি , যাই হোক না কেন। কিন্তু তাঁদের ওই ধারণা ও আচরণের সত্যিই কি কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে ? নাকি তা নেহাতই আবেগতাড়িত ভাবনা ? নেকড়ে থেকে কুকুর এসেছে , এটাই প্রতিষ্ঠিত ধারণা। কিন্তু মানুষের সঙ্গে তাদের আচরণের ক্ষেত্রে নেকড়ে আর কুকুরের মধ্যে মিল পাওয়া ভার। কুকুর মানুষের সঙ্গে চোখে মুখে কথা বলে। বাড়িরই হোক বা রাস্তার , তারা মানুষের আদর , ভালবাসা পেতে উদ্‌গ্রীব। ওদের গায়ে মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে হঠাৎ থেমে গেলে , পা নেড়ে ইশারা করে বলে , “ থেমো না , আরও চাই। ” নেকড়ে মানুষের চোখের দিকেই তাকায় না। ‘ সায়েন্টিফিক আমেরিকান ’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি লেখা থেকে জানা যাচ্ছে যে , কুকুরের ও মানুষের ভালোবাসার সম্পর্ক উভয়েরই উপকার করে। দেখা গেছে , চেনা কুকুরের সঙ্গে সময় কাটালে মানুষ ও কুকুরের শরীরে ‘ বেটা-এন্ডোরফিন ’, ‘ অক্সিটোসিন ’ ও ‘ ডোপামিন ’- এর মতো জরুরি হরমোনের মাত্রা উভয়ের মধ্যেই বেড়ে যায়। এগুলি ¯œ স্নায়ুতন্ত্রের ওপর কাজ করে , এবং ইতিবাচক অনুভূতি ও মানসিক বন্ধন সৃষ্টি করে। কিন্তু কোনও ব্যক্তি যখন তাঁর পোষ্যটির...

হুমকির মুখে ধান-চাল, মানুষও

Image
  চালের ওপর নির্ভর করে কয়েকশো কোটি মানুষের জীবন। চাল থেকে তৈরি নানা খাবারই তাদের প্রধান খাদ্য। কিন্তু দেখা যাচ্ছে , সেই চালের উৎপাদন কমছে। এবং উৎপাদন কমার মূল কারণ হল অতি বৃষ্টি। ধান থেকে চাল হয়। এবং যে সব দেশে ব্যাপক হারে ধান চাষের চলন আছে , সেই সব দেশে বৃষ্টিও হয় যথেষ্ট। পর্যাপ্ত পরিমাণ বৃষ্টির জল পেলে , ধানের ফলন হয় ভালো। কিন্তু অতিবৃষ্টি ধান গাছ নষ্ট করে দিতে পারে। মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে , ২০০০ সাল থেকে , ধান চাষ-করা বিভিন্ন দেশে ঘনঘন বন্যা দেখা দেওয়ায় , ধানের ক্ষতি বছরে বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এবং গবেষকরা দেখছেন যে , আগামী দিনে জলবায়ু পরিবর্তন যত তীব্র হবে , ধান চষের ক্ষতি হবে তত বেশি। গবেষকরা বলছেন , এত দিন , বিজ্ঞানী ও কৃষক উভয়েরই নজর থেকেছে অনাবৃষ্টির ওপর। কারণ , অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ধানের ফলন ব্যাহত করে। তাঁরা বলছেন , এখন , অনাবৃষ্টির সঙ্গে অতিবৃষ্টির ওপরও নজর রাখতে হবে। কারণ , বেশি বৃষ্টিপাতও ধান গাছকে মেরে দেয়। এবং দিচ্ছে। গবেষকরা বলছেন , ধান গাছ যদি এক সপ্তাহ টানা জলের তলায় ডুবে থাকে , তাহলে তার মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে প...

পৃথিবীর ভেতর আরও এক পৃথিবী

Image
  বিস্কুট খাচ্ছে কাঠবেড়ালি মানুষ কি সব পালটে দিচ্ছে ? প্রকৃতি র সৃষ্টি করা পৃথিবীর মধ্যে তারা কি গড়ে তুলছে আরও এক পৃথিবী ? এক সময় , প্রকৃতিই ঠিক করত কে কেমন হবে , কে কী খাবে , কে কোথায় থাকবে। বিবর্তন নামক এক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে , সেইই সব ব্যবস্থা করত। সবার সঙ্গে সবার বন্ধন , পৃথিবীজুড়ে প্রাণীদের মধ্যে এক সুস্থায়ী ভারসাম্য , এ সবই নিশ্চিত করত সে। এমনকি মানুষও তার নিয়মের অধীনে ছিল এক কালে। কিন্তু এখন যেন বিবর্তনের ধারাটা মানুষই নির্ধারণ করছে। দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়ে , সেই এখন ঠিক করছে কে কোথায় থাকবে , কে কি খাবে , কে টিকে থাকবে , আর কেইবা মুছে যাবে এই গ্রহের বুক থেকে। নিজের অজান্তেই সে আগামী দিনের পৃথিবী নির্মাণ করে চলেছে , যদিও তার রূপ কেমন হবে তা সে জানে না। প্রযুক্তির নানা অগ্রগতি সত্ত্বেও , ভবিষ্যৎটা এখনো ছবির মতো পর্দায় ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। হয়ত হবে , কোনও একদিন। বন্যরা বনে সুন্দর , এমনই একটা কথা এখনও প্রচলিত আছে। কিন্তু বন্যরা এখন আর বনে থাকছে না। তাদের অনেকেই আজ শহরমুখী। দিল্লিতে বাঁদরের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তারা নাকি মানুষের খাবার প্লেট থেকে তুলে নিয়ে চম্পট দে...