Posts

এশিয়ার মশা আফ্রিকায়

Image
  এশিয়ার মশারা দল বেঁধে আফ্রিকা যাচ্ছে। তবে সব ধরনের মশারা যাচ্ছে , তা নয়। আফ্রিকার টানে সে দিকে পাড়ি জমাচ্ছে , ‘ অ্যানোফেলিস স্টিফেনসি ’ । তারা যে-সে মশা নয়। তাদের নামটি যেমন বড়ো , তারা তেমনই মারাত্মক। এই প্রজাতির মশাই ম্যালেরিয়া ছড়ায়। তার ফলে , দেশে দেশে মানুষের প্রাণ হানী ঘটে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে , এই মশারা এখন সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছে এমন সব ম্যালেরিয়ার জীবাণু , ওষুধ যাদের কাবু করতে পারে না। ম্যালেরিয়ার ওষুধের বিরুদ্ধে ওই জীবাণুরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এমনকি রক্ত পরীক্ষার সময়ও তারা আত্মগোপনও করে থাকতে পারে। ফলে , কারোর যে ম্যালেরিয়া হয়েছে , রক্ত পরীক্ষা করেও তা সহজে জানা যাচ্ছে না। আফ্রিকাগামী এশিয়ার অ্যানোফেলিস স্টিফেনসি যে এই ধরনের মারাত্মক ম্যালেরিয়া জীবাণু নিজেদের শরীরে বহন করে নিয়ে যাচ্ছে , তা জানতে পেরেছেন ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্ক্যাস্টার ইউনিভার্সিটিগবেষকরা । উল্লেখ করা যেতে পারে যে,  অ্যানোফেলিস স্টিফেনসি শহুরে মশা। শহরের পরিবেশই তাদের বেশি পছন্দ। গ্রামের প্রতি তারা কোনও আকর্ষণ বোধ করে না।     এশিয়ার ওই মশা যে আফ্রিকায় পৌঁছে গেছে তা প্রথম জানা যায় ২০১২তে। ওই সা...

ভবঘুরে এবার গৃহী হয়েছে

Image
অনেক দিনের ভবঘুরে জীবন ত্যাগ করে পটল এখন গৃহী হয়েছে। ( আগের পোস্ট দেখুন: ভবঘুরে পটলের বিচিত্র জীবন ,   March 15, 2025 )   পটলের কোনও সঙ্গী ছিল না। ওর কোনও দল তৈরি হয়নি। আর পাঁচটা কুকুরে মতো কোনও নিজস্ব এলাকাও সে বেছে নিতে পারেনি কোনওদিন। সঙ্গীবিহীন , এলাকাহীন , একাকী এক সাদা-কালো দিশি কুকুর পটল। অন্তত তেমনটাই ছিল সে এই কিছুদিন আগেও। এখন তার জীবন বদলে গেছে। এবং নিজের জীবনে পরিবর্তন সে এনেছে নিজেই। পটল একটি মেয়ে কুকুর। বছর আষ্টেক বয়স এখন তার। তাকে যখন প্রথম দেখি , তখন সে মাস তিনেকের হবে। কারা যেন তাকে ছেড়ে দিয়ে গিয়েছিল সল্টলেকের সিকে-সিএল পার্কে। এক সকালে , সরু গলায় চিৎকার করছিল সে। দেখা গেল , একটি কুকুর বাচ্চা। গায়ে দগদগে ক্ষত। যন্ত্রণা আর খিদেয় চেঁচাচ্ছে। পৃথিবীর ডায়েরি পত্রিকার সম্পাদক মালবী গুপ্ত ’ র তত্ত্বাবধানে শুরু হয় তার শুশ্রূষা। বাড়ি থেকে আসতে থাকল খাবার। একটু একটু করে সুস্থ হয়ে উঠল সে। আমার বোন, অনিন্দিতা, তার নাম রাখলেন , পটল। ওই পার্কই তার ঠিকানা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হলো না। প্রাপ্ত বয়েসের হওয়া মাত্রই তার পাঁচটি ফুটফুটে বাচ্চা হলো। একটি বাড়ির বাগানে বসে সে দ...

অক্সিজেন কমছে সমুদ্রে, বিপন্ন প্রাণীরা

Image
  সমুদ্রে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। অক্সিজেন ছাড়া স্থলের কিম্বা জলের কোনও প্রাণী ই বাঁচে না। মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি প্রাণী আছে যারা অক্সিজেন ছাড়াও বাঁচতে পারে। স্থলের প্রাণীরা অক্সিজেন পায় বাতাস থেকে। আর জলের প্রাণীরা জল থেকে। বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ যদি কমে যায় , তা হলে স্থলের প্রাণীরা শ্বাস কষ্টের শিকার হয়। যেমন , পর্বতারোহীরা সঙ্গে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে যান। কারণ , খুব উচ্চতায় বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকে। বাড়তি অক্সিজেনর জোগান ছাড়া , বেশি উচ্চতায় সাধারণ মানুষের বাঁচা কঠিন হয়ে পড়ে। এবার যদি পৃথিবীর সর্বত্রই বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় , তাহলে মানুষ সহ স্থলের সব প্রাণীইরই তো দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হবে। ঠিক তেমনই ভাবে , পুকুর , দিঘি , নদী , সমুদ্রের জলে যদি অক্সিজেনের ঘাটাতি দেখা দেয় , তা হলে জলের সব প্রাণীদেরও দম বন্ধ হয়ে আসার মতো অবস্থা সৃষ্টি হবে। এবং জানা যাচ্ছে যে , ইতিমধ্যেই জলে অক্সিজেনের পরিমাণ একটু হলেও কমেছে। এবং এই ধারা বজায় থাকলে , সমুদ্রের জলে অক্সিজেন আরও কমে গিয়ে এক ঘোরতর সংকট সৃষ্টি করবে। মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রের রেনসেল্যার পলিটেকনিক ইনস্টিট...

শরীর কতটা ঠান্ডা হলেও বাঁচা যায়

Image
  ৯৮.৬ ডিগ্রি ফ্যারেনহাইট। এটাই মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা। এর বেশি হলেই , আমরা জ্বরের কবলে পড়ি। ডাক্তারবাবু আসেন। ওষুধ খেতে হয়। শরীর তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে গেলে , আমরা আবার সুস্থ বোধ করি। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার অসুখে আমরা সকলেই কোনও না কোনও সময় আক্রান্ত হই। জ্বরে পড়েনি এমন মানুষ পৃথিবীতে নেই বললেই চলে। কিন্তু শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার মতো ঘটনা আমাদের ক ’ জনেরই বা জীবনে ঘটেছে! বাইরের তাপমাত্রা যাই হোক না কেন , মানুষের শরীরের তাপ ওই ৯৮.৬ ডিগ্রি ফ্যারেনহাইটেই বাঁধা থাকে। কিন্তু শীতের দিনে , কনকনে ঠান্ডায় , ‘ ঠান্ডা ’ লেগে কিন্তু শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। মানে , জ্বর হয়। আবার গ্রীষ্মকালে , ‘ গরম ’ লেগে গেলেও কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। শরীরের মতিগতি এমনই বিচিত্র। কিন্তু বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে শরীরের তাপমাত্রা কমেও যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে , তাপমাত্রা ৯৫ ডিগ্রি বা তার নীচে নেমে গেলে , সেই পরিস্থিতিকে ‘ তাপের-ঘাটিতি ’ বলে চিহ্নিত করা হয় । খুব ঠান্ডা পরিবেশে , আমাদের শরীরে কাঁপুনি দেয়। সেটা শরীরকে গরম রাখার উপায়। কিন্তু পরিস্থিতি তেমন বিরূপ হলে , আমাদের বাইরের পোষাক পরিচ্ছেদ...