Posts

পৃথিবীর ভেতর আরও এক পৃথিবী

Image
  বিস্কুট খাচ্ছে কাঠবেড়ালি মানুষ কি সব পালটে দিচ্ছে ? প্রকৃতি র সৃষ্টি করা পৃথিবীর মধ্যে তারা কি গড়ে তুলছে আরও এক পৃথিবী ? এক সময় , প্রকৃতিই ঠিক করত কে কেমন হবে , কে কী খাবে , কে কোথায় থাকবে। বিবর্তন নামক এক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে , সেই সব ব্যবস্থা করত। সবার সঙ্গে সবার বন্ধন , পৃথিবীজুড়ে প্রাণীদের মধ্যে এক সুস্থায়ী ভারসাম্য , এ সবই নিশ্চিত করত সে। এমনকি মানুষও তার নিয়মের অধীনে ছিল এক কালে। কিন্তু এখন যেন বিবর্তনের ধারাটা মানুষই নির্ধারণ করছে। দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়ে , সেই এখন ঠিক করছে কে কোথায় থাকবে , কে কি খাবে , কে টিকে থাকবে , আর কেইবা মুছে যাবে এই গ্রহের বুক থেকে। নিজের অজান্তেই সে আগামী দিনের পৃথিবী নির্মাণ করে চলেছে , যদিও তার রূপ কেমন হবে তা সে জানে না। প্রযুক্তির নানা অগ্রগতি সত্ত্বেও , ভবিষ্যৎটা এখনো ছবির মতো পর্দায় ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। হয়ত হবে , কোনও একদিন। বন্যরা বনে সুন্দর , এমনই একটা কথা এখনও প্রচলিত আছে। কিন্তু বন্যরা এখন আর বনে থাকছে না। তাদের অনেকেই আজ শহরমুখী। দিল্লিতে বাঁদরের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তারা নাকি মানুষের খাবার প্লেট থেকে তুলে নিয়ে চম্পট দেয়...

উষ্ণায়ন অনুভব করছেন ৭১% ভারতীয়

Image
  তাপপ্রবাহ , অতিবৃষ্টি , ধস , বিধ্বংসী হড়পা বাণ —   বিগত কয়েক বছরে , এই সব বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হয়েছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষকে। উত্তরই হোক বা দক্ষিণ , পূর্বই হোক বা পশ্চিম , চারিদিকেই প্রকৃতির রোষ অনুভব করা গেছে। বলা হচ্ছে , ওই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণ হলো উষ্ণায়ন। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় ঘটে যাচ্ছে নানান আবহাওয়া পরিবর্তন। কিন্তু এ দেশের ক ’ জন মানুষ মনে করেন যে , প্রকৃতি বিরূপ হচ্ছে ? এবং সেই রোষ সৃষ্টি করার পেছনে মানুষের হাত রয়েছে ? এই সব বিষয়ে ভারতের মানুষ কী ভাবছেন , তা জানার জন্য ২০২২ থেকে ২০২৫-এর মধ্যে একটি সমীক্ষা চালানো হয়। প্রায় ১৯ , ০০০ ব্যক্তি তাতে অংশ নেন। সমীক্ষাটি করে ‘ ইয়েল প্রোগ্রাম অন ক্লাইমেট চেঞ্জ কমিউনিকেশন ’ ।  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটির একটি উদ্যোগ সেটি। ওই সমীক্ষা থেকে যা জানা গেছে , তা এই রকম : ৯০ শতাংশ ভারতীয় বলেছেন , তাঁরা বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব অনুভব করছেন। তাপপ্রবাহ , অতিবৃষ্টি , জলকষ্ট , বন্যা — এ সবেরই তাঁরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সাক্ষী। কিন্তু এ সবের পেছনে মানুষের যে একটা বড়ো ভূমিকা আছে , সে ব্যাপারে তা...

বায়ু দূষণ প্রতিটি অঙ্গের ক্ষতি করে

Image
    [ জেন্নি শিয়ার্সটন  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো বোল্ডার-এর  বিজ্ঞানী। বায়ু দূষণ মানুষের শরীরের ওপর কী প্রভাব ফেলে, সে বিষয়ে তিনি ‘দ্য কনভার্সেশন-এ একটি লেখা লেখেন । তারই কিছু অংশ প্রকাশ করা হল।] আমি একজন এনভায়রমেন্টাল এপিডারমিওলজিস্ট বা পরিবেশ-প্রভাবিত অসুখ বিশেষজ্ঞ। অনেক কাজের মধ্যে আমি যেটা করি তা হল , বায়ু দূষণ মানুষের শহরের কী ক্ষতি করে , তা নিয়ে গবেষণা। বাতাসের গুণমান বিচার করা খুবই জরুরি। কারণ , দূষণ কমলে কতটা আর্থিক সাশ্রয় হতে পারে , নীতি নির্ধারকরা তা বুঝতে পারেন। এবং সেই অনুযায়ী তাঁরা নিয়ম-কানুন ঠিক করার সুযোগ পান । বায়ু দূষণ আমাদের শরীরে কী করে : ওজোন গ্যাস ও পিএম-২.৫ [বা ২.৫ মাইক্রোমিটার অথবা তার চেয়েও কম ব্যাসের ভাসমান ধূলিকণা] শরীরের প্রতিটি অঙ্গেরই ক্ষতি করে। বায়ু দূষণ বিশেষ করে হার্ট , রক্ত চলাচল , শ্বাসপ্রশ্বাস ও স্না য়ুবিক ব্যবস্থার পক্ষে বিশেষ হানিকর। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে যে , পিএম-২.৫ ’ র প্রভাব করোনারি হার্ট ডিসিজ [বা হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তবাহী শিরা উপশিরার অসুখ] সৃষ্টি করে। এবং এই অসুখ মৃত্যুর সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়...

ভারতজুড়ে আগ্রাসী গাছের হামলা

Image
ল্যান্টানা কামারা একে বিদেশি , তার ওপর আগ্রাসী। হ্যাঁ , আগ্রাসী ধরনের বিদেশি গাছ ভারতের ১৫ , ০০০ বর্গ কিলোমিটার প্রাকৃতিক ভূমি দখল করে নিচ্ছে প্রতি বছর। গবেষণা থেকে তেমনটাই জানা যাচ্ছে।   এই গাছগুলি হলো ‘ ল্যান্টানা কামারা ’ ( পুটুস) , ‘ ক্রোমোলায়েনা ওডোরাটা ’ ( তিভরা গন্ধা) ও ‘ প্রোসোপিস জুলিফ্লোরা ’ ( বিলিতি বাবলা)। ইতি মধ্যেই তারা প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের প্রায় তিন ভাগের দু ভাগ এলাকাতেই আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তিনটি গাছই ইংরেজরা ১৮০০ শতকের বিভিন্ন সময় ভারতে নিয়ে এসে ছিলেন। তিনটিই এসেছিল মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে। সুন্দর দেখতে বলে , প্রথম দু ’ টিকে তাঁরা নিয়ে আসেন বাগানের শোভা বাড়তে। এবং বিলিতি বাবলাকে তাঁরা আনেন মরুভূমির বিস্তার ঠেকানোর কাজে লাগানোর উদ্দেশে। এখন তারা ভারতের প্রকৃতিতে এক বড়ো আকারের হুমকি হয়ে উঠেছে। বলা হচ্ছে , প্রায় ১৪ কোটি মানুষসহ , বহু কৃষিজমি ও বন্যপ্রাণীদের বাসস্থান ওই গাছেদের আগ্রাসনের সম্মুখীন আজ। এবং আবহাওয়া পরিবর্তন তাদের আগ্রাসী ভাব ক্রমেই বাড়িয়ে তুলছে। ‘ নেচার সাসটেনিবিলিটি ’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা পত্রে এই কথা বলা হয়েছে। ডেনমার্ক...

তুঙ্গনাথে বরফ নেই

Image
  পর্বত বিশারদরা কি প্রমাদ গুনছেন ? হয়ত। তার যথেষ্ট কারণও আছে। এই জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়েও হিমালয়ের তুঙ্গনাথ পাহাড় ছিল বরফহীন। ওই সময়ে , ওই পর্বত শৃঙ্গ তুষারে ঢাকা থাকার কথা। যাঁরা হিমালয়ের আকর্ষণে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন প্রতি বছর , তাঁরা সে কথা জানেন। আর হিমালয় নিয়ে যাঁরা গবেষণা করেন , তাঁরা তো জানেনই। কিন্তু এই বছরের শুরুতে , তুঙ্গনাথের মাথায় ছিল না বরফের সাদা মুকুট। হাড় কাঁপানো শীতের মাসে , তুঙ্গনাথ বরফহীন —   সে এক অস্বস্তিকর দৃশ্য! শুধু তুঙ্গনাথ নয় , সারা হিমালয় পর্বতমালায়ই নাকি এই শীতেরমরসুমে তুষার ও বৃষ্টির ঘাটতি বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে । এবং প্রকৃতির ওই কার্পণ্য দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হিমালয় বিশেষজ্ঞরা। বেশ কয়েক বছর ধরেই হিমালয়ের আবহাওয়ায় এক পরিবর্তন ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছে। বর্ষার সময় বৃষ্টিপাত প্রলয়ের আকার ধারণ করেছে পর পর কয়েক বছর। এখন আবার শীতের দিনে বৃষ্টি ও তুষারপাতের ঘটাতি দেখা দিচ্ছে। কয়েক বছর ধরেই শোনা যাচ্ছে যে , হিমালয়ের তুষার সীমা ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে। আগে যেখানে বরফের চাদর দেখা যেত , এখন সেখানে বরফ গলে পাথর বেরিয়ে পড়েছে। তুষার বলয়ে পৌঁছতে গেলে ,...