Posts

ভলো হরমোন বাড়ায় কুকুর, বেড়াল

Image
অনেকে বলেন , বাড়িতে কুকুর থাকলে মানুষের মন ও শরীর দুইই ভালো থাকে। তা সে দেশি বা বিদেশি , যাই হোক না কেন। কিন্তু তাঁদের ওই ধারণা ও আচরণের সত্যিই কি কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে ? নাকি তা নেহাতই আবেগতাড়িত ভাবনা ? নেকড়ে থেকে কুকুর এসেছে , এটাই প্রতিষ্ঠিত ধারণা। কিন্তু মানুষের সঙ্গে তাদের আচরণের ক্ষেত্রে নেকড়ে আর কুকুরের মধ্যে মিল পাওয়া ভার। কুকুর মানুষের সঙ্গে চোখে মুখে কথা বলে। বাড়িরই হোক বা রাস্তার , তারা মানুষের আদর , ভালবাসা পেতে উদ্‌গ্রীব। ওদের গায়ে মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে হঠাৎ থেমে গেলে , পা নেড়ে ইশারা করে বলে , “ থেমো না , আরও চাই। ” নেকড়ে মানুষের চোখের দিকেই তাকায় না। ‘ সায়েন্টিফিক আমেরিকান ’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি লেখা থেকে জানা যাচ্ছে যে , কুকুরের ও মানুষের ভালোবাসার সম্পর্ক উভয়েরই উপকার করে। দেখা গেছে , চেনা কুকুরের সঙ্গে সময় কাটালে মানুষ ও কুকুরের শরীরে ‘ বেটা-এন্ডোরফিন ’, ‘ অক্সিটোসিন ’ ও ‘ ডোপামিন ’- এর মতো জরুরি হরমোনের মাত্রা উভয়ের মধ্যেই বেড়ে যায়। এগুলি ¯œ স্নায়ুতন্ত্রের ওপর কাজ করে , এবং ইতিবাচক অনুভূতি ও মানসিক বন্ধন সৃষ্টি করে। কিন্তু কোনও ব্যক্তি যখন তাঁর পোষ্যটির...

হুমকির মুখে ধান-চাল, মানুষও

Image
  চালের ওপর নির্ভর করে কয়েকশো কোটি মানুষের জীবন। চাল থেকে তৈরি নানা খাবারই তাদের প্রধান খাদ্য। কিন্তু দেখা যাচ্ছে , সেই চালের উৎপাদন কমছে। এবং উৎপাদন কমার মূল কারণ হল অতি বৃষ্টি। ধান থেকে চাল হয়। এবং যে সব দেশে ব্যাপক হারে ধান চাষের চলন আছে , সেই সব দেশে বৃষ্টিও হয় যথেষ্ট। পর্যাপ্ত পরিমাণ বৃষ্টির জল পেলে , ধানের ফলন হয় ভালো। কিন্তু অতিবৃষ্টি ধান গাছ নষ্ট করে দিতে পারে। মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে , ২০০০ সাল থেকে , ধান চাষ-করা বিভিন্ন দেশে ঘনঘন বন্যা দেখা দেওয়ায় , ধানের ক্ষতি বছরে বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এবং গবেষকরা দেখছেন যে , আগামী দিনে জলবায়ু পরিবর্তন যত তীব্র হবে , ধান চষের ক্ষতি হবে তত বেশি। গবেষকরা বলছেন , এত দিন , বিজ্ঞানী ও কৃষক উভয়েরই নজর থেকেছে অনাবৃষ্টির ওপর। কারণ , অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ধানের ফলন ব্যাহত করে। তাঁরা বলছেন , এখন , অনাবৃষ্টির সঙ্গে অতিবৃষ্টির ওপরও নজর রাখতে হবে। কারণ , বেশি বৃষ্টিপাতও ধান গাছকে মেরে দেয়। এবং দিচ্ছে। গবেষকরা বলছেন , ধান গাছ যদি এক সপ্তাহ টানা জলের তলায় ডুবে থাকে , তাহলে তার মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে প...

পৃথিবীর ভেতর আরও এক পৃথিবী

Image
  বিস্কুট খাচ্ছে কাঠবেড়ালি মানুষ কি সব পালটে দিচ্ছে ? প্রকৃতি র সৃষ্টি করা পৃথিবীর মধ্যে তারা কি গড়ে তুলছে আরও এক পৃথিবী ? এক সময় , প্রকৃতিই ঠিক করত কে কেমন হবে , কে কী খাবে , কে কোথায় থাকবে। বিবর্তন নামক এক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে , সেইই সব ব্যবস্থা করত। সবার সঙ্গে সবার বন্ধন , পৃথিবীজুড়ে প্রাণীদের মধ্যে এক সুস্থায়ী ভারসাম্য , এ সবই নিশ্চিত করত সে। এমনকি মানুষও তার নিয়মের অধীনে ছিল এক কালে। কিন্তু এখন যেন বিবর্তনের ধারাটা মানুষই নির্ধারণ করছে। দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়ে , সেই এখন ঠিক করছে কে কোথায় থাকবে , কে কি খাবে , কে টিকে থাকবে , আর কেইবা মুছে যাবে এই গ্রহের বুক থেকে। নিজের অজান্তেই সে আগামী দিনের পৃথিবী নির্মাণ করে চলেছে , যদিও তার রূপ কেমন হবে তা সে জানে না। প্রযুক্তির নানা অগ্রগতি সত্ত্বেও , ভবিষ্যৎটা এখনো ছবির মতো পর্দায় ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। হয়ত হবে , কোনও একদিন। বন্যরা বনে সুন্দর , এমনই একটা কথা এখনও প্রচলিত আছে। কিন্তু বন্যরা এখন আর বনে থাকছে না। তাদের অনেকেই আজ শহরমুখী। দিল্লিতে বাঁদরের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তারা নাকি মানুষের খাবার প্লেট থেকে তুলে নিয়ে চম্পট দে...

উষ্ণায়ন অনুভব করছেন ৭১% ভারতীয়

Image
  তাপপ্রবাহ , অতিবৃষ্টি , ধস , বিধ্বংসী হড়পা বাণ —   বিগত কয়েক বছরে , এই সব বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হয়েছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষকে। উত্তরই হোক বা দক্ষিণ , পূর্বই হোক বা পশ্চিম , চারিদিকেই প্রকৃতির রোষ অনুভব করা গেছে। বলা হচ্ছে , ওই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণ হলো উষ্ণায়ন। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় ঘটে যাচ্ছে নানান আবহাওয়া পরিবর্তন। কিন্তু এ দেশের ক ’ জন মানুষ মনে করেন যে , প্রকৃতি বিরূপ হচ্ছে ? এবং সেই রোষ সৃষ্টি করার পেছনে মানুষের হাত রয়েছে ? এই সব বিষয়ে ভারতের মানুষ কী ভাবছেন , তা জানার জন্য ২০২২ থেকে ২০২৫-এর মধ্যে একটি সমীক্ষা চালানো হয়। প্রায় ১৯ , ০০০ ব্যক্তি তাতে অংশ নেন। সমীক্ষাটি করে ‘ ইয়েল প্রোগ্রাম অন ক্লাইমেট চেঞ্জ কমিউনিকেশন ’ ।  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটির একটি উদ্যোগ সেটি। ওই সমীক্ষা থেকে যা জানা গেছে , তা এই রকম : ৯০ শতাংশ ভারতীয় বলেছেন , তাঁরা বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব অনুভব করছেন। তাপপ্রবাহ , অতিবৃষ্টি , জলকষ্ট , বন্যা — এ সবেরই তাঁরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সাক্ষী। কিন্তু এ সবের পেছনে মানুষের যে একটা বড়ো ভূমিকা আছে , সে ব্যাপারে তা...

বায়ু দূষণ প্রতিটি অঙ্গের ক্ষতি করে

Image
    [ জেন্নি শিয়ার্সটন  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো বোল্ডার-এর  বিজ্ঞানী। বায়ু দূষণ মানুষের শরীরের ওপর কী প্রভাব ফেলে, সে বিষয়ে তিনি ‘দ্য কনভার্সেশন-এ একটি লেখা লেখেন । তারই কিছু অংশ প্রকাশ করা হল।] আমি একজন এনভায়রমেন্টাল এপিডারমিওলজিস্ট বা পরিবেশ-প্রভাবিত অসুখ বিশেষজ্ঞ। অনেক কাজের মধ্যে আমি যেটা করি তা হল , বায়ু দূষণ মানুষের শহরের কী ক্ষতি করে , তা নিয়ে গবেষণা। বাতাসের গুণমান বিচার করা খুবই জরুরি। কারণ , দূষণ কমলে কতটা আর্থিক সাশ্রয় হতে পারে , নীতি নির্ধারকরা তা বুঝতে পারেন। এবং সেই অনুযায়ী তাঁরা নিয়ম-কানুন ঠিক করার সুযোগ পান । বায়ু দূষণ আমাদের শরীরে কী করে : ওজোন গ্যাস ও পিএম-২.৫ [বা ২.৫ মাইক্রোমিটার অথবা তার চেয়েও কম ব্যাসের ভাসমান ধূলিকণা] শরীরের প্রতিটি অঙ্গেরই ক্ষতি করে। বায়ু দূষণ বিশেষ করে হার্ট , রক্ত চলাচল , শ্বাসপ্রশ্বাস ও স্না য়ুবিক ব্যবস্থার পক্ষে বিশেষ হানিকর। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে যে , পিএম-২.৫ ’ র প্রভাব করোনারি হার্ট ডিসিজ [বা হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তবাহী শিরা উপশিরার অসুখ] সৃষ্টি করে। এবং এই অসুখ মৃত্যুর সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়...