Posts

শরীর কতটা ঠান্ডা হলেও বাঁচা যায়

Image
  ৯৮.৬ ডিগ্রি ফ্যারেনহাইট। এটাই মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা। এর বেশি হলেই , আমরা জ্বরের কবলে পড়ি। ডাক্তারবাবু আসেন। ওষুধ খেতে হয়। শরীর তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে গেলে , আমরা আবার সুস্থ বোধ করি। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার অসুখে আমরা সকলেই কোনও না কোনও সময় আক্রান্ত হই। জ্বরে পড়েনি এমন মানুষ পৃথিবীতে নেই বললেই চলে। কিন্তু শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার মতো ঘটনা আমাদের ক ’ জনেরই বা জীবনে ঘটেছে! বাইরের তাপমাত্রা যাই হোক না কেন , মানুষের শরীরের তাপ ওই ৯৮.৬ ডিগ্রি ফ্যারেনহাইটেই বাঁধা থাকে। কিন্তু শীতের দিনে , কনকনে ঠান্ডায় , ‘ ঠান্ডা ’ লেগে কিন্তু শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। মানে , জ্বর হয়। আবার গ্রীষ্মকালে , ‘ গরম ’ লেগে গেলেও কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। শরীরের মতিগতি এমনই বিচিত্র। কিন্তু বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে শরীরের তাপমাত্রা কমেও যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে , তাপমাত্রা ৯৫ ডিগ্রি বা তার নীচে নেমে গেলে , সেই পরিস্থিতিকে ‘ তাপের-ঘাটিতি ’ বলে চিহ্নিত করা হয় । খুব ঠান্ডা পরিবেশে , আমাদের শরীরে কাঁপুনি দেয়। সেটা শরীরকে গরম রাখার উপায়। কিন্তু পরিস্থিতি তেমন বিরূপ হলে , আমাদের বাইরের পোষাক পরিচ্ছেদ...

জল - দেউলিয়া হচ্ছে অনেক দেশ

Image
পৃথিবীর অনেক দেশ দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। তাদের আয় ১০ ইউনিট হলে , তারা খরচ করছে ১৫। এই দেউলিয়া অবস্থাটা আর্থিক নয়। বরং জলের। যতটা জল তারা প্রকৃতির কাছ থেকে পাচ্ছে , তার অনেক বেশি ব্যবহার করছে তারা। পৃথিবী এখন জল সঙ্কটের কবল থেকে জলের দেউলিয়া অবস্থায় প্রবেশ করেছে। এ কথা জানিয়েছে জাতিসংঘ । কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীরা বলে আসছেন যে , পৃথিবী এক গভীর জল সঙ্কটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যার অর্থ দাঁড়ায় , চেষ্টা করলে সেই সঙ্কট কাটিয়ে ওঠাও সম্ভব। কিন্তু অনেক দেশে জলের অভাব এখন আর সঙ্কটের পর্যায়ে নেই। জলের দিক থেকে তারা দেউলিয়া অবস্থায় ডুবে গেছে। সে সব দেশে জলের ভাণ্ডার শেষ। চেষ্টা করলেও , সেই ভাণ্ডার আর পূরণ করা সম্ভব হবে না। এমনটাই জানা যাচ্ছে। বিশ্বের নানা প্রান্তে জলের যোগান ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে আসছে। মাটির নিচের জলস্তরও নামতে নামতে ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে সেই সব অঞ্চলে। মনে করা হচ্ছে , আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল হচ্ছে এমন এক আধুনিক শহর যেটি জলশূন্য হতে বসেছে । ইরানের রাজধানী তেহরানে , জলকষ্টে নাভিশ্বাস উঠছে সেখানকার বাসিন্দাদের। মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি মাটিতে বসে যাচ্ছে। বছরে ২০ ইঞ্চি ...

১২ উদ্ভিদ, ৫ প্রাণীই মানুষের প্রধান খাদ্যদাতা

Image
আমাদের খাবারের প্রায় সবটাই আসে প্রকৃতি থেকে। চাল , গম , ডাল , নুন , তেল , সবজি , মাছ , মাংস , ফল সবই তো প্রকৃতি তৈরি করে। সার দিয়ে , সেচের জল জুগিয়ে , পোকা মেরে , ক্ষতিকর ছত্রাকের বিরুদ্ধে ওষুধ প্রয়োগ করে আমরা সেই কাজে সহায়তা করি মাত্র। বড় বড় কলকারখানায় মেশিন চালালেই চাল-গম , আলু-পটল , আম-জাম , রুই-কাতলা , মুর্র্গি-মটন হুড় হুড় করে বেরিয়ে আসছে , এমনটা ঘটে না। সেই দিন এখনও আসেনি। প্রকৃতির ভাণ্ডারে সবই মজুত আছে। চাষীরা মাঠে চাষ করেন , পশুপালকরা নানা প্রাণী পালন করেন , আর ফল চাষীরা ফলের বাগান তৈরি করেন বলেই আমরা খেতে পাই। রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে , মানুষের ৭৫ শতাংশ খাদ্য আসে ১২টি উদ্ভিদ ও পাঁচটি প্রাণী থেকে । প্রায় ৩০ , ০০০ উদ্ভিদ খাওয়ার যোগ্য। কিন্তু তাদের মধ্যে মানুষের খাদ্য তালিকায় রয়েছে মাত্র ১৫০টি। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষের খাদ্যে হয়তো আরও অনেক বিচিত্র বস্তু থাকে যেগুলিকে এই তালিকার জন্য বিবেচনা করা হয়নি। কিন্তু মানুষে খাদ্যে যে বৈচিত্র্য তা ক্রমশ কমে আসছে। যেমন , একটা সূত্র বলছে , ভারতে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত নাকি ১ , ১০ , ০০০ ধরনের চাল উৎপন্ন হত । এখন সংখ্যাটা...

গাছেরা কি দেখতে পায়

Image
  লতানে গাছেদের কাণ্ডকাখানা দেখলে মনে হবে তারা বোধহয় দেখতে পায়। তাদের হয়ত দৃষ্টিশক্তি আছে। তা না হলে , তারা শুঁড় বার করে মাচার বাঁশ , গাছের ডাল , বা যে কোনও সরু , শক্ত , লম্বা বস্তুকে প্যাঁচিয়ে ধরে কী করে ? ধরার আগে তো কোন দিকে শুঁড় বাড়ালে সেই রকম এক বস্তুর নাগাল পাওয়া যাবে , তা স্থির করতে হবে। তা ওরা তো স্থির করতে পারে। যে দিকেই থাকে ভর দেওয়ার মতো শক্ত কিছু , সেই দিকেই তাদের ল্যাকপ্যাকে ডাল থেকে বেরিয়ে আসা সরু সরু সুতোর মতো শুঁড় বা আঁকড়া (ইংরেজিতে যাকে বলে টেন্ড্রিল) প্রতিদিন আস্তে আস্তে এগোতে থাকে। তারপর সেটি নাগালের মধ্য এলেই সেটিকে পেঁচিয়ে ধরে শক্ত করে। কিন্তু এ কথাও তো ঠিক , গাছের কোনও চোখ নেই। তবুও ঠিক দিকেই আঁকড়া এগিয়ে দিতে সক্ষম হয় তারা। ছবিতে তেমনই এক লতানে গাছকে দেখা যাচ্ছে। অতি সাধারণ , আমাদের অনেকেরই চেনা উচ্ছে গাছ। স্প্রিঙ্গ জিনিসটার সঙ্গে আমরা পরিচিত। টানলে লম্বা হয়। ছেড়ে দিলে আবার নিজের জায়গায় ফিরে যায়। আমাদের উচ্ছে গাছটিও , নিজের তন্তু ও কোষ দিয়ে তৈরি করেছে বেশ কয়েকটি নিখুঁত স্প্রিঙ্গ। ঠিক যেমনটি আমরা যন্ত্রংশ হিসেবে ব্যবহার করি নানা ক্ষেত্রে। কিন্তু কথা হলো , উচ্...

এক চিলতে বাগানে হাজারও প্রাণীর বাস

Image
  আজকাল বাড়ির লাগোয়া খালি জায়গা বিশেষ দেখা যায় না। যেখানে একটু মাটি থাকে , ঘাস গজায় , কয়েকটা ফুলের গাছে ফুল ফোটে। যেখানে একটু রোদ পড়ে। পাখিরা আসে। তবুও কারোর বাড়ির যদি সংলগ্ন সেই রকম একচিলতে জমি থাকে , তাহলে জানবেন সে এক বিস্ময়কর জায়গা। সেই রকম জায়গা যে প্রাণীদের স্বর্গরাজ্য হতে পারে , কে জানত ? অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন শহরের তিন বিশেষজ্ঞ - গণিতবিদ ম্যাট হোল্ডেন , পরিবেশবিদ অ্যান্ড্রু রজার্স ও জীববিজ্ঞানী রাসেল ইয়াঙ্গ - থাকতেন একই বাড়িতে। ২০২০তে কোভিড চলা কালে , তাঁরা বাড়িতেই দিন কাটাচ্ছিলেন। শিক্ষাকেন্দ্রে বা গবেষণাগারে যাওয়ার তেমন সুযোগ ছিল না তখন। তাই তাঁরা ঠিক করলেন , তাঁদের বাড়ির লাগোয়া যে খালি জায়গাটি আছে , সেখানে আসলে কী আছে , তা অনুসন্ধান করে দেখবেন। একদিন ঘরের মধ্যে জমে ওঠা ঝুল ঝাড়তে লেগেছিলেন রজার্স। তা করতে গিয়ে দু ’ একটা মাকড়সার উপস্থিতি নজরে আসে তাঁর। তখনই মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগে যে , তাঁদের বাড়ি ও তার সংলগ্ন বাগানে কত রকমের প্রাণী থাকতে পারে। তিনজনে ঠিক করেন , দেখাই যাক না। কাজ শুরু করার আগে , বেশ কয়েক জন বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদের কাছে তাঁরা জানতে চান , কত রকমের প্র...