হাওয়া বদল আনল ডাইনোসরদের
পৃথিবীতে
বদল এসেছে বার বার। আর দেখা গেছে, পৃথিবীকে
বদলে দেওয়ার পেছনে নিঃশব্দে কাজ করেছে আবহাওয়া পরিবর্তন। হাওয়া বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে পৃথিবীর চেহারাও।
আজ থেকে ২৫ কোটি বছর আগে, পৃথিবীর স্থলভাগ বলতে
একটাই
বিরাট মহাদেশ ছিল। আজকের এশিয়া,
আফ্রিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার মতো আলাদা আলাদা মহাদেশে ভাগ করা ছিল না পৃথিবী। ব্যবস্থাটা ছিল বেশ সোজাসাপ্টা। একদিকে স্থল, অন্য দিকে জল। সেই সময়, গাছপালা পৃথিবীর মাটিতে বেশ শক্তপক্ত ভাবে শেকড় বিস্তার করেছে। জঙ্গলটঙ্গল ঘন হয়েছে নানা দিকে। নানা ধরনের প্রাণীও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তখন।
ডাইনোসরেদের অবির্ভাব ঘটেছে, কিন্তু পৃথিবীতে রাজ করছে অন্য এক ধরনের প্রাণী। চার পায়ে চলে। ল্যাজ আছে লম্বা। মুখের চেহারা পাখির
সঙ্গে
মেলে। দেখতে অনেকটা আজকের কুমিরের মতো। কিন্তু
আকারে
বিস্তর বড়। তাদের এক দল ঘাসপাতা খায়, আর এক দল মাংস। তাদের দাপাদাপির ফলে, ডাইনোসরেরা তেমন সুবিধে করে উঠতে পারছে না।
তেমনই এক সময়, প্রকৃতি ডাইনোসরদের প্রতি সদয় হল। আবহাওয়া একটু একটু করে বদলাতে লাগল। সেটা ছিল ট্রিয়াসিক যুগের শেষ ভাগ আর জুরাসিক যুগের
শুরুর
দিক। সেই সময় ‘সরাপড’ ডাইনোসররা পৃথিবীতে রয়েছে। সরাপডরা
হল
সেই সব তৃণভোজী ডাইনোসর যাদের মাথা ছিল ছোট। গলা ছিল চারটে জিরাফের গলার মতো লম্বা। শরীরটা ছিল দশটা হাতির মতো বড়।
আর
অন্তত চারটে অ্যানাকন্ডা সাপের মতো মোটা ও প্রকান্ড ছিল তাদের ল্যাজ। কিন্তু
সেদিনকার
সেই বিরাট মহা-মহাদেশে তারা
কিছু ঠান্ডা জায়গায় কেন্দ্রীভূত ছিল। অন্য অঞ্চলগুলি ছিল গরম। সেখানকার গাছপালা অন্য রকম। সরাপডদের বিশাল শরীরে পুষ্টি জোগানর জন্য তা উপযুক্ত ছিল না।
ইংল্যান্ড, জার্মানি ও ব্রাজিলের বিজ্ঞানীদের একটি
দল
গবেষণা করে দেখেন যে, আবহাওয়া পরিবর্তন হওয়ার
ফলে, অনেক প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যায়। এমনকি যে কুমির জাতীয়
জীবটি, যারা রাজ করছিল এত দিন, তারাও অবলুপ্ত হয়ে যায়। এবার, একটু একটু করে সরাপড ডাইনোসরদের বিস্তার ঘটতে থাকে পৃথিবীতে।
গবেষণা পত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ‘কারেন্ট বায়োলজি’ জার্নালে।
ছবি: উইকিপিডিয়া কমন্স

Comments
Post a Comment