টইটেনোসরাসের হ্যাচারি ভারতের মধ্যপ্রদেশ
মধ্যপ্রদেশের নর্মদা উপত্যকা যদি কখনও যান, জানবেন আপনি ডাইনোসরদের খাস তালুকে পা রেখেছেন। আজ যে ভাবে নর্মদা নদী বয়ে
যায়, কোটি কোটি বছর আগে ঠিক তেমন ভাবেই বইত কিনা বলা
মুস্কিল। তবে যেখানে বিন্ধ্যাচল ও সতপুরা পর্বতমালা একে অপরের সঙ্গে মিলেছে,
সেই অমরকণ্টক থেকে নর্মদার যাত্রা শুরু। সেই সব জায়গা এখনও অরণ্যে
ঢাকা। বন্য প্রাণীও আছে, প্রায় ৭৬ প্রজাতির। তার মধ্যে আছে
আমাদের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, গওর বা বুনো মোষ, ঢোল বা বন্য কুকুর, ভালুক, চৌসিঙ্গা
বা এক প্রজাতির হরিণ ও বø্যাকবাক।
এক কালে, এখানে যত্রতত্র ঘুরে
বেড়াত ডাইনোসরেরা। সেটা ছিল ক্রিটেসিয়াস যুগের শেষ দিক। অর্থাৎ, ৬৬.৬ মিলিয়ন বা সাড়ে ছ’ কোটি বছর আগে। আর তারা কোনও
হেঁজিপেঁজি, এলেবেলে ডাইনোসর ছিল না। তারা ছিল টাইটানোসরাস।
সমগ্র ডাইনোসর কূলে বৃহত্তমদের মধ্যে একটি দৈত্যকায় প্রজাতি। তাদের আকৃতির কথা মনে
রেখেই তাদের নাম রাখা হয়। গ্রিক শব্দ ‘টাইটান’-এর মানে হল প্রকাণ্ড, শক্তিমান। তাই তাদের নাম দেওয়া
হয় টাইটানোসরাস।
নর্মদা উপত্যকা ধার জেলায় সম্প্রতি পাওয়া গেছেটাইটানোসরাসের ২৫৬ টি ডিমের ফসিল। এই আবিষ্কার করেছেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের
গবেষক হর্ষ ধিমান। ‘প্লসওয়ান’ জার্নালে
প্রকাশিত হয়েছে তাঁর গবেষণা পত্রটি। তাঁর ওই আবিষ্কার প্রমাণ করছে যে, নর্মদা উপত্যকা এক সময় দাপিয়ে বেড়াত টাইটানোসরাসের দল। তাদের প্রতিটি
পদক্ষেপে ধরিত্রী কেঁপে উঠত কিনা কে জানে!
ধিমান জানিয়েছেন, ওই
ডাইনোসরেরা তাদের ডিমগুলি গর্তের মধ্যে রেখে ছিল। ঠিক যেমন আজকের কুমিররা তাদের
ডিম বালিতে গর্ত খুঁড়ে রাখে। ডিমগুলি যে ভাবে রাখা ছিল, তা
থেকে অনুমান করা হচ্ছে যে, টাইটানোসরেরা পাথির মত একটার পর
একটা করে ডিম পাড়ত।
তাছাড়া ডিমগুলি কাছাকাছি জায়গার মধ্যে পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, তাদের বাসাগুলি দূরে দূরে ছড়িয়ে ছিল না। কাছাকাছি ছিল। যেমন পাশাপাশি গাছে
থাকে পাখির বাসা। কিন্তু, ধিমান বলেছেন, বাসাগুলি এতটাই কাছাকাছি ছিল যে সেখানে প্রাপ্তবয়স্ক টাইটানোসরদের
আসাযাওয়া করার মতো জায়গা ছিল না। কোনও মা টাইটানোসর যদি তার বাসার কাছে আসার
চেষ্টা করত, তা হলে আশেপাশের বাসাগুলি ডিম সব গুঁড়িয়ে যেত নি:সন্দেহে। কিন্তু ফসিলগুলি দেখিয়ে দিচ্ছে, তা হয়নি। ডিমগুলি অক্ষত ছিল।
ধিমান বলেছেন, সম্ভবত, ডিম পাড়ার পর টাইটানোসর মা বাবারা আর সেমুখো হত না। ডিম ফুটে বাচ্চা বেরত
আর বাঁচার লড়াইটা তাদের একাই করতে হত। মা বাবা তাদের আগলে রেখে বড় করে তুলত না। তার
ফলে হয়ত খুব কম ছানাই বাঁচত। প্রকৃতির এই আপাত নির্মম নিয়মের একটা ব্যাখ্যা অবশ্য
করা যায়। বেশি বাচ্চা বাঁচলে তো পাহাড় প্রমাণ টাইটানোসরদের চলেফিরে, খেয়েদেয়ে বেঁচে থাকার উপায়ই থাকত না। এর আগে জব্বলপুর ও বালাসিনোর-এ
ডাইনোসরদের বাসার ফসিল পাওয়া গিয়েছিল। এবার মিলল ধার জেলায়। গবেষণা পত্রটির অপর এক
লেখক, গুন্টুপল্লি প্রসাদ, বলেছেন দেখা
যাচ্ছে, নর্মদা উপত্যকা এক সময় ছিল সারা বিশ্বে ডাইনোসরদের সব
চেয়ে বড় হ্যাচারি।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স

Comments
Post a Comment