এক চিলতে বাগানে হাজারও প্রাণীর বাস

 


আজকাল বাড়ির লাগোয়া খালি জায়গা বিশেষ দেখা যায় না। যেখানে একটু মাটি থাকে, ঘাস গজায়, কয়েকটা ফুলের গাছে ফুল ফোটে। যেখানে একটু রোদ পড়ে। পাখিরা আসে। তবুও কারোর বাড়ির যদি সংলগ্ন সেই রকম একচিলতে জমি থাকে, তাহলে জানবেন সে এক বিস্ময়কর জায়গা।

সেই রকম জায়গা যে প্রাণীদের স্বর্গরাজ্য হতে পারে, কে জানত? অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন শহরের তিন বিশেষজ্ঞ - গণিতবিদ ম্যাট হোল্ডেন, পরিবেশবিদ অ্যান্ড্রু রজার্স ও জীববিজ্ঞানী রাসেল ইয়াঙ্গ - থাকতেন একই বাড়িতে। ২০২০তে কোভিড চলা কালে, তাঁরা বাড়িতেই দিন কাটাচ্ছিলেন। শিক্ষাকেন্দ্রে বা গবেষণাগারে যাওয়ার তেমন সুযোগ ছিল না তখন। তাই তাঁরা ঠিক করলেন, তাঁদের বাড়ির লাগোয়া যে খালি জায়গাটি আছে, সেখানে আসলে কী আছে, তা অনুসন্ধান করে দেখবেন।

একদিন ঘরের মধ্যে জমে ওঠা ঝুল ঝাড়তে লেগেছিলেন রজার্স। তা করতে গিয়ে দুএকটা মাকড়সার উপস্থিতি নজরে আসে তাঁর। তখনই মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগে যে, তাঁদের বাড়ি ও তার সংলগ্ন বাগানে কত রকমের প্রাণী থাকতে পারে। তিনজনে ঠিক করেন, দেখাই যাক না।

কাজ শুরু করার আগে, বেশ কয়েক জন বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদের কাছে তাঁরা জানতে চান, কত রকমের প্রাণী থকেতে পারে তাঁদের বাড়ি ও বাগানে। ২০০র বেশি নয়, তেমনই একটা সংখ্যা উঠে আসে সকলের অভিমত থেকে।

কিন্তু অনুসন্ধান যতই এগোতে থাকে, তিন বিশেষজ্ঞের বিস্ময় ততই বাড়তে থাকে। দুমাসের মধ্যেই তাঁরা ৭৭৭ প্রজাতির প্রাণীর হদিশ পান। তাঁরা বলেন, শহরাঞ্চলের বাড়িঘর ও তার লাগোয়া জমিতে আশাতীত সংখ্যার প্রাণী বসবাস করে। তাদের মধ্যে পোকারাই সংখ্যায় ভারি। এক বছরের মধ্যে তাঁরা পান ১,১৫০ প্রাণীর সন্ধান। তাদের মধ্যে ছিল ছোট জন্তু, পাখি, পোকা, গাছ ও ছত্রাক।

হোল্ডেন বলেছেন, তাঁদের বাড়ি ও তার পারিপার্শ্বিক হলো একটি বাস্তুতন্ত্র, যেখানে বাস করে হাজারও প্রজাতির প্রাণী। তিনি মনে করেন, সব শহরতলির বাড়ি ও তাদের উঠনগুলি এক একটি বাস্তুতন্ত্র, যেখানে রয়েছে প্রাণের বিপুল সম্ভার।

সেটা আপনার আমার বাড়িও হতে পারে।

ছবি: অনীশ গুপ্ত


Comments