জল - চাহিদা বড়ছে, যোগান কমছে
গ্রীষ্ম আসছে। জলের চাহিদা বাড়ছে। পৃথিবীজুড়ে জলের চাহিদা
এবং জলের যোগানের মধ্যে বিস্তর ফারাক সৃষ্টি হয়েছে। ফলে, অনেক দেশের বহু মানুষ তাঁদের মিষ্টি জলের জাহিদা মেটাতে পারেন না। জলের
সন্ধানে যেতে হয় অনেক দূর। সেখানে লাইনে দাঁড়াতে হয় অনেক ক্ষণ। বচসাও বাধে। তারপর
হাতাহাতি যে হয় না, এমনও নয়।
বর্তমানে পৃথিবী জুড়ে মিষ্টি জলের যে ঘাটতি রয়েছে তা
বিপুল। বছরে ৪৫৮০০ কোটি ঘন মিটার জলের ঘাটতি দেখা দেয় বিশ্বে। হিসেব কষে এমনই এক
সংখ্যার কথা বলা হয়েছে ‘নেচার কমিউনিকেশন’ জার্নালে।
এই ঘাটতি কি করে মেটান যাবে তা স্পষ্ট নয় এখনও। অন্যদিকে, আশঙ্কা
হল, উষ্ণায়ন জলের চাহিদা আরও বাড়িয়ে দেবে।
মনে করা হচ্ছে, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা
যদি শিল্প বিপ্লবের আগের গড় তাপমাত্রার তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যায়,
তা হলে, জলের চাহিদা আরও ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
আর গড় তাপমাত্রা যদি সে যুগের তুলনায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ে, তা হলে চাহিদা বেড়ে হবে ১৫ শতাংশ। শিল্প বিপ্লবের আগে, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রাকেই একটা মাপকাঠি হিসেবে ধরা হয়। কারণ, সেই সময়, মানুষের কার্যকলাপের দরুন সৃষ্টি হওয়া
গ্রিনহাউস গ্যাস তেমন তৈরি হত না। শিল্প বিপ্লবের পর থেকেই ওই গ্যাস সৃষ্টি হয়ে
আকাশে জমতে থাকে। যা আজকের উষ্ণায়নের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।
ওই গবেষণা পত্রে বলা হয়েছে, যে সব জায়গায়
এখন জলের ঘাটতি অনুভব করা যাচ্ছে না, সেখানেও সমস্যা দেখা
দেবে। তার মধ্যে সব চেয়ে বেশি সংকট দেখে দেবে ভারতে। তার পর চিনে। এবং চিনের পর
যথাক্রমে তীব্র সংকটের মুখে পড়বে পাকিস্তান, মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন ও তুরস্ক। উষ্ণায়নের কারণে জলবায়ু
পরিবর্তন আরও প্রকট হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে, অনেক জায়গায় বৃষ্টিপাত
বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সব দেশে, জলের ঘাটতি কমে
যেতে পারে। সেই তালিকায় রয়েছে ফিলিপাইনস, সুদান, ভিয়েতনাম, উজবেকিস্তান, সংযুক্ত
আরব আমিরশাহী, তাজিকিস্তান ও ইথিওপিয়া। এগুলির মধ্যে
ফিলিপাইনস ও ভিয়েতনাম ছাড়া বাকি দেশগুলিতে বর্তমানে বৃষ্টি কম হয়। উষ্ণায়ন যে কী ধরনের
পরিবর্তন আনতে চলেছে, তার একটা আভাস পাওয়া যাচ্ছে ওই গবেষণা
পত্রে।
তাতে আরও বলা হয়েছে, যে সব অঞ্চলে বছরে দু’
মাস জলের সংকট দেখা দেয়, সেই সব অঞ্চলে বাস
করেন ৪০০ কোটি মানুষ। তাছাড়া, পৃথিবীতে সেচের জলে যে সব
জমিতে চাষ হয়, তার অর্ধেক আছে রয়েছে সেখানে। তাই, উষ্ণায়ন আরও বৃদ্ধি পেলে ও জলের ঘাটতি আরও বাড়লে, এক
বিপুল সংখ্যক মানুষ চরম সংকটের মধ্যে পড়বেন।
ছবি: উিইকিপিডিয়া কমন্স

Comments
Post a Comment