প্রকৃতি তৈরি করছে প্লাস্টিকের পাথর
প্রকৃতিতে এখন নতুন নতুন পাথর তৈরি হচ্ছে। প্রকৃতি সব
সময়ই নতুন কিছু তৈরি করে, বদল ঘটায়। বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে তাই হয়ে
থাকে। কিন্তু প্রকৃতি এখন মানুষের সৃষ্ট বস্তুকে কাজে লাগাচ্ছে নিজের মতো করে।
যেমন, নানা ধরনের পাথর, শিলাখণ্ড তো প্রকৃতি তৈরি করে চলেছে এই গ্রহের আদি
পর্ব থেকে। ভূতত্ত্ববিদরা বলতে পারবেন কত ধরনের পাথর আছে
পৃথিবীতে। বিভিন্ন বস্তু, তাপ-উত্তাপ, চাপ
আর রাসায়নিক পদার্থের আলাদা আলাদা মিশেল দিয়ে সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবীর বৈচিত্র্যময়
প্রস্তর সম্ভার। কিন্তু সেই পাথর তৈরির কাজে আকাশ থেকে ঝরে পড়া উল্কার অবদান
থাকলেও, মানুষের কোন হাত ছিল বলে কেউ বোধহয় দাবি করবেন না।
তবে ইঁটকে যদি এক ধরনের পাথর বলে গণ্য করা হয়, তাহলে হয়ত বলা যেতে পারে যে, সেই সিন্ধু সভ্যতা বা
তুরস্কের জনপদের যুগ থেকে (প্রায় ৭,০০০ বছর আগে) মানুষ পাথর
তৈরি করছে। আগুনে পুড়িয়ে তৈরি করছিল মাটির ইঁট। তার সঙ্গে যোগ করা যেতে পারে বাড়ি,
বড় স্থাপত্য বা বাঁধ নির্মাণের পদার্থ সিমেন্ট, বালি আর পাথর কুচির মিশ্রণ কংক্রিট। রাস্তায় কংক্রিটের ভাঙ্গা টুকরো পড়ে
থাকলে তাকে পাথর বলে মনে হতে পারে। এক অর্থে সেটা মানুষের তৈরি কৃত্রিম পাথরই বটে।
তবে ইঁট বা কংক্রিট একান্তই মানুষের তৈরি বস্তু। প্রকৃতির কারখানায়, প্রাকৃতিক উপায়ে সেগুলি তৈরি হয় না।
কিন্তু এখন, মানুষের ফেলে দেওয়া
প্লাস্টিককে কাজে লাগিয়ে প্রকৃতি তার নিজস্ব পদ্ধতিতে তৈরি করছে নতুন ধরনের পাথর,
প্লাস্টিকের পাথর। পাঁচ মহাদেশের ১১ দেশে এই ধরনের প্লাস্টিক যুক্ত পাথর পাওয়া
গেছে। ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের আবর্জনা কাজে লাগিয়ে প্রকৃতি সেগুলিকে তৈরি করেছে।
বিজ্ঞানীরা সেগুলির অনেক রকম নাম দিয়েছেন – প্লাস্টিস্টোন, প্লাস্টিক্রাস্ট, , প্লাস্টিটার, অ্যানথ্রোপোকুইনাস ও
প্লাস্টিস্যান্ডস্টোন।
প্লাস্টিকের পাথরের সন্ধান প্রথম পাওয়া যায় ১১ বছর আগে।
প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপে। এখনও পর্যন্ত হাওয়াই, ব্রাজিল, বাংলাদেশ, চিন,
জাপান, ভারত, ইতালি,
পর্তুগাল, পেরু, যুক্ত
রাজ্য ও কারি দ্বিপের মতো ১১ দেশে এই রকম পাথর দেখা গেছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা,
প্লাস্টিকের পাথর তৈরি হতে থাকলে, মাটির
চরিত্র বদলে যেতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে জীব চক্রের ওপর।
ছবি: সৌজন্য Yahoo

Comments
Post a Comment