ভলো হরমোন বাড়ায় কুকুর, বেড়াল
অনেকে
বলেন, বাড়িতে কুকুর থাকলে মানুষের মন ও শরীর
দুইই ভালো থাকে। তা সে দেশি বা বিদেশি, যাই হোক না কেন। কিন্তু তাঁদের ওই ধারণা ও আচরণের সত্যিই কি কোনও
বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে? নাকি তা নেহাতই আবেগতাড়িত ভাবনা?
নেকড়ে
থেকে কুকুর এসেছে, এটাই প্রতিষ্ঠিত ধারণা। কিন্তু মানুষের
সঙ্গে তাদের আচরণের ক্ষেত্রে নেকড়ে আর কুকুরের মধ্যে মিল পাওয়া ভার। কুকুর মানুষের
সঙ্গে চোখে মুখে কথা বলে। বাড়িরই হোক বা রাস্তার, তারা মানুষের আদর, ভালবাসা
পেতে উদ্গ্রীব। ওদের গায়ে মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে হঠাৎ থেমে গেলে, পা নেড়ে ইশারা করে বলে, “থেমো না, আরও চাই।” নেকড়ে মানুষের চোখের দিকেই তাকায় না।
‘সায়েন্টিফিক আমেরিকান’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি লেখা থেকে জানা
যাচ্ছে যে, কুকুরের ও মানুষের ভালোবাসার সম্পর্ক
উভয়েরই উপকার করে। দেখা গেছে, চেনা
কুকুরের সঙ্গে সময় কাটালে মানুষ ও কুকুরের শরীরে ‘বেটা-এন্ডোরফিন’, ‘অক্সিটোসিন’ ও ‘ডোপামিন’-এর মতো জরুরি হরমোনের মাত্রা উভয়ের
মধ্যেই বেড়ে যায়। এগুলি ¯œস্নায়ুতন্ত্রের ওপর কাজ করে, এবং ইতিবাচক অনুভূতি ও মানসিক বন্ধন
সৃষ্টি করে।
কিন্তু
কোনও ব্যক্তি যখন তাঁর পোষ্যটির চোখে চোখ রেখে তার দিকে স্নেহভরা দৃষ্টিতে তাকান, তখন মানুষ ও কুকুরের ওপর সেই চাহনির
প্রভাব হয় বিশেষ উল্লেখযোগ্য। উভয়ের শরীরেই তখন অক্সিটোসিনের নিঃসরণ অনেকটাই বেড়ে
যায়। এমনটাই দেখেন জাপানের আজাবু ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী মিহো নাগাসাওয়া। তাঁর
গবেষণা পত্রটি প্রকাশিত হয় ‘সায়েন্স’ জার্নালে।
এই
অক্সিটোসিনকে বলা হয় ‘লাভ হরমোন’ বা ভালোবাসার হরমোন। এটি শিশুকে
জন্মাতে সাহায্য করে। মায়ের দুধ তৈরিতে সহায়ক হয়। মনকে চাপমুক্ত করে। একে অপরের
মধ্যে আস্থা বাড়ায়। এবং সামগ্রিক মানসিক অবস্থাকে স্থিতিশীল রাখে। এমনকি একজন
পুরুষ ও নারীর ভালোবাসার মধ্যেও নিঃশব্দে তার অবদান রেখে যায় ওই অক্সিটোসিন।
অন্যদিকে অক্সিটোসিনের ঘাটতি মনকে অস্থির করে। এমনকি অবসাদের দিকেও ঠেলে দিতে পারে
মানুষকে।
আবার, একজন মা যখন তাঁর সন্তানের দিকে তাকিয়ে
থাকেন, তখন তাঁর সেই মমতা-ভরা চাহনি তাঁর ও
তাঁর শিশুর শরীরে অক্সিটোসিনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে মা ও সন্তানের মধ্যে সৃষ্টি করে
এক নিবিড় বন্ধন। ঠিক সেই ভাবে, কুকুর
ও মানুষ যখন একে অপরের দিকে চেয়ে থাকে, তাদের শরীরে নিঃসৃত অক্সিটোসিনও তেমনই এক বন্ধন তৈরি করে ব্যক্তি ও
তাঁর পোষ্যের মধ্যে।
বিজ্ঞানী
নাগাসাওয়া নেকড়েদের নিয়েও পরীক্ষা চালান। দেখা যায়, কুকুরের পূর্বসূরি হওয়া সত্ত্বেও, নেকড়ে ও মানুষের দৃষ্টি একে অপরের ওপর নিবদ্ধ হলেও — যা সাধারণত হয় ক্ষণস্থায়ী — তাদের শরীরে অক্সিটোসিন হরমোনের
মাত্রার কোনও হেরফের হয় না।
‘দ্য কনভারসেশন’-এ প্রকাশিত একটি লেখা থেকে জানা যাচ্ছে
যে, এই বিষয়ে বেড়ালদের নিয়েও গবেষণা হয়েছে
ইদানীং। বিশেষ করে মানুষ ও কুকুরের সম্পর্কের মধ্যে অক্সিটোসিনের ভূমিকা প্রকাশ্যে
আসার পর। দেখা গেছে, যাঁরা বেড়াল পোষেন, পোষ্যকে আদর করলে, উভয়ের মধ্যেই অক্সিটোসিন বৃদ্ধি পায়।
দু’জনেরই শরীর ভালো থাকে। উল্লেখযোগ্যভাবে
চাপমুক্ত হন বেড়ালে পোষকরাও।
কিন্তু এও দেখা গেছে যে, সব বেড়াল আদর পছন্দ করে না। তারা নিজের মতো থাকতে চায়। এবং তাদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাদের কোলে তুলে নিয়ে আদর করলে, অক্সিটোসিন কমে যায় তাদের শরীরে। অর্থাৎ, চোখে মুখে প্রকাশ না করলেও, তাদের বিরূপতা ধরা পড়ে তাদের শরীরের রসায়নে। আর এও দেখা গেছে যে, বেড়াল বেশিক্ষণ মানুষের চোখের দিকে তাকায় না।
ছবি নিজস্ব


Comments
Post a Comment