ওরাংওটাংয়ের শরীরচর্চা
ইন্দোনেশিয়ায়
বর্ণিওর গভীর বর্ষারণ্যে বাস কারে আমাদের এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় — ওরাঙ্গওটাং। প্রাণী জগতে মানুষের অতি
ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের মধ্যে তারা এক জন। এখন তারা ঘোরতর বিপন্ন। এবং
মানুষই তাদের বিলুপ্তির দোরগোড়ায় নিয়ে
গিয়ে দাঁড় করিয়েছে।
ওরাংওটাং এক বিস্মকর প্রাণী। তাদের ওজন বাড়েও না, কমেও না।
শরীরের ওজন ধরে রাখতে তারা খাওয়া নিয়ন্ত্রণ ও দৌড়ঝাঁপের ওপর নির্ভর করে।
পরিস্থিতির
সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তাদের জুড়ি মেলা ভার। জঙ্গলে খাদ্য প্রচুর
পরিমাণে থাক বা ঘাটতি দেখা দিক, ওরাঙ্গওটাংরা
তাদের শরীরের ওজন বজায় রাখতে পারে। বেশি খেয়ে তারা মোটা হয়ে যায় না, বা কম খেয়ে রোগা। স্বাস্থ্য ঠিক রাখার ব্যাপারে, আমরা ওরাংওটাংদের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারি, বলছেন গবেষকরা।
রাটগারইউনিভার্সিটির তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল ১৫ বছর ধরে বোর্র্নিওর জঙ্গলে ওরাংওটাংদের নিয়ে গবেষণা করেন। তাঁরা দেখেন, সেখানকার ওরাংওটাংরা অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়। যেমন, খাদ্যের জোগানের ওপর ভিত্তি করে ওরা
ঠিক করে কতটা খাবে, আর সেই অনুযায়ী নির্ধারিত হয় তাদের
কর্মকাণ্ড ও এনার্জির ব্যবহার।
যখন
জঙ্গলে ফলের সরবরাহ কমে যায়, তখন
তারা গাছে গাছে ঝোলাঝুলি লম্ফঝম্প কমিয়ে দেয়। তার ফলে, শক্তি বা এনার্জির চাহিদা কমে। এবং
শরীরে মজুত এনার্জির সাশ্রয় হয়। আবার উলটোটা ঘটে যখন, ফলে ফলে ভরে ওঠে জঙ্গল। তখন
খাওয়া-দাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায় দৌড়ঝাঁপ আর এনার্জি ক্ষয়। ফলে, তাদের চেহারায় বিশেষ হেরফের দেখা যায়
না।
গবেষকরা
বলেছেন যে, ওরাংওটাং ও মানুষের শরীরে অনেক মিল থাকার
ফলে আমাদের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া তাদের সঙ্গে মেলে। ওরা যেভাবে খাওয়া
নিয়ন্ত্রণ করে ও এনার্জির চাহিদা কমায়, তা মানুষের কাছে শিক্ষণীয় হতে পারে। মানুষের বিপাক প্রক্রিয়াও, খাবার ও এনার্জির মধ্যে একটা সামঞ্জস্য
বজায় রাখতে পারে, কিন্তু আমাদের প্রক্রিয়াকরণ করা খাবার
ও জীবনযাত্রার ধারা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মানুষের একটা বড় অংশ যতটা খায় সেই তুলনায়
কায়িক শ্রম করে না। ফলে, শরীরে উদ্বৃত্ত এনার্জি চর্বি হয়ে জমা
হতে থাকে। এবং নানা রোগ দানা বাঁধে।
ছবি: উইকপিডিয়া কমন্স
Comments
Post a Comment