ভয় পেয়েছে শিকারীরা

 



দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রেটার ক্রুগার ন্যাশনাল পার্ক ও ভারতের কাজিরাঙ্গা ন্যাশনাল পার্কের মধ্যে একটি বিশেষ মিল আছে। দুটিই সুরক্ষীত অরণ্য, কিন্তু দুজায়গাতেই প্রাণীদের ভয়ের যথেষ্ট কারণ আছে। বিশেষ করে, ওই দুই অভয়ারণ্যে গন্ডারদের খুবই ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়। মানুষের ভয়! কখন যে ও পেতে থাকা চোরা শিকারীরা তাদের হত্যা করে বসে, তার কোনও দিনক্ষণ বাঁধা নেই।

বিশ্ব বাজারে গন্ডারের শিংয়ের বিপুল চাহিদা রয়েছে আজও। কিছু বিশেষ ধরনের ওষুধ তৈরি করতে কাজে লাগে তাদের শিং। তাই শিকারীরা তাদের হত্যা করে শিং কেটে নিয়ে বিক্রি করে চোরা বাজারে। ক্রুগার ও কাজিরাঙ্গা, উভয় অভয়ারণ্যেই চলে ওই নৃশংস অবৈধ ব্যাবসা।

তবে, ২০১৩ থেকে, ক্রুগারে, ও ২০১৬ থেকে কাজিরাঙ্গায়, শিকারীদের উপদ্রব কমেছে বলে জানা গেছে।

ক্রুগারে এখন বন পাহারা দেয় ব্ল্যাক মাম্বা। ব্ল্যাক মাম্বা হল আফ্রিকার এক প্রজাতির অত্যন্ত বিষধর সাপ। ওই অভয়ারণ্যের বাসিন্দাদের সুরক্ষা দিতে তৈরি হয়েছে একটি মেয়েদের বাহিনী। তার নাম রাখা হয়েছে ব্ল্যাক মাম্বা। ২০১৩ থেকে ওই মেয়েরাই নজর রাখছেন শিকারীদের চলাফেরার ওপর। ফলে, বিশেষ সুবিধে করতে পারছে না তারা। ব্ল্যাক মাম্বারা প্রতি দিন অরণ্যের মধ্যে ২০ কিমি হেঁটে টহল দেন। পশু পাখিরা কেমন আছে তা দেখেন। বিশেষ নজর থাকে গন্ডারদের ওপর, যারা ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কে শিকারীদের প্রধান লক্ষ্য। কোথাও কিছু অস্বাভাবিক লক্ষ্য করলে সঙ্গে সঙ্গে খবর পাঠান কর্তৃপক্ষের কাছে। বলা হচ্ছে, জঙ্গলে ব্ল্যাক মাম্বারা নজরদারি শুরু করার পর, চোরা শিকারীদের আক্রমণ প্রায় ৬৩ শতাংশ কমে গেছে। মহিলাদের শক্তি অনেকটাই প্রতিহত করতে পেরেছ তাদের।

ভারতের কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানের গন্ডাররাও আজ আগের তুলনায় অনেক বেশি সুরক্ষীত। ২০১৬র পর থেকে সেখানকার অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে। কাজিরাঙ্গায় কড়াকড়ি এতটাই যে চোরা শিকারীদের লক্ষ করে গুলি চালানরও অনুমতি দেওয়া আছে বন বিভাগের সশস্ত্র কর্মীদের। তার ফলে, নানা মহলে বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু গন্ডার শিকার অনেক শতাংশ কমেছে। তাছড়া, কাজিরাঙ্গায় বন্যপ্রাণী বাঁচানর কাজে গ্রামবাসীরাও সরাসরি যোগদান করেন। ফলে, চোরা শিকারিরা পেছু হটতে বাধ্য হয়েছে।

ন্ডারের আরও একটি বাসস্থান হল পশ্চিমবঙ্গের জলদাপাড়া। সেখানেও সংরক্ষণের কাজে ফল মিলেছে। ডাউন টু আর্থ’-এর প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে, ১৯৮০তে সেখানে গন্ডারের সংখ্যা চোদ্দয় নেমে গিয়েছিল। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৯২।

ছবি: উইকিপিডিয়া কমন্স

পড়ুন-শেয়ার করুন-ফলো করুন

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভালো হরমোন বাড়ায় কুকুর, বেড়াল

গাছেরা কি দেখতে পায়

অন্ধকারকে মানুষ ভয় পায় কেন