উট কাঁটা বেছে খায় না
উটরা কি
কাঁটা বেছে খায়? সোনার কেল্লায় যাওয়ার পথে, এই অতি জরুরি প্রশ্নটা জেগে ছিল জটায়ুর মনে। মরুভূমিতে গাছপালা তো তেমন থাকে না। যেগুলি থাকে,
অনেক ক্ষেত্রে সেগুলির ডাল পালা আবার কাঁটায় ভরা। তা হলে, মরুভূমিতে উটেরা খায় কী? লাইভ সায়েন্স-এ প্রকাশিত
একটি লেখা থেকে উটেদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জানা গেল বেশ কিছু কথা। জটায়ু যেবার
ফেলুদার সঙ্গে মরুপ্রান্তর পেরিয়ে সোনার কেল্লায় যাচ্ছিলেন, সেই
সময় উটেদের খাদ্য তালিকা ও তাদের খাওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে এত কিছু জানা ছিল না।
লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের সঙ্গে কথা
বলে, লাইভ সায়েন্স জানতে পারে
যে, মরুভূমিতে থাকতে থাকতে, সেখানকার
পরিবেশের সঙ্গে নানা ভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে উটেরা। তিন ধরনের উট আছে পৃথিবীতে।
‘ক্যামেলাস ড্রোমেডারিয়াস’, ‘ক্যামেলাস
ব্যাক্ট্রিয়ানাস’ ও ‘ক্যামেলাস ফেরাস’। এদের সকলের পিঠে কুঁজ আছে। ব্যাক্ট্রিয়ানাস উটের পিঠে আবার থাকে দু’টো কুঁজ। তাতে জমা থাকে চর্বি। দুর্দিনে, কুঁজে
সঞ্চিত চর্বিই ওদের শক্তি যোগায়। তাছাড়া, মরুভূমির কঠিন
খাদ্য বেছে বেছে খাওয়ার জন্য, ওদের ঠোঁটগুলিও বিশেষ ভাবে
তৈরি। তাদের ওপরের ঠোঁটটি দু’ ভাগে বিভক্ত। দু’টি ভাগ আবার নিজের মতো আলাদা আলাদা ভাবে নড়াচড়া করে। এর ফলে মরুভূমিতে যে
ছোট ছোট ঘাস গজায়, সেগুলি ঠোঁটের সাহায্যে তুলে নিতে সুবিধে
হয় তাদের। লাইভ সায়েন্সকে এ কথা জানিয়েছেন মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ডিয়েগো চিড়িয়াখানার বিশেষজ্ঞরা।
তাদের ঠোঁটগুলির চামড়া খুব মোটা ও শক্ত। আবার
একই সঙ্গে খুব নমনীয়ও বটে। সহজেই নানা ভাবে নড়াচড়া করতে পারে সেগুলি। ফলে, জটায়ুর সেই প্রশ্নের উত্তরটা পাওয়া গেল এবার, এত কাল পরে। স্যান ডিয়েগো
চিড়িয়াখানার বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, তাদের ওই ঠোঁটের গুণে,
উটেরা কাঁটা গাছের ডাল ভেঙ্গে খেতে পারে। এ ছাড়াও, তাদের মুখের মধ্যে প্যাপিলে বলে এক ধরনের মাংসপিণ্ড থাকে।
সেগুলি তাদের ছুঁচলো খাবার খেতে সাহায্য করে। দেখা গেছে গাছের কাঁটাকে বিশেষ
গুরুত্ব দেয় না তারা। সেই সব গাছ বরং পছন্দই করে। মরুভূমির ঘাসও তারা উপভোগ করে।
আর এক ধরনের গাছ হয় মরুভূমিতে। সেগুলির পাতায় থাকে নোনা ভাব। সেই ঘাছও উটেদের খুবই
পছন্দের খাবার।
উটের থাকে তিন থেকে চারটি পাকস্থলি। উটের
প্রজাতির ওপর নির্ভর করে সংখ্যাটা। মরুভূমির ওই সব কঠিন খাবার, এক পাকস্থলি থেকে আর
একটিতে গিয়ে হজম হতে থাকে। তবে খাবার যদি সময় মতো নাও মেলে, তাতেও
উটেরা বিচলিত হয় না। জল ছাড়া তারা সাত দিন পর্যন্ত বাঁচতে পারে। আর খাদ্য ছাড়া
বাঁচতে পারে কয়েক মাস।
ছবি: রাজস্থান/অনীশ গুপ্ত

Comments
Post a Comment