অ্যামাজনে ছানাধরাদের উপদ্রব চলছে

 

সাও পাওলোতে উদ্ধার-করা টার্কয়েজ ফ্রনটেড’ টিয়ার বাচ্চা

অগস্ট আর সেপ্টেম্বর, এই দুটো মাস খুব দুঃসময় অ্যামাজনের টার্কয়েজ ফ্রনটেডটিয়াদের জন্য। অসাধারণ দেখতে ওই পাখি। বুকটা তাদের নীল-সবুজ পালকে ঢাকা। চোখের চারপাশটা হলুদ। আর চোখের মনিটা একটা লাল রিং দিয়ে ঘেরা। ওই দুটি মাসে তাদের বাচ্চারা একটু বড় হয়ে ওঠে। ছোট ছোট ডানা গজায় তাদের। কিন্ত ডানা মেলে উড়ে যাওয়ার মতো বড় হয়ে ওঠে না তখনও। মায়েরা খাবার নিয়ে এলে, তারা বাসায় বসেই মায়ের মুখ থেকে খাবার খায়। ওই সময়, টিয়ার ছানাদের ডাকে ভরে ওঠে অ্যামাজনের জঙ্গল। টিয়াদের কাছে এ এক অতি সুখের সময় হওয়ারই কথা। কিন্তু ওই আনন্দমুখর দিনগুলিতেই হঠাৎই শোকের ছায়া নামে অ্যামাজনের বনে।

গাছে গাছে টিয়াদের বাসা থেকে এক এক করে উধাও হয়ে যেতে থাকে বাচ্চারা। টিয়া দম্পতিরা উড়ে উড়ে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়ায় তাদের। কিন্ত দেখা মেলে না আর। খাঁচাবন্দী হয়ে, জঙ্গলের চোরাপথ দিয়ে, তারা পাচার হয়ে যায় বনের সীমানার বাইরে। এক অচেনা, অজানা ইঁট-কাঠের জঙ্গলে চিরকালের জন্য হারিয়ে যায় ওই নীল-সবুজ টিয়ার শিশুরা। মোঙ্গাবে-তে প্রকাশিত ডিমাস মার্কেজ-এর  এক বিস্তারিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে ওই মর্মান্তিক চোরাচালেন কথা

প্রতি বছরই এমনটা হয়। প্রতি বছরই, তাদের পালক গজানর আগে, এমনকি চোখ ফোটেনি এমন অবস্থাতেও,  প্রায় ১২ হাজার টিয়ার বাচ্চা তুলে নিয়ে যায় ব্রাজিলের পাখি পাচারকারীরা। তারপর ছোট ছোট অন্ধকূপের মত জলহীন বাক্সে পুরে ফেলে তাদের। আর সেই বাক্স নিয়ে ট্রাক ছোটে ব্রাজিলের সাও পাওলো শহরের দিকে। ওই দুর্বিসহ যাত্রাপথে মারা যায় অনেক ছানা। যেগুলি বাঁচে, সেগুলি চড়া দামে বিক্রি হয়ে যায় সাও পাওলোর বেআইনি পাখি বাজারে। ব্রাজিল ও বিশ্বের নানা দেশে ওই টিয়ার খুব চাহিদা রয়েছে।

যারা জঙ্গল থেকে টিয়ার বাচ্চা ধরে চালান করে, কত টাকা পায় তারা? প্রতিবেদনটি থেকে জানা যাচ্ছে, বাচ্চা পিছু ৪.৫০ থেকে ৭.২৫ মার্কিন ডলার। এখনকার ভারতীয় টাকার মূল্যে তা দাঁড়ায়, প্রায় ৩৬০ থেকে ৫৮০টাকা। আর পাখি ব্যবসায়ীরা এক একটি বাচ্ছা বিক্রি করে ৩৬ থেকে ৮২ মার্কিন ডলারে (২,৫৬০ - ,৫৬০ টকায়)।

সহজেই কথাবলতে শিখে যায় বলে, অনেকে তাদের পুষতে চান। কিন্তু ওই চোরাচালান ত্রমশ বিপন্ন করে তুলছে ওই প্রজাতির টিয়াদের।

ব্রাজিল ছাড়াও দক্ষিণ আমেরিকার আরও কয়েকটি দেশে পাওয়া যায় ওই টিয়া। কিন্তু তাদের বাচ্চা পাচারের কাজটা প্রধানত চলে ব্রাজিলেই। ওই টিয়াদের একটা বৈশিষ্ট হল ওরা একই গাছে বাসা বাঁধে প্রতি বছর। তাই পাচারকারীদের জানা থাকে কোন কোন গাছে পাওয়া যাবে টিয়ার বাসা। ডিম ফুটে কোন সময় বাচ্চা হবে তা তো তাদের জানাই থাকে। তার ঠিক এক মাস আগে থেকে আসতে শুরু করে পাচারকারীর দল। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে টাকাপয়সার হিসেব নিকেশ করে একটা রফা হয়। ফলে, বচ্চা চুরির কাজটা হাসিল করতে বেগ পেতে হয় না।

কিন্তু চোরাচালান ছাড়াও, ওই টিয়াদের বিপন্ন হয়ে পড়ার আরও কারণ আছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, জঙ্গল কাটা, বনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া এবং চাষ ও চারণভূমির বিস্তার পাখিদের বাসস্থানের চরিত্র বিশেষ ভাবে বদলে দিচ্ছে। বিপন্নতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে তাদের।

Photo credit: Mongabay/Image courtesy of the Federal Highway Police.

Comments

Popular posts from this blog

জল - চাহিদা বড়ছে, যোগান কমছে

গাছেরা কি দেখতে পায়

এক চিলতে বাগানে হাজারও প্রাণীর বাস