Posts

গাছেরা কি দেখতে পায়

Image
  লতানে গাছেদের কাণ্ডকাখানা দেখলে মনে হবে তারা বোধহয় দেখতে পায়। তাদের হয়ত দৃষ্টিশক্তি আছে। তা না হলে , তারা শুঁড় বার করে মাচার বাঁশ , গাছের ডাল , বা যে কোনও সরু , শক্ত , লম্বা বস্তুকে প্যাঁচিয়ে ধরে কী করে ? ধরার আগে তো কোন দিকে শুঁড় বাড়ালে সেই রকম এক বস্তুর নাগাল পাওয়া যাবে , তা স্থির করতে হবে। তা ওরা তো স্থির করতে পারে। যে দিকেই থাকে ভর দেওয়ার মতো শক্ত কিছু , সেই দিকেই তাদের ল্যাকপ্যাকে ডাল থেকে বেরিয়ে আসা সরু সরু সুতোর মতো শুঁড় বা আঁকড়া (ইংরেজিতে যাকে বলে টেন্ড্রিল) প্রতিদিন আস্তে আস্তে এগোতে থাকে। তারপর সেটি নাগালের মধ্য এলেই সেটিকে পেঁচিয়ে ধরে শক্ত করে। কিন্তু এ কথাও তো ঠিক , গাছের কোনও চোখ নেই। তবুও ঠিক দিকেই আঁকড়া এগিয়ে দিতে সক্ষম হয় তারা। ছবিতে তেমনই এক লতানে গাছকে দেখা যাচ্ছে। অতি সাধারণ , আমাদের অনেকেরই চেনা উচ্ছে গাছ। স্প্রিঙ্গ জিনিসটার সঙ্গে আমরা পরিচিত। টানলে লম্বা হয়। ছেড়ে দিলে আবার নিজের জায়গায় ফিরে যায়। আমাদের উচ্ছে গাছটিও , নিজের তন্তু ও কোষ দিয়ে তৈরি করেছে বেশ কয়েকটি নিখুঁত স্প্রিঙ্গ। ঠিক যেমনটি আমরা যন্ত্রংশ হিসেবে ব্যবহার করি নানা ক্ষেত্রে। কিন্তু কথা হলো , উচ্...

এক চিলতে বাগানে হাজারও প্রাণীর বাস

Image
  আজকাল বাড়ির লাগোয়া খালি জায়গা বিশেষ দেখা যায় না। যেখানে একটু মাটি থাকে , ঘাস গজায় , কয়েকটা ফুলের গাছে ফুল ফোটে। যেখানে একটু রোদ পড়ে। পাখিরা আসে। তবুও কারোর বাড়ির যদি সংলগ্ন সেই রকম একচিলতে জমি থাকে , তাহলে জানবেন সে এক বিস্ময়কর জায়গা। সেই রকম জায়গা যে প্রাণীদের স্বর্গরাজ্য হতে পারে , কে জানত ? অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন শহরের তিন বিশেষজ্ঞ - গণিতবিদ ম্যাট হোল্ডেন , পরিবেশবিদ অ্যান্ড্রু রজার্স ও জীববিজ্ঞানী রাসেল ইয়াঙ্গ - থাকতেন একই বাড়িতে। ২০২০তে কোভিড চলা কালে , তাঁরা বাড়িতেই দিন কাটাচ্ছিলেন। শিক্ষাকেন্দ্রে বা গবেষণাগারে যাওয়ার তেমন সুযোগ ছিল না তখন। তাই তাঁরা ঠিক করলেন , তাঁদের বাড়ির লাগোয়া যে খালি জায়গাটি আছে , সেখানে আসলে কী আছে , তা অনুসন্ধান করে দেখবেন। একদিন ঘরের মধ্যে জমে ওঠা ঝুল ঝাড়তে লেগেছিলেন রজার্স। তা করতে গিয়ে দু ’ একটা মাকড়সার উপস্থিতি নজরে আসে তাঁর। তখনই মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগে যে , তাঁদের বাড়ি ও তার সংলগ্ন বাগানে কত রকমের প্রাণী থাকতে পারে। তিনজনে ঠিক করেন , দেখাই যাক না। কাজ শুরু করার আগে , বেশ কয়েক জন বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদের কাছে তাঁরা জানতে চান , কত রকমের প্র...

ম্যামথ, ডোডো, তাসম্যানিয়ান টাইগাররা কি ফিরে আসছে

Image
ম্যামথ কিছু বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাণী কি আবার ফিরে আসছে ? যেমন ধরা যাক , ম্যামথ বা সেই দৈত্যকায় লোমোশ হাতি যারা পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় প্রায় ১০ হাজার বছর আগে। কিম্বা ম্যাডাগাস্কারের সেই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া পাখি , ডোডো। অথবা অস্ট্রেলিয়ার তাসম্যানিয়ান টাইগার , যারা অনেকটা কুকুরের মতো দেখতে হলেও গায়ে ছিল বাঘের মতো ডোরা কাটা দাগ ? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণা কেন্দ্র জানাচ্ছে যে , এদের ফিরে আসাটা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষায়। গবেষণার কাজ এতটাই এগিয়ে গেছে যে ম্যামথ , ডোডো ও তাসম্যানিয়ান টাইগারদের আবার হয়ত পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাবে। ২০০৩ সালে একটি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রজাতিকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ক্ষণিকের সাফল্য অর্জন করে ছিলেন বিজ্ঞানীরা। সেটি ছিল বুকার্ডো বলে একটি প্রাণী। এক ধরনের বুনো ছাগল , যাকে বলে আইবেক্স। বাস করত ইউরোপের পেরেনিস পর্বতমালায়। এক সময় তারা সংখ্যায় ছিল অনেক। কিন্তু ২০০ বছর ধরে শিকার হতে হতে তাদের সংখ্যা দ্রুত কমতে থাকে। ১৯৯৯-তে আর মাত্র একটি বুকার্ডো বেঁচে থাকে। ২০০০ সালে সেটিও মারা গেলে , ওই প্রজাতির বুকার্ডো চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যায়। বার বছরের সেই মেয়ে বুকার্ডো...

আখ খেতের চিতাবাঘ

Image
    বদলাতে থাকা পৃথিবীতে , প্রাণীরাও তাঁদের স্বভাব ও আচরণ বদলানোর চেষ্টা করে। বেঁচে থাকার তাগিদেই তাঁরা এমনটা করে বলে ধরে নেওয়া যায়। নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারলেই টিকে থাকা সম্ভব। নচেৎ , জীবন সংকট বাড়তে বাড়তে , অস্তিত্বকেই বিপন্ন করে তুলতে পারে। নয় বদল , নয় বিনাশ। বিবর্তনের নিয়ম এমনই অনমনীয়। এই রকমই এক প্রাণীর কথা সম্প্রতি জানা গেছে। তাঁরা ভারতের মহারাষ্ট্র প্রদেশের লেপার্ড বা চিতাবাঘ। মানুষ তাদের ভয় পায়। ভয় পাওয়ারই কথা । চিতাবাঘ বড় বাঘেদের মধ্যে পড়ে। আর বাঘেদের কে না ভয় পায়! তবে , তারাও মানুষকে এড়িয়ে চলে যতটা সম্ভব। দু পায় , সোজা হয়ে চলা জীবটিকে ভয় পায় না এমন প্রাণী কমই আছে। এমনকি মানুষও মানুষকে ভয় পায়। মহারাষ্ট্রের জুন্নার-এ চিতাবাঘের এক বড় বাসস্থান রয়েছে। কিন্তু সেটি কোনও জঙ্গল নয়। সেখানে এক বিরাট এলাকাজুড়ে আখের চাষ হয়। মাইলের পর মাইল শুধুই আখের খেত। সেই খেতেই থাকে চিতাবাঘরা। কয়েক প্রজন্ম ধরে চিতাবাঘেরা সেখানেই আছে। তারা কোনও দিন জঙ্গল দেখেনি। আখের খেতে থাকে বলে , জুন্নারের বন আধিকারিকরা তাদের বলেন ‘ সুগার বেবি ’ ।বা ‘ চিনি-শিশু ’ । এমনট...

প্রাণীদের চলাফেরার জায়গা কমছে

Image
  মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বেড়েই চলেছে। কোনও কোনও দেশের জনসংখ্যা কমলেও , সারা পৃথিবীতে মানুষ বাড়ছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘ জানিয়েছে , জুন ২০২৫-এর হিসেব অনুযায়ী , পৃথিবীর জনসংখ্যা ৮২০ কোটি। মানুষ বাড়ছে , কিন্তু পৃথিবীর আয়তন এক বর্গ ইঞ্চিও বাড়ছে না। একই থাকছে। বাড়ছেও না , কমছেও না। এই অবস্থায় , পৃথিবীর মোট আয়তনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চলে যাচ্ছে বাড়তে-থাকা মানুষের জন্য জায়গা করে দিতে। এবং সেই অংশটা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ , মানুষ বেড়েই চলেছে। মানুষ যখন বেশি জায়গা দখল করে নিচ্ছে , তখন , স্বাভাবিক ভাবেই , পৃথিবীতে অন্যান্য সব প্রাণীদের জন্য জায়গা কমছে। গাছপালা , পোকামাকড় ও পশুপখির বাসস্থান ও ঘুরে বেড়ানর ক্ষেত্র কমে যাচ্ছে ক্রমশ। প্রাণী মাত্রই ঘুরে বেড়ায়। পোকারা বেড়ায়। পাখিরা বেড়ায় । বাঘ , সিংহ , হাতি , ঘোড়া , বেড়াল , কুকুর কেউই এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকে না। এমনকি গাছেরাও চলাচল করে এক অর্থে। বীজ থেকে অঙ্কুরিত হয়ে , আলোর সন্ধানে তারা ওপর দিকে উঠতে থাকে। একটু একটু করে ছড়িয়ে পড়ে তাদের ডালপালা। মাটির তলায় , এক অন্ধকার , রহস্যময় জগতের মধ্যে দিয়ে ধীর গতিতে এগিয়ে চলে তাদের শেকড়বাকড়। এক সাম্প্রতিক...

মস্তিষ্ক বাড়ে সুগন্ধে

Image
গন্ধ বিচার করলে কত কী না জানা যায়! যেমন , গন্ধ নাকি আমাদের মগজকে বড়ো করে দেয়। তার ফলে , বুদ্ধি বাড়ে কিনা বলা মুষ্কিল , কিন্তু মগজরে আকার যে বেড়ে যায় , বিজ্ঞানীরা তা মেপে দেখেছেন। জাপানের কিয়োটো এবং সুকুবা ইউনিভার্সিটির গবেষকরা দেখেছেন যে , বিশেষ ধরনের সুগন্ধি (পারফিউম বা কোলোন) জামাকাপড়ে লাগালে , তার গন্ধ মস্তিষ্কের আয়তন বাড়িয়ে দেয়। গবেষকরা ২৮ মহিলার ওপর পরীক্ষা চালান। এক মাস তাঁদের গোলাপের সুগন্ধ যুক্ত পারফিউম লাগাতে বলা হয়। আর ২২ মহিলাকে বলা হয় কোনও পারফিউম না লাগাতে। তিরিশ দিন পর , এমআরএই করে দেখা যায় , যাঁরা সুগন্ধী লাগিয়ে ছিলেন , তাঁদের মস্তিষ্কের আয়তন বড়ো হয়েছে। যাঁরা লাগাননি , তাঁদের ক্ষেত্রে কোনও হেরফের লক্ষ্য করা যায়নি। তাঁদের গবেষণা পত্রে বিজ্ঞানীরা লিখেছেন , শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে শরীরে সুগন্ধ প্রবেশ করতে থাকলে , মস্তিষ্কের আকারে পরিবর্তন ঘটে। মস্তিষ্কের পেছনের অংশ (পস্টিরিয়র সিঙ্গুলেট কর্টেক্স) , যেখানে স্মৃতি সঞ্চিত হয় , সেই জায়গাটিকেই বড়ো হয়ে যেতে দেখা যায়। মনে করা হচ্ছে , এই অংশটিকে লাগাতার গন্ধ বিচার করে স্মৃতির ভাণ্ডারে তথ্য পাঠাতে হচ্ছিল বলে , তার কাজের বহর খানিকট...

বন্য হাতিদের ক্ষতি করছেন কি পর্যটকরা

Image
  পশ্চিমবাংলার বাঁকুড়া জেলার জঙ্গলে বন্য হতিদের খাবার দেওয়া হয়। রীতিমতো ট্রাক বোঝাই করে কয়েক ধরনের সবজি রেখে আসা হয় জঙ্গলের মধ্যে। হাতির দল এক সময় এসে সেই খাবার খেয়ে নেয়। এই বছর, ফেব্রুয়ারি মাসে, ‘ফ্রন্টলাইন’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে এই কথা জানা গেছে। দক্ষিণবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায়, হাতির আসা-যাওয়া লেগেই থাকে। গ্রামের মানুষ ভয়ে ভয়ে দিন কাটান ধান কাটার মরসুমে। হাতিরা এলে তারা মজুত করা ধান খেয়ে নেয়। গোলায় ঢোকার চেষ্টা করতে গিয়ে উঠোনের দেওয়াল ভাঙে। বাড়ির পাকা দেওয়ালেও চিড় ধরায়। খেতে ধান থাকলে, তা নিমেশে চলে যায় হাতির দলের খিদে মেটাতে। আর এসবের মধ্যে, হাতির সঙ্গে মানুষের সংঘাতও বাধে। দু’ দিকেই ক্ষয় ক্ষতির খবর আসে মাঝে মধ্যে। তাই, হাতির দল যাতে জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে না বেরিয়ে আসে, সেই ব্যবস্থা করতেই বনের মধ্যে তাদের খাবার সরবরাহ করার উদ্যোগ নেয় রাজ্যের বন বিভাগ। এর অর্থ হলো, জঙ্গলে যথেষ্ট খাবার পায় না হাতিরা। তাই তারা বন ছেড়ে লোকালয়ে এসে সহজলভ্য খাবারের সন্ধান করে। এবং তারা যাতে সহজেই বনের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী পেয়ে বাইরে না চলে আসে, তা নিশ্চিত করতেই বনের মধ্যে হাতিদের খাবার পৌঁছে দ...