Posts

মস্তিষ্ক বাড়ে সুগন্ধে

Image
গন্ধ বিচার করলে কত কী না জানা যায়! যেমন , গন্ধ নাকি আমাদের মগজকে বড়ো করে দেয়। তার ফলে , বুদ্ধি বাড়ে কিনা বলা মুষ্কিল , কিন্তু মগজরে আকার যে বেড়ে যায় , বিজ্ঞানীরা তা মেপে দেখেছেন। জাপানের কিয়োটো এবং সুকুবা ইউনিভার্সিটির গবেষকরা দেখেছেন যে , বিশেষ ধরনের সুগন্ধি (পারফিউম বা কোলোন) জামাকাপড়ে লাগালে , তার গন্ধ মস্তিষ্কের আয়তন বাড়িয়ে দেয়। গবেষকরা ২৮ মহিলার ওপর পরীক্ষা চালান। এক মাস তাঁদের গোলাপের সুগন্ধ যুক্ত পারফিউম লাগাতে বলা হয়। আর ২২ মহিলাকে বলা হয় কোনও পারফিউম না লাগাতে। তিরিশ দিন পর , এমআরএই করে দেখা যায় , যাঁরা সুগন্ধী লাগিয়ে ছিলেন , তাঁদের মস্তিষ্কের আয়তন বড়ো হয়েছে। যাঁরা লাগাননি , তাঁদের ক্ষেত্রে কোনও হেরফের লক্ষ্য করা যায়নি। তাঁদের গবেষণা পত্রে বিজ্ঞানীরা লিখেছেন , শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে শরীরে সুগন্ধ প্রবেশ করতে থাকলে , মস্তিষ্কের আকারে পরিবর্তন ঘটে। মস্তিষ্কের পেছনের অংশ (পস্টিরিয়র সিঙ্গুলেট কর্টেক্স) , যেখানে স্মৃতি সঞ্চিত হয় , সেই জায়গাটিকেই বড়ো হয়ে যেতে দেখা যায়। মনে করা হচ্ছে , এই অংশটিকে লাগাতার গন্ধ বিচার করে স্মৃতির ভাণ্ডারে তথ্য পাঠাতে হচ্ছিল বলে , তার কাজের বহর খানিকট...

বন্য হাতিদের ক্ষতি করছেন কি পর্যটকরা

Image
  পশ্চিমবাংলার বাঁকুড়া জেলার জঙ্গলে বন্য হতিদের খাবার দেওয়া হয়। রীতিমতো ট্রাক বোঝাই করে কয়েক ধরনের সবজি রেখে আসা হয় জঙ্গলের মধ্যে। হাতির দল এক সময় এসে সেই খাবার খেয়ে নেয়। এই বছর, ফেব্রুয়ারি মাসে, ‘ফ্রন্টলাইন’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে এই কথা জানা গেছে। দক্ষিণবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায়, হাতির আসা-যাওয়া লেগেই থাকে। গ্রামের মানুষ ভয়ে ভয়ে দিন কাটান ধান কাটার মরসুমে। হাতিরা এলে তারা মজুত করা ধান খেয়ে নেয়। গোলায় ঢোকার চেষ্টা করতে গিয়ে উঠোনের দেওয়াল ভাঙে। বাড়ির পাকা দেওয়ালেও চিড় ধরায়। খেতে ধান থাকলে, তা নিমেশে চলে যায় হাতির দলের খিদে মেটাতে। আর এসবের মধ্যে, হাতির সঙ্গে মানুষের সংঘাতও বাধে। দু’ দিকেই ক্ষয় ক্ষতির খবর আসে মাঝে মধ্যে। তাই, হাতির দল যাতে জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে না বেরিয়ে আসে, সেই ব্যবস্থা করতেই বনের মধ্যে তাদের খাবার সরবরাহ করার উদ্যোগ নেয় রাজ্যের বন বিভাগ। এর অর্থ হলো, জঙ্গলে যথেষ্ট খাবার পায় না হাতিরা। তাই তারা বন ছেড়ে লোকালয়ে এসে সহজলভ্য খাবারের সন্ধান করে। এবং তারা যাতে সহজেই বনের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী পেয়ে বাইরে না চলে আসে, তা নিশ্চিত করতেই বনের মধ্যে হাতিদের খাবার পৌঁছে দ...

জীবাশ্মের এক বিরাট খনি ভারত

Image
    ভারত একটি প্রাচীন দেশ , এটা নতুন কথা নয়। ভারতের প্রাচীনত্ব সম্পর্কে আমরা সকলেই কম-বেশি জানি। প্রাচীন ভারতবর্ষ যে এক আরও প্রাচীন ভূখণ্ডের ওপর অবস্থিত , সে কথাও বোধহয় অনেকের জানা। কিন্তু এই প্রাচীন ভারতের প্রাচীনতর ভূখণ্ডে কী কী অতি প্রাচীন প্রাণী ঘুরে বেড়াত , আমরা তা বিশেষ জানি না। তবে প্রত্নতত্ত্ববিদরা বলছেন , ভারত হচ্ছে অমূল্য জীবাশ্মের এক বিরাট খনি , যার ধনসম্পদ এখনও মাটির তলায় চাপা পড়ে আছে । তারা বলছেন , এই ভূখণ্ড এক সময় ছিল ছোট-বড় নানা জাতের ডাইনোসরদের স্বর্গরাজ্য। এখানে বাস করত নানান ধরনের প্রকাণ্ড সব সরীসৃপ। এমনকি আজকের তিমিদের বহু যুগ আগের পূর্বজেরাও নাকি থাকত ভারতকে ঘিরে থাকা সমুদ্রের জলে। মনে করা হচ্ছে , অতীতের নানা সাক্ষ্যবহনকারী সেই সব জীবাশ্ম যদি এক এক করে মাটির তলা থেকে দিনের আলোয় উঠে আসে , তা হলে প্রাগৈতিহাসিক কালে পৃথিবীর বুকে প্রাণীদের আবির্ভাব ও বিলুপ্তির গল্পটা হয়তো অন্যভাবে লিখতে হতে পারে। ২০০০ সালে , মহারাষ্ট্রের নাগপুরে কেন্দ্রীয় যাদুঘর ঘুরে দেখছিলেন জীবাশ্মবিদ জেফ্রি উইলসন। জীবনে অনেক জীবাশ্মের নমুনা ঘেঁটে দেখেছিলেন তিনি , কিন্তু নাগপুরের মিউজিয়...

আফ্রিকার হাতির চেয়ে এশীয় হাতির মগজ বড়

Image
  এশিয়া ও আফ্রিকার হাতিদের মধ্যে ফারাক অনেক। আকারে-আকৃতিতে আফ্রিকার হাতি , তাদের এশীয় আত্মীয়দের তুলনায় বড়ো। এশিয়ার হাতি মানুষের খুব কাছের প্রাণী। কিন্তু আফ্রিকার হাতি হলো অরণ্যের রাজা , যাকে বশ মানানো যায়নি এখনও। হাতি আমাদের সাথি হয়ে আছে সেই প্রাচীন কাল থেকে। ওরা আমাদের মাল বয়ে দিতে সাহায্য করে। সার্কাসে খেলা দেখিয়ে আমাদের মনোরঞ্জন করে। রাজারাজরাদের তারা পিঠে করে বয়ে নিয়ে বেড়িয়েছে এক সময়। অতীতে , মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে , প্রবল বিক্রমে লড়াইও করেছিল তারা যুদ্ধের ময়দানে। আবার ভারতের নানা মন্দিরে তারা আজও আছে। সেখানে পুজোর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। শোভাযাত্রায় বেরোয়। যেখানে মঙ্গলের প্রতীক মনে করা হয় তাদের। এও দেখা যায় যে , একজন মাহুত তার পোষা হাতির পিঠে সওয়ার হয়ে ঘুরছে গ্রামে ও শহরে। তার সেই হাতিকে দেখে ছেলেপিলেরা ছুটে এসে ভিড় করে। প্রশ্রয়-মাখানো চোখে হাতি তাদের তাকিয়ে দেখে। টাকা দিতে এগিয়ে আসেন অনেকে। সেই টাকা দিয়ে মাহুত তার বৃহৎ সঙ্গীটির জন্য খাবার জোগাড় করে। এবং সেই সঙ্গে নিজের খোরাকিও। এ এক অদ্ভুত সম্পর্ক। যেখানে হাতি তার মানুষ মনিবের হয়ে অর্থ উপার্জন করতে পথ হাঁটে প্রতিদিন। ক...

এ বছর মৌসুমি বায়ু বয়ে আনে ধ্বংসের পরোয়ানা

Image
আবহাওয়াবিদদের মুখে একটা শব্দবন্ধ প্রায়ই শোনা যায় : ‘ পশ্চিমি ঝঞ্ঝা ’ । ওই পশ্চিমি ঝঞ্ঝা দেখা দিলেই , আকাশের মুখ গোমড়া হয়ে ওঠে। ঝলমলে দিনে হঠাৎই মেঘ ঘনায়। বৃষ্টিও নামে। এই বছর ভারতের উত্তর ও পশ্চিমে বার বার অতি ভারি বর্ষণ হয়েছে। তার ফলে , উত্তরাখণ্ড , হিমাচল প্রদেশে ও জম্মু-কাশ্মীরের নদীতে দেখা দিয়েছে বিধ্বংসী হড়পা বান। খড়কুটোর মতো ঘরবাড়ি ভেসে গেছে জলের মারাত্মক তোড়ে। জলপ্রপাতের মতো নেমে আসা বৃষ্টির ধারায় ফাটল ধরেছে গাছ-কাটা , ভঙ্গুর পাহাড়ের গায়ে। নেমেছে মাটি আর পাথরের ধস। যা আগ্নেয়গিরির ধেয়ে আসা লাভার মতো গ্রাস করেছে জনপদ। পশ্চিম ভারতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে মুম্বাই ও পুনে শহরে। মরু প্রদেশ রাজস্থানের অনেক জায়গা পড়েছে বন্যার কবলে। সেপ্টেম্বর মাসের এক রাত্রে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার টানা বর্ষণে ডুবে ছিল কলকাতার অনেক এলাকা। মারা যান ১১ ব্যক্তি। দক্ষিণবঙ্গে অতিবর্ষণের দাপট কাটতে না কাটতেই , অক্টোবরের শুরুতে উত্তরবঙ্গে চলে বৃষ্টির তাণ্ডব। দার্জিলিং , জলপাইগুড়ি , অলিপুরদুয়ার জেলায় , জলের তোড়ে ধস নামে। অস্তিত্বহীন হয়ে যায় অনেক রাস্তা। ভেঙ্গে যায় লোহার ব্রিজ। প্রাণ হারান প্রায় ৩০ মানুষ। ভুটান থেকে খব...

শুয়োরের সঙ্গে মানুষের আছে কিছু মিল

Image
  হাতি নয় , ঘোড়া নয়। বাঘ , ভালুক , সিংহ নয়। এমনকি আমাদের অতি নিকট আত্মীয় শিম্পাঞ্জিও নয়। দেখা যাচ্ছে , মানুষের শরীরের কিছু কিছু অঙ্গের সঙ্গে মিল আছে শুয়োরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের। তাই , সম্প্রতিবিজ্ঞানীরা শুয়োরের ফুসফুসে কিছু জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে সেটিকে প্রতিস্থাপন করেন একব্যক্তির শরীরে । এবং শুয়োরের সেই ফুসফুস মানুষের শরীরে ন ’ দিন কাজ করে। পরীক্ষাটি করা হয় এই বছর অগস্ট মাসে। শুয়োরের ওই ফুসফুসটি প্রতিস্থাপন করা হয় এমন একজন ব্যক্তির শরীরে যাঁর মস্তিষ্ককে মৃত বলে ঘোষণা করেছিলেন চিকিৎসকরা। মেশিনের সাহায্যে মস্তিষ্ক-মৃত মানুষের হৃ দয ন্ত্র ও ফুসফুস কিছু দিন চালু রাখা গেলেও , চিকিৎসা শাস্ত্র ও আইনের বিচারে তাঁদের মৃত বলেই গণ্য করা হয়। এই ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা দেখতে চেয়েছিলেন যে , অন্য প্রাণীর দেহাঙ্গ মানুষের শরীর গ্রহণ করে কিনা। যদি তা সম্ভব হয় , তাহলে চিকিৎসা শাস্ত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে , আশা এমনটাই। বাঁচানো যাবে অনেক মানুষকে। গত অগস্ট মাসে বিজ্ঞানীরা মানুষের শরীরে শুয়োরের ফুসফুস বসিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন তা চলে কিনা। দেখা গেল , চলে। এই ক্ষেত্রে তা ন ’ দিন চালু থাকে। ফলে , একটা আশার আলো...

১ ২ ৩...নিষ্ক্রিয় হবে রাগের বোমা

Image
  মাথাটা হঠাৎ গরম হয়ে উঠলে , অনেক কিছু ঘটে যেতে পারে। বাকবিতণ্ডা , বচসা , হাতাহাতি , আরও কতকী। একটা ধারণা হল , রাগ প্রকাশ করে ফেললে মাথার পারদটা চট করে নেমে যায়। সেই সঙ্গে ফিরে আসে শান্তি। কিন্তু যে কয়েকটা মুহূর্ত জুড়ে বিস্ফোরণ ঘটে চলে , তা আগ্নেয়গিরির লাভা উদ্গিরণের মত বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারে। তাই বিস্ফোরণ ঘটার আগেই যদি বম্বস্কোয়াড এসে টাইম-বোমাটিকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে , তাহলে হয়ত অনেক অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা যায়। আর আপনি নিজেই একজন দক্ষ বিস্ফোরণ-নিরধক কর্মী হয়ে উঠতে পারেন। তার জন্য কী করতে হবে ? গবেষকরা বলেছেন যে , সব চেয়ে সহজ কাজটি করায় আপনি নিজেকে অভ্যস্ত করে তুলতে পারেন। সেটি হল বিস্ফোরণের ঠিক আগের মুহূর্তে এক থেকে দশ পর্যন্ত গুনতে শুরু করে দেওয়া। দেখা গেছে , এই সংখ্যা গোনার মধ্যে দিয়ে আপনি আবার নিজের ওপর খোয়াতে বসা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাচ্ছেন। অর্থাৎ , ওই ভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় মনের বারুদ। রাগের বোমা ফাটতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ফাটে না। আর রাগের মাত্রাকেই যদি আপনি নিরাপদ সীমার মধ্যে রাখতে চান , তা হলে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে হবে , ধ্যান করা শিখতে হবে , এবং যোগাসনের সাহায...