Posts

১ ২ ৩...নিষ্ক্রিয় হবে রাগের বোমা

Image
  মাথাটা হঠাৎ গরম হয়ে উঠলে , অনেক কিছু ঘটে যেতে পারে। বাকবিতণ্ডা , বচসা , হাতাহাতি , আরও কতকী। একটা ধারণা হল , রাগ প্রকাশ করে ফেললে মাথার পারদটা চট করে নেমে যায়। সেই সঙ্গে ফিরে আসে শান্তি। কিন্তু যে কয়েকটা মুহূর্ত জুড়ে বিস্ফোরণ ঘটে চলে , তা আগ্নেয়গিরির লাভা উদ্গিরণের মত বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারে। তাই বিস্ফোরণ ঘটার আগেই যদি বম্বস্কোয়াড এসে টাইম-বোমাটিকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে , তাহলে হয়ত অনেক অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা যায়। আর আপনি নিজেই একজন দক্ষ বিস্ফোরণ-নিরধক কর্মী হয়ে উঠতে পারেন। তার জন্য কী করতে হবে ? গবেষকরা বলেছেন যে , সব চেয়ে সহজ কাজটি করায় আপনি নিজেকে অভ্যস্ত করে তুলতে পারেন। সেটি হল বিস্ফোরণের ঠিক আগের মুহূর্তে এক থেকে দশ পর্যন্ত গুনতে শুরু করে দেওয়া। দেখা গেছে , এই সংখ্যা গোনার মধ্যে দিয়ে আপনি আবার নিজের ওপর খোয়াতে বসা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাচ্ছেন। অর্থাৎ , ওই ভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় মনের বারুদ। রাগের বোমা ফাটতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ফাটে না। আর রাগের মাত্রাকেই যদি আপনি নিরাপদ সীমার মধ্যে রাখতে চান , তা হলে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে হবে , ধ্যান করা শিখতে হবে , এবং যোগাসনের সাহায...

কম বা বেশি ঘুম ডেকে আনে ডায়েবিটিস

Image
  কম , বেশি হলেই বিপদ। কম ঘুম বা বেশি ঘুমের সঙ্গে টাইপ-২ ডায়েবিটিস-এর একটা সরাসরি যোগাযোগ আছে। গবেষণায় উঠে আসা তথ্য তেমনটাই ইঙ্গিত করেছে। নানা স্তরের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর গবেষণা থেকে জানা গেছে এ কথা। বেশি বা কম ঘুম বলতে কী বোঝায় ? রাতে ন ’ ঘণ্টা বেশি ঘুমকে ‘ বেশি ’ বলা হচ্ছে। আর সাত ঘণ্টার কম ঘুমকে ‘ কম ’ বলে চিহ্নিত করা হয়। ঘুমের ঘাটতি বা আধিক্যের সঙ্গে ডায়েবিটিস-২ রোগের এক সরাসরি যোগ লক্ষ্য করা গেছে। তেমনটাই জানা গেছে একাধিক গবেষণা থেকে। আধুনিক জীবনের নানা ধরনের চাপ , ঘুমের স্বাভাবিক নিয়মে ব্যাঘাত ঘটায় বলে মনে করা হয়। এক শ্রেণীর মানুষ এখন গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন। আবার সকালে উঠে কাজে বেরন। অনেকের আবার সকাল হয় দুপুর বারোটায়। সব প্রাণীর শরীরে একটা ঘড়ি আছে। সেই ঘড়ির নিয়ম অনুযায়ী আমাদের ঘুম আসে। এক সময় আপনা থেকে তা ভেঙ্গও যায়। সূর্যদয় ও সূর্যাস্তের সঙ্গে আমাদের শরীরের ভেতরকার সেই ঘড়ি বাঁধা। কিন্তু কিছু কাল হল , কৃত্রিম আলোর সাহায্যে , অন্ধকারকে আমরা আমাদের জীবন থেকে বিতাড়িত করেছি। সেই সঙ্গে কমিয়ে এনছি ঘুমের সময়। অনেক রাত অবধি আমরা এখন জেগে থাকি। আমরা না চাইলেও , আমাদের অঙ্...

সমুদ্রের জলে অক্সিজেন কমছে

Image
    অক্সিজেন ছাড়া প্রাণীরা বাঁচে না। মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি প্রাণী আছে যারা অক্সিজেন ছাড়াও বাঁচতে পারে। স্থলের প্রাণীরা অক্সিজেন পায় বাতাস থেকে। আর জলের প্রাণীরা পায় জল থেকে। বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ যদি কমে যায় , তা হলে , স্থলের প্রাণীরা শ্বাস কষ্টের শিকার হয়। যেমন , পর্বতারোহীরা সঙ্গে করে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে যান। কারণ , খুব উচ্চতায় বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকে। বাড়তি অক্সিজেনের যোগান ছাড়া , বেশি উচ্চতায় সাধারণ মানুষের বাঁচা কঠিন হয়ে পড়ে। এবার যদি পৃথিবীর সর্বত্রই বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় , তাহলে মানুষ সহ স্থলের সব প্রাণীইরইতো দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হবে। সকলকে তো আর সিলিন্ডার করে বাড়তি অক্সিজেন যোগানো যাবে না। ঠিক তেমনই ভাবে , পুকুর , দিঘি , নদী , সমুদ্রের জলে যদি তেমন অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয় , তা হলে জলের সব প্রাণীদেরও দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হবে। এবং জানা যাচ্ছে যে , ইতিমধ্যেই জলে অক্সিজেনের পরিমাণ একটু হলেও কমেছে। আর এই ধারা বজায় থাকলে , সমুদ্রের জলে অক্সিজেন আরও কমে গিয়ে এক ঘোরতর সঙ্কট সৃষ্টি করবে। মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রের রেনসেল্যার পলিটেকনিক ইনস্টি...

সমুদ্রের তলায় এত আলো কেন

Image
  সমুদ্রের নীচে আলো জ্বলে। ১৮৬৪ সালে , ‘ অ্যালাবামা ’ নামের একটি জাহাজ সমুদ্রের জল কেটে এগিয়ে চলেছিল। সূর্যাস্ত হয়ে যায়। সমুদ্রের বুকে নামে জমাট অন্ধকার। কম্পাসের ওপর নজর রেখে , সঠিক দিকেই জাহাজ চালনা করছিলেন ক্যাপ্টেন রাফায়ের সেম্মেস। কিন্তু হঠাৎই , সমুদ্রের চেহারা বদলে যায়। ঘোর অন্ধকারের বদলে , একটা আলোর আভা ফুটে বেরতে লাগল সমুদ্রের গভীর থেকে। আশ্চর্য হয়ে জাহাজের ক্যাপ্টেন লিখে ছিলেন , “ প্রকৃতির পুরো চেহারাটা অকস্মাৎ পাল্টে গেছে...মনে হচ্ছে এক ভুতুড়ে সমুদ্রের ওপর দিয়ে আমাদের জাহাজ চলেছে ” । নাবিকরা এমনিতেই বিশ্বাস করতেন যে , সমুদ্রে নানা দানবের বাস। সেখানে থাকে জলপরীরাও। তাই , জলের তলায় আলো দেখে আতঙ্কিত হয়ে ছিলেন জাহাজের শক্তিমান সব নাবিকরা। কয়েক ঘন্টা ধরে সেই আলোকিত সাগরের মধ্যে দিয়ে চলেছিল জাহাজ। যেন সমুদ্রের গভীরে কোনও তলিয়ে যাওয়া শহরের ঝলমলে আলো উঠে আসছিল ওপরে। হ্যাঁ , আলো ছিল ঠিকই। তবে সে আলো কোনও হারিয়ে যাওয়া শহরের রোশনাই ছিল না। সেই আলো সৃষ্টি করে ছিল সমুদ্রতলে জীবা ণু র ঝাঁক। তাদের বলা হয় ‘ বায়োলুমিনেসেন্ট ’ ব্যাক্টিরিয়া। অর্থাৎ , জৈবিক উপায়ে আলো সৃষ্টিকারী জীবাণু। তাদ...

হিমবাহগুলি ফিরে পাওয়া অসম্ভব

Image
আমরা কি উষ্ণায়নের লক্ষণরেখা অতিক্রম করতে চলেছি ? হয়ত তাই। পৃথিবীর বর্তমান গড় তাপমাত্রা যদি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যায় , তাহলে আমরা এক গভীর সঙ্কটের দিকে এগিয়ে যাব। তেমনটাই বলেছেন বিজ্ঞানীরা। ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমাটা তাঁরাই বেঁধে দিয়ে ছিলেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে , পৃথিবী সেই বিপদ সীমা লঙ্ঘন করতে চলেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন যে , গত বছর সেই সীমা ইতিমধ্যেই লঙ্ঘিত হয়েছে। গত বছরই প্রথম , পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। উষ্ণায়নের প্রভাব এরই মধ্যে বেশ প্রকট হয়ে উঠতে শুরু করেছে পাহাড় পর্বত ও মেরু অঞ্চলে। সেখানে হিমবাহগুলি গলে যাচ্ছে। গলে যাচ্ছে খুব দ্রুত হারে। দশ বছর আগেও যা মনে করা হয়েছিল , তার চেয়েও অনেক তাড়াতাড়ি গলছে পৃথিবীর বরফ। যার আরও একটা মানে হল , দ্রুত কমে যাচ্ছে বিশ্বের মিষ্টি জলের উৎস ও ভা ন্ডার গুলি। মিষ্টি জল , যা মানুষ সহ অসংখ্য প্রাণীর বেঁচে থাকা নিশ্চিত করে , তারই উৎস সঙ্কুচিত হচ্ছে! ইংলন্ডের ব্রিস্টল ও অস্ট্রিয়ার ইনস ব্রু ক ইউনিভারসিটির এক যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে , প্রগতির যে পথ ধরে আমরা এগোচ্ছি ,   তাতে পৃথিবী গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সে...

জল - চাহিদা বড়ছে, যোগান কমছে

Image
  গ্রীষ্ম আসছে। জলের চাহিদা বাড়ছে। পৃথিবীজুড়ে জলের চাহিদা এবং জলের যোগানের মধ্যে বিস্তর ফারাক সৃষ্টি হয়েছে। ফলে , অনেক দেশের বহু মানুষ তাঁদের মিষ্টি জলের জাহিদা মেটাতে পারেন না। জলের সন্ধানে যেতে হয় অনেক দূর। সেখানে লাইনে দাঁড়াতে হয় অনেক ক্ষণ। বচসাও বাধে। তারপর হাতাহাতি যে হয় না , এমনও নয়। বর্তমানে পৃথিবী জুড়ে মিষ্টি জলের যে ঘাটতি রয়েছে তা বিপুল। বছরে ৪৫৮০০ কোটি ঘন মিটার জলের ঘাটতি দেখা দেয় বিশ্বে। হিসেব কষে এমনই এক সংখ্যার কথা বলা হয়েছে ‘ নেচার কমিউনিকেশন ’ জার্নালে । এই ঘাটতি কি করে মেটান যাবে তা স্পষ্ট নয় এখনও। অন্যদিকে , আশঙ্কা হল , উষ্ণায়ন জলের চাহিদা আরও বাড়িয়ে দেবে। মনে করা হচ্ছে , পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা যদি শিল্প বিপ্লবের আগের গড় তাপমাত্রার তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যায় , তা হলে , জলের চাহিদা আরও ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। আর গড় তাপমাত্রা যদি সে যুগের তুলনায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ে , তা হলে চাহিদা বেড়ে হবে ১৫ শতাংশ। শিল্প বিপ্লবের আগে , পৃথিবীর গড় তাপমাত্রাকেই একটা মাপকাঠি হিসেবে ধরা হয়। কারণ , সেই সময় , মানুষের কার্যকলাপের দরুন সৃষ্টি হওয়া গ্রিনহাউস গ্যাস তেমন তৈরি হত না।...

ভবঘুরে পটলের বিচিত্র জীবন

Image
  সব কুকুরেরই একটা নির্দিষ্ট জায়গা থাকে। হাবলু কালু , ভুতো , লালি , কুকি - আমাদের আদর-অনাদরের দেশীরা জন্মের পর , বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে , নিজেদের থাকার জায়গা ঠিক করে নেয়। কেউ বেছে নেয় রাস্তার মোড় , কেউ থাকে গলিতে , কেউ পার্কে , কেউ বাজারের আশেপাশে , কেউ আবার অমুকদের বাড়ির উঠনের এক কোণে জায়গা পায়। সেখানেই তারা থাকে। কয়েকজন মিলে , নিজেদের একটা ছোটখাট দল তৈরি করে। একা থাকা ওরা মোটেই পছন্দ করে না। আর নিজেদের জায়গা সম্পর্কে ওরা বেশ সচেতন। বহিরাগত কেউ তাদের আস্তানার সীমানার মধ্যে পা রাখলেই , গোলমাল বাধে। কিন্তু পটলের বাড়ি কোথায় ? কেউ জানে না। পটল নিজেও জানে না কোথায় তার স্থায়ী আস্তানা। ওর কোনও দলও নেই। ও একা একা থাকে। আজ এখান , কাল সেখান। প্রকৃত অর্থেই ও ভবঘুরে। এটাও লক্ষণীয় যে , পটল যখন এ-পাড়া থেকে ও-পাড়া , ও-পাড়া থেকে সে-পাড়ার মধ্যে চলা ফেরা করে , তখন সেই সব পাড়ার স্থায়ী সারমেয়রা কিন্তু পটলের পথ আটকায় না। ওর ওপর চড়াও হয় না দল বেঁধে। ওকে নিরাপদে যাওয়া আসা করতে দেয়। কেন দেয় , সে এক রহস্য। পটল একটি মেয়ে কুকুর। এক দিন সকালে ওকে দেখা গিয়ে ছিল সল্টলেকের সিকে-সিএল ব্লকের মাঠে। তখন তার বয়স ম...