কম বা বেশি ঘুম ডেকে আনে ডায়েবিটিস

 


কম, বেশি হলেই বিপদ। কম ঘুম বা বেশি ঘুমের সঙ্গে টাইপ-২ ডায়েবিটিস-এর একটা সরাসরি যোগাযোগ আছে। গবেষণায় উঠে আসা তথ্য তেমনটাই ইঙ্গিত করেছে। নানা স্তরের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর গবেষণা থেকে জানা গেছে এ কথা।

বেশি বা কম ঘুম বলতে কী বোঝায়? রাতে নঘণ্টা বেশি ঘুমকে বেশিবলা হচ্ছে। আর সাত ঘণ্টার কম ঘুমকে কমবলে চিহ্নিত করা হয়। ঘুমের ঘাটতি বা আধিক্যের সঙ্গে ডায়েবিটিস-২ রোগের এক সরাসরি যোগ লক্ষ্য করা গেছে। তেমনটাই জানা গেছে একাধিক গবেষণা থেকে।

আধুনিক জীবনের নানা ধরনের চাপ, ঘুমের স্বাভাবিক নিয়মে ব্যাঘাত ঘটায় বলে মনে করা হয়। এক শ্রেণীর মানুষ এখন গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন। আবার সকালে উঠে কাজে বেরন। অনেকের আবার সকাল হয় দুপুর বারোটায়। সব প্রাণীর শরীরে একটা ঘড়ি আছে। সেই ঘড়ির নিয়ম অনুযায়ী আমাদের ঘুম আসে। এক সময় আপনা থেকে তা ভেঙ্গও যায়। সূর্যদয় ও সূর্যাস্তের সঙ্গে আমাদের শরীরের ভেতরকার সেই ঘড়ি বাঁধা। কিন্তু কিছু কাল হল, কৃত্রিম আলোর সাহায্যে, অন্ধকারকে আমরা আমাদের জীবন থেকে বিতাড়িত করেছি। সেই সঙ্গে কমিয়ে এনছি ঘুমের সময়। অনেক রাত অবধি আমরা এখন জেগে থাকি। আমরা না চাইলেও, আমাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলি শরীরের সেই ঘড়ির কাঁটা ধরেই চলতে চায়। তাদের নির্ধারিত কাজ তারা নির্দিষ্ট সময়েই করার জন্য পস্তুত থাকে। কিন্তু আমরা সময় মতো ঘুমই না। আর প্রয়োজনের তুলনায় কম বা বেশি ঘুমিয়ে থাকি। তাই আমাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলির কাজেও ব্যাঘাত ঘটে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্ব জুড়ে ডায়েবিটিস নামক অসুখটি দ্রুত বেড়ে চলেছে। ভারতেও তাই ঘটছে। গবেষকরা বলছেন, ঘুম কম বেশি হলে, শরীরের মেটাবলিজিমবা খাবার থেকে শক্তি সঞ্চয়ের প্রক্রিয়াটি ব্যাহত হয়। আর তার ফলে, আমাদের রক্তে সরকরার পরিমাণ বেড়ে যায়। তাকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এবং আমরা ডায়েবিটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ি।

ছবি: উইকিপিডিয়া কমন্স

Comments

Popular posts from this blog

জল - চাহিদা বড়ছে, যোগান কমছে

প্রকৃতি তৈরি করছে প্লাস্টিকের পাথর

গাছেরা কি দেখতে পায়