সমুদ্রের জলে অক্সিজেন কমছে
অক্সিজেন
ছাড়া প্রাণীরা বাঁচে না। মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি প্রাণী আছে যারা অক্সিজেন ছাড়াও
বাঁচতে পারে। স্থলের প্রাণীরা অক্সিজেন পায় বাতাস থেকে। আর জলের প্রাণীরা পায় জল
থেকে। বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ যদি কমে যায়, তা হলে, স্থলের প্রাণীরা শ্বাস কষ্টের শিকার
হয়। যেমন, পর্বতারোহীরা সঙ্গে করে অক্সিজেন
সিলিন্ডার নিয়ে যান। কারণ,
খুব উচ্চতায় বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ
কম থাকে। বাড়তি অক্সিজেনের যোগান ছাড়া, বেশি উচ্চতায় সাধারণ মানুষের বাঁচা কঠিন হয়ে পড়ে। এবার যদি পৃথিবীর
সর্বত্রই বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়, তাহলে মানুষ সহ স্থলের সব প্রাণীইরইতো দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হবে।
সকলকে তো আর সিলিন্ডার করে বাড়তি অক্সিজেন যোগানো যাবে না।
ঠিক
তেমনই ভাবে, পুকুর, দিঘি, নদী, সমুদ্রের জলে যদি তেমন অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়, তা হলে জলের সব প্রাণীদেরও দম বন্ধ হয়ে
আসার উপক্রম হবে। এবং জানা যাচ্ছে যে, ইতিমধ্যেই জলে অক্সিজেনের পরিমাণ একটু হলেও কমেছে। আর এই ধারা বজায়
থাকলে, সমুদ্রের জলে অক্সিজেন আরও কমে গিয়ে এক
ঘোরতর সঙ্কট সৃষ্টি করবে।
মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রের রেনসেল্যার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পরিবেশ বিজ্ঞানী কেভিন রোজবলেছেন যে, জলে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়াকেও
পরিবেশের একটা বড় সঙ্কট বলে ঘোষণা করা প্রয়োজন। কারণ, জলে অক্সিজেনের পরিমাণের ওপর নির্ভর
করবে অসংখ্য জলজ প্রাণীর জীবন। আর সেই সঙ্গে তাদের ওপর নির্ভর করে থাকা মানুষের
জীবন ও জীবিকাও।
‘সায়েন্স অ্যালার্ট’-এ প্রকাশিত এক লেখায় বলা হয়েছে যে, উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা
বেড়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা বেড়ে গেলে, জলের অক্সিজেন ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়। আরও বলা হয়েছে যে, জলে যদি এক কোষের উদ্ভিদ বা জীবাণুর
পরিমাণ অতিরিক্ত বেড়ে যায়,
তাহলে তারা অতি মাত্রায় অক্সিজেন শুষে
নেয়। এবং কৃষিতে ব্যবহার করা রাসায়নিক সার ও নানা ধরনের বর্জ্য পদার্থ জলে মিশলে
ওই ক্ষুদে উদ্ভিদ ও জীবাণুর সংখ্যা হু হু করে বেড়ে যায়।
ছবি: উইকিপিডিয়াকমন্স

Comments
Post a Comment