Posts

হিমবাহগুলি ফিরে পাওয়া অসম্ভব

Image
আমরা কি উষ্ণায়নের লক্ষণরেখা অতিক্রম করতে চলেছি ? হয়ত তাই। পৃথিবীর বর্তমান গড় তাপমাত্রা যদি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যায় , তাহলে আমরা এক গভীর সঙ্কটের দিকে এগিয়ে যাব। তেমনটাই বলেছেন বিজ্ঞানীরা। ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমাটা তাঁরাই বেঁধে দিয়ে ছিলেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে , পৃথিবী সেই বিপদ সীমা লঙ্ঘন করতে চলেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন যে , গত বছর সেই সীমা ইতিমধ্যেই লঙ্ঘিত হয়েছে। গত বছরই প্রথম , পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। উষ্ণায়নের প্রভাব এরই মধ্যে বেশ প্রকট হয়ে উঠতে শুরু করেছে পাহাড় পর্বত ও মেরু অঞ্চলে। সেখানে হিমবাহগুলি গলে যাচ্ছে। গলে যাচ্ছে খুব দ্রুত হারে। দশ বছর আগেও যা মনে করা হয়েছিল , তার চেয়েও অনেক তাড়াতাড়ি গলছে পৃথিবীর বরফ। যার আরও একটা মানে হল , দ্রুত কমে যাচ্ছে বিশ্বের মিষ্টি জলের উৎস ও ভা ন্ডার গুলি। মিষ্টি জল , যা মানুষ সহ অসংখ্য প্রাণীর বেঁচে থাকা নিশ্চিত করে , তারই উৎস সঙ্কুচিত হচ্ছে! ইংলন্ডের ব্রিস্টল ও অস্ট্রিয়ার ইনস ব্রু ক ইউনিভারসিটির এক যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে , প্রগতির যে পথ ধরে আমরা এগোচ্ছি ,   তাতে পৃথিবী গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সে...

জল - চাহিদা বড়ছে, যোগান কমছে

Image
  গ্রীষ্ম আসছে। জলের চাহিদা বাড়ছে। পৃথিবীজুড়ে জলের চাহিদা এবং জলের যোগানের মধ্যে বিস্তর ফারাক সৃষ্টি হয়েছে। ফলে , অনেক দেশের বহু মানুষ তাঁদের মিষ্টি জলের জাহিদা মেটাতে পারেন না। জলের সন্ধানে যেতে হয় অনেক দূর। সেখানে লাইনে দাঁড়াতে হয় অনেক ক্ষণ। বচসাও বাধে। তারপর হাতাহাতি যে হয় না , এমনও নয়। বর্তমানে পৃথিবী জুড়ে মিষ্টি জলের যে ঘাটতি রয়েছে তা বিপুল। বছরে ৪৫৮০০ কোটি ঘন মিটার জলের ঘাটতি দেখা দেয় বিশ্বে। হিসেব কষে এমনই এক সংখ্যার কথা বলা হয়েছে ‘ নেচার কমিউনিকেশন ’ জার্নালে । এই ঘাটতি কি করে মেটান যাবে তা স্পষ্ট নয় এখনও। অন্যদিকে , আশঙ্কা হল , উষ্ণায়ন জলের চাহিদা আরও বাড়িয়ে দেবে। মনে করা হচ্ছে , পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা যদি শিল্প বিপ্লবের আগের গড় তাপমাত্রার তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যায় , তা হলে , জলের চাহিদা আরও ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। আর গড় তাপমাত্রা যদি সে যুগের তুলনায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ে , তা হলে চাহিদা বেড়ে হবে ১৫ শতাংশ। শিল্প বিপ্লবের আগে , পৃথিবীর গড় তাপমাত্রাকেই একটা মাপকাঠি হিসেবে ধরা হয়। কারণ , সেই সময় , মানুষের কার্যকলাপের দরুন সৃষ্টি হওয়া গ্রিনহাউস গ্যাস তেমন তৈরি হত না।...

ভবঘুরে পটলের বিচিত্র জীবন

Image
  সব কুকুরেরই একটা নির্দিষ্ট জায়গা থাকে। হাবলু কালু , ভুতো , লালি , কুকি - আমাদের আদর-অনাদরের দেশীরা জন্মের পর , বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে , নিজেদের থাকার জায়গা ঠিক করে নেয়। কেউ বেছে নেয় রাস্তার মোড় , কেউ থাকে গলিতে , কেউ পার্কে , কেউ বাজারের আশেপাশে , কেউ আবার অমুকদের বাড়ির উঠনের এক কোণে জায়গা পায়। সেখানেই তারা থাকে। কয়েকজন মিলে , নিজেদের একটা ছোটখাট দল তৈরি করে। একা থাকা ওরা মোটেই পছন্দ করে না। আর নিজেদের জায়গা সম্পর্কে ওরা বেশ সচেতন। বহিরাগত কেউ তাদের আস্তানার সীমানার মধ্যে পা রাখলেই , গোলমাল বাধে। কিন্তু পটলের বাড়ি কোথায় ? কেউ জানে না। পটল নিজেও জানে না কোথায় তার স্থায়ী আস্তানা। ওর কোনও দলও নেই। ও একা একা থাকে। আজ এখান , কাল সেখান। প্রকৃত অর্থেই ও ভবঘুরে। এটাও লক্ষণীয় যে , পটল যখন এ-পাড়া থেকে ও-পাড়া , ও-পাড়া থেকে সে-পাড়ার মধ্যে চলা ফেরা করে , তখন সেই সব পাড়ার স্থায়ী সারমেয়রা কিন্তু পটলের পথ আটকায় না। ওর ওপর চড়াও হয় না দল বেঁধে। ওকে নিরাপদে যাওয়া আসা করতে দেয়। কেন দেয় , সে এক রহস্য। পটল একটি মেয়ে কুকুর। এক দিন সকালে ওকে দেখা গিয়ে ছিল সল্টলেকের সিকে-সিএল ব্লকের মাঠে। তখন তার বয়স ম...

উষ্ণায়নে গরিবের সঙ্কট বেশি - দুফলো

Image
  আবহাওয়া পরিবর্তন এখন আর কোনও ভবিষ্যৎ আশঙ্কার বিষয় নয়। সেই পরিবর্তন এখন আমাদের চোখের সামনে ঘটে চলেছে। তার প্রভাব আমরা অনুভব করছি। এই বছরের কলকাতা বইমেলায় , এ বিষয়ে কথা বলেন নোবেল পুরস্কার-প্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ এস্থার দুফলো । তাঁর সাক্ষাৎকারটি নেন রুদ্র চ্যাটার্জি , চা শিল্প সহ অন্যান্য ব্যবসার সঙ্গেও যিনি যুক্ত। আমরা যদি যেমন চলছি তেমনই চলি , পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে যদি কোনও পদক্ষেপ না নিই , তাহলে আগামী দশ বছর পরে কলকাতার অবস্থা কেমন হবে ? এমনই প্রশ্ন দিয়ে শুরু হয় সাক্ষাৎকার। দুফলো বলেন , ওই প্রশ্নের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক কিছু যা তাঁর বিষয় নয়। তবুও , যদি দশ কুড়ি বছরের একটা সময় কাল ধরা হয় , তাহলে , আমরা যাই করি না কেন , সেই সময়ের মধ্যে আবহাওয়া পরিবর্তন ঠেকানো সম্ভব হবে না । পৃথিবীর গড় তাপমাত্রার বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে বেঁধে দেওয়া হয়েছিল প্যারিসে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক আলোচনা সভায়। গড় তাপমাত্রা যদি তার বেশি বাড়ে , তাহলে এই গ্রহ এক গভীর সঙ্কটের সম্মুখীন হবে। সে বিষয়ে এক মত হয়ে ছিলেন সকলে। কিন্তু , দুফলো বলেন , আমরা তো ইতি মধ্যেই ১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গেছি। অর্থাৎ ...

প্রকৃতি তৈরি করছে প্লাস্টিকের পাথর

Image
  প্রকৃতিতে এখন নতুন নতুন পাথর তৈরি হচ্ছে। প্রকৃতি সব সময়ই নতুন কিছু তৈরি করে , বদল ঘটায়। বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে তাই হয়ে থাকে। কিন্তু প্রকৃতি এখন মানুষের সৃষ্ট বস্তুকে কাজে লাগাচ্ছে নিজের মতো করে। যেমন , নানা ধরনের পাথর , শিলা খণ্ড তো প্রকৃতি তৈরি করে চলেছে এই গ্রহের আদি পর্ব থেকে। ভূত ত্ত্ব বিদরা বলতে পারবেন কত ধরনের পাথর আছে পৃথিবীতে। বিভিন্ন বস্তু , তাপ-উত্তাপ , চাপ আর রাসায়নিক পদার্থের আলাদা আলাদা মিশেল দিয়ে সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবীর বৈচিত্র্যময় প্রস্তর সম্ভার। কিন্তু সেই পাথর তৈরির কাজে আকাশ থেকে ঝরে পড়া উল্কার অবদান থাকলেও , মানুষের কোন হাত ছিল বলে কেউ বোধহয় দাবি করবেন না। তবে ইঁটকে যদি এক ধরনের পাথর বলে গণ্য করা হয় , তাহলে হয়ত বলা যেতে পারে যে , সেই সিন্ধু সভ্যতা বা তুরস্কের জনপদের যুগ থেকে (প্রায় ৭ , ০০০ বছর আগে) মানুষ পাথর তৈরি করছে। আগুনে পুড়িয়ে তৈরি করছিল মাটির ইঁট। তার সঙ্গে যোগ করা যেতে পারে বাড়ি , বড় স্থাপত্য বা বাঁধ নির্মাণের পদার্থ সিমেন্ট , বালি আর পাথর কুচির মিশ্রণ কংক্রিট। রাস্তায় কংক্রিটের ভাঙ্গা টুকরো পড়ে থাকলে তাকে পাথর বলে মনে হতে পারে। এক অর্থে সেটা মানুষের তৈর...

কোনও রাজা রাণী ছিল না মহেঞ্জোদারোয়

Image
  মহেঞ্জোদারো আমরা যদি এক ‘ সবাই রাজার দেশে ’ বা এক নৃপতিহীন রাজ্য যেতে চাই ,   তা হলে বাক্স-প্যাটরা , জলের বোতল নিয়ে চড়ে বসতে হবে একটা টাইম মেশিনে। সেটা আমাদের নিয়ে যাবে বহু দূরে। আজ থেকে প্রায় হাজার পাঁচেক বছর পেছনে। সেই কয়েক হাজার বছর আগের এক কাক-ডাকা ভোরে , আমরা পৌঁছে যাব আমাদের গন্তব্যে: মহেঞ্জোদারো। সে এক জমজমাট শহর। রাস্তাঘাট , বাড়িঘর , দোকানপাট , খাদ্যশস্যের ভা ণ্ডা র ,   সুভদ্র নাগরিক বৃন্দ   — সব মিলিয়ে যাকে বলে এক সমৃদ্ধ সভ্যতা। সেই নগরের অদূরেই বয়ে গেছে এক নদ। সিন্ধু নামে সেই প্রবাহ আজও খ্যাত। ভ্রমণপিপাসু পর্যটক আমরা। তাই সময় নষ্ট না করে আমরা সকাল সকাল নগর দর্শ নে বেরিয়ে পড়ব। ২০২৪ সালের জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত আমরা। তাই খৃস্টপূর্ব ২৬০০ সালের এক শহরে গিয়ে আমরা যে দিশেহারা বোধ করব ,   তা কিন্তু নয়। দেখব ,   আজকের অনেক শহরতলির চেয়ে সেই শহর অনেক বেশি উন্নত। ঠিকই যে ,   সেখানে গাড়িঘোড়া , বাস , ট্রাম , ট্রেন , অটো , টোটো , রিক্সা ইত্যাদি নেই। তাই চলা ফেরা করতে গেলে পা য়ের জোর লাগবে কিছু বেশি। আরও একটা সমস্যা অবশ্য আমাদের বেশ বেগ দেবে। তা হল ভা...