Posts

ভবঘুরে পটলের বিচিত্র জীবন

Image
  সব কুকুরেরই একটা নির্দিষ্ট জায়গা থাকে। হাবলু কালু , ভুতো , লালি , কুকি - আমাদের আদর-অনাদরের দেশীরা জন্মের পর , বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে , নিজেদের থাকার জায়গা ঠিক করে নেয়। কেউ বেছে নেয় রাস্তার মোড় , কেউ থাকে গলিতে , কেউ পার্কে , কেউ বাজারের আশেপাশে , কেউ আবার অমুকদের বাড়ির উঠনের এক কোণে জায়গা পায়। সেখানেই তারা থাকে। কয়েকজন মিলে , নিজেদের একটা ছোটখাট দল তৈরি করে। একা থাকা ওরা মোটেই পছন্দ করে না। আর নিজেদের জায়গা সম্পর্কে ওরা বেশ সচেতন। বহিরাগত কেউ তাদের আস্তানার সীমানার মধ্যে পা রাখলেই , গোলমাল বাধে। কিন্তু পটলের বাড়ি কোথায় ? কেউ জানে না। পটল নিজেও জানে না কোথায় তার স্থায়ী আস্তানা। ওর কোনও দলও নেই। ও একা একা থাকে। আজ এখান , কাল সেখান। প্রকৃত অর্থেই ও ভবঘুরে। এটাও লক্ষণীয় যে , পটল যখন এ-পাড়া থেকে ও-পাড়া , ও-পাড়া থেকে সে-পাড়ার মধ্যে চলা ফেরা করে , তখন সেই সব পাড়ার স্থায়ী সারমেয়রা কিন্তু পটলের পথ আটকায় না। ওর ওপর চড়াও হয় না দল বেঁধে। ওকে নিরাপদে যাওয়া আসা করতে দেয়। কেন দেয় , সে এক রহস্য। পটল একটি মেয়ে কুকুর। এক দিন সকালে ওকে দেখা গিয়ে ছিল সল্টলেকের সিকে-সিএল ব্লকের মাঠে। তখন তার বয়স ম...

উষ্ণায়নে গরিবের সঙ্কট বেশি - দুফলো

Image
  আবহাওয়া পরিবর্তন এখন আর কোনও ভবিষ্যৎ আশঙ্কার বিষয় নয়। সেই পরিবর্তন এখন আমাদের চোখের সামনে ঘটে চলেছে। তার প্রভাব আমরা অনুভব করছি। এই বছরের কলকাতা বইমেলায় , এ বিষয়ে কথা বলেন নোবেল পুরস্কার-প্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ এস্থার দুফলো । তাঁর সাক্ষাৎকারটি নেন রুদ্র চ্যাটার্জি , চা শিল্প সহ অন্যান্য ব্যবসার সঙ্গেও যিনি যুক্ত। আমরা যদি যেমন চলছি তেমনই চলি , পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে যদি কোনও পদক্ষেপ না নিই , তাহলে আগামী দশ বছর পরে কলকাতার অবস্থা কেমন হবে ? এমনই প্রশ্ন দিয়ে শুরু হয় সাক্ষাৎকার। দুফলো বলেন , ওই প্রশ্নের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক কিছু যা তাঁর বিষয় নয়। তবুও , যদি দশ কুড়ি বছরের একটা সময় কাল ধরা হয় , তাহলে , আমরা যাই করি না কেন , সেই সময়ের মধ্যে আবহাওয়া পরিবর্তন ঠেকানো সম্ভব হবে না । পৃথিবীর গড় তাপমাত্রার বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে বেঁধে দেওয়া হয়েছিল প্যারিসে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক আলোচনা সভায়। গড় তাপমাত্রা যদি তার বেশি বাড়ে , তাহলে এই গ্রহ এক গভীর সঙ্কটের সম্মুখীন হবে। সে বিষয়ে এক মত হয়ে ছিলেন সকলে। কিন্তু , দুফলো বলেন , আমরা তো ইতি মধ্যেই ১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গেছি। অর্থাৎ ...

প্রকৃতি তৈরি করছে প্লাস্টিকের পাথর

Image
  প্রকৃতিতে এখন নতুন নতুন পাথর তৈরি হচ্ছে। প্রকৃতি সব সময়ই নতুন কিছু তৈরি করে , বদল ঘটায়। বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে তাই হয়ে থাকে। কিন্তু প্রকৃতি এখন মানুষের সৃষ্ট বস্তুকে কাজে লাগাচ্ছে নিজের মতো করে। যেমন , নানা ধরনের পাথর , শিলা খণ্ড তো প্রকৃতি তৈরি করে চলেছে এই গ্রহের আদি পর্ব থেকে। ভূত ত্ত্ব বিদরা বলতে পারবেন কত ধরনের পাথর আছে পৃথিবীতে। বিভিন্ন বস্তু , তাপ-উত্তাপ , চাপ আর রাসায়নিক পদার্থের আলাদা আলাদা মিশেল দিয়ে সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবীর বৈচিত্র্যময় প্রস্তর সম্ভার। কিন্তু সেই পাথর তৈরির কাজে আকাশ থেকে ঝরে পড়া উল্কার অবদান থাকলেও , মানুষের কোন হাত ছিল বলে কেউ বোধহয় দাবি করবেন না। তবে ইঁটকে যদি এক ধরনের পাথর বলে গণ্য করা হয় , তাহলে হয়ত বলা যেতে পারে যে , সেই সিন্ধু সভ্যতা বা তুরস্কের জনপদের যুগ থেকে (প্রায় ৭ , ০০০ বছর আগে) মানুষ পাথর তৈরি করছে। আগুনে পুড়িয়ে তৈরি করছিল মাটির ইঁট। তার সঙ্গে যোগ করা যেতে পারে বাড়ি , বড় স্থাপত্য বা বাঁধ নির্মাণের পদার্থ সিমেন্ট , বালি আর পাথর কুচির মিশ্রণ কংক্রিট। রাস্তায় কংক্রিটের ভাঙ্গা টুকরো পড়ে থাকলে তাকে পাথর বলে মনে হতে পারে। এক অর্থে সেটা মানুষের তৈর...

কোনও রাজা রাণী ছিল না মহেঞ্জোদারোয়

Image
  মহেঞ্জোদারো আমরা যদি এক ‘ সবাই রাজার দেশে ’ বা এক নৃপতিহীন রাজ্য যেতে চাই ,   তা হলে বাক্স-প্যাটরা , জলের বোতল নিয়ে চড়ে বসতে হবে একটা টাইম মেশিনে। সেটা আমাদের নিয়ে যাবে বহু দূরে। আজ থেকে প্রায় হাজার পাঁচেক বছর পেছনে। সেই কয়েক হাজার বছর আগের এক কাক-ডাকা ভোরে , আমরা পৌঁছে যাব আমাদের গন্তব্যে: মহেঞ্জোদারো। সে এক জমজমাট শহর। রাস্তাঘাট , বাড়িঘর , দোকানপাট , খাদ্যশস্যের ভা ণ্ডা র ,   সুভদ্র নাগরিক বৃন্দ   — সব মিলিয়ে যাকে বলে এক সমৃদ্ধ সভ্যতা। সেই নগরের অদূরেই বয়ে গেছে এক নদ। সিন্ধু নামে সেই প্রবাহ আজও খ্যাত। ভ্রমণপিপাসু পর্যটক আমরা। তাই সময় নষ্ট না করে আমরা সকাল সকাল নগর দর্শ নে বেরিয়ে পড়ব। ২০২৪ সালের জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত আমরা। তাই খৃস্টপূর্ব ২৬০০ সালের এক শহরে গিয়ে আমরা যে দিশেহারা বোধ করব ,   তা কিন্তু নয়। দেখব ,   আজকের অনেক শহরতলির চেয়ে সেই শহর অনেক বেশি উন্নত। ঠিকই যে ,   সেখানে গাড়িঘোড়া , বাস , ট্রাম , ট্রেন , অটো , টোটো , রিক্সা ইত্যাদি নেই। তাই চলা ফেরা করতে গেলে পা য়ের জোর লাগবে কিছু বেশি। আরও একটা সমস্যা অবশ্য আমাদের বেশ বেগ দেবে। তা হল ভা...

টইটেনোসরাসের হ্যাচারি ভারতের মধ্যপ্রদেশ

Image
  মধ্যপ্রদেশের নর্মদা উপত্যকা যদি কখনও যান , জানবেন আপনি ডাইনোসরদের খাস তালুকে পা রেখেছেন। আজ যে ভাবে নর্মদা নদী বয়ে যায় , কোটি কোটি বছর আগে ঠিক তেমন ভাবেই বইত কিনা বলা মুস্কিল। তবে যেখানে বিন্ধ্যাচল ও সতপুরা পর্বতমালা একে অপরের সঙ্গে মিলেছে , সেই অমরকণ্টক থেকে নর্মদার যাত্রা শুরু। সেই সব জায়গা এখনও অরণ্যে ঢাকা। বন্য প্রাণীও আছে , প্রায় ৭৬ প্রজাতির। তার মধ্যে আছে আমাদের রয়েল বেঙ্গল টাইগার , গওর বা বুনো মো ষ, ঢোল বা বন্য কুকুর , ভালুক , চৌ সিঙ্গা বা এক প্রজাতির হরিণ ও ব ø ্যাকবাক। এক কালে , এখানে যত্রতত্র ঘুরে বেড়াত ডাইনোসরেরা। সেটা ছিল ক্রিটেসিয়াস যুগের শেষ দিক। অর্থাৎ , ৬৬.৬ মিলিয়ন বা সাড়ে ছ ’ কোটি বছর আগে। আর তারা কোনও হেঁজিপেঁজি , এলেবেলে ডাইনোসর ছিল না। তারা ছিল টাইটানোসরাস। সমগ্র ডাইনোসর কূলে বৃহত্তমদের মধ্যে একটি দৈত্যকায় প্রজাতি। তাদের আকৃতির কথা মনে রেখেই তাদের নাম রাখা হয়। গ্রিক শব্দ ‘ টাইটান ’- এর মানে হল প্রকাণ্ড, শক্তিমান। তাই তাদের নাম দেওয়া হয় টাইটানোসরাস। নর্মদা উপত্যকা ধার জেলায় সম্প্রতি পাওয়া গেছেটাইটানোসরাসের ২৫৬ টি ডিমের ফসিল । এই আবিষ্কার করেছেন দিল্লি বিশ্ব...

গাছেরা প্রাণ বাঁচায়

Image
  গাছেরা প্রাণ বাঁচায় মানুষের। তার মানে এই নয় যে , আমরা বিপদে পড়লে , তারা শেকড়বাকড় তুলে লাফিয়ে এসে আমাদের বিপদ মুক্ত করে। তারা যেটা করে , তা হল মানুষের মৃত্যু হার কমায়। ফ্রেন্ডস অফ দ্য ট্রিজ (গাছেদের বন্ধু) নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা , মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ড শহরের রাস্তার দু ’ ধারে প্রচুর গাছ লাগায় ৩০ বছর আগে। মানুষের ওপর সেই তিন দশক আগে লাগানো গাছগুলির প্রভাব কেমন হয়েছে , তা নিয়ে একটি গবেষণা হয় সম্প্রতি। সেই গবেষণা থেকে জানা গেছে যে , গাছগুলি ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের মৃত্যু হার বেশ খানিকটা কমিয়েছে। গবেষকরা এও দেখেছেন যে , গাছগুলি লাগাতে ও সেগুলির দেখাশোনা করতে যা খরচ হয়েছে , সেগুলি থেকে যে সুফল পাওয়া গেছে , টাকার হিসেবে তার মূল্য অনেক বেশি। শহরের যে সব এলাকায় গাছগুলি লাগনো হয় , গবেষকরা সেই সব এলাকার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেন। দেখা যায় , গাছ লাগানর আগে , সে সব এলাকায় মৃত্যু হার যা ছিল , গাছগুলি লাগানোর পর সেগুলি ধীরে ধীরে বড় ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সেই সব এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে মৃত্যু হার কমতে থাকে। কোথাও কোথাও তা ২০ শতাংশ...

হাওয়া বদল আনল ডাইনোসরদের

Image
  পৃথিবীতে বদল এসেছে বার বার। আর দেখা গেছে , পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার পেছনে নিঃশব্দে কাজ করেছে আবহাওয়া পরিবর্তন। হাওয়া   বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে পৃথিবীর চেহারাও।   আজ থেকে ২৫ কোটি বছর আগে , পৃথিবীর স্থলভাগ বলতে   একটাই বিরাট মহাদেশ ছিল। আজকের এশিয়া , আফ্রিকা , ইউরোপ , অস্ট্রেলিয়া , উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার মতো আলাদা আলাদা মহাদেশে ভাগ করা ছিল না পৃথিবী। ব্যবস্থাটা   ছিল বেশ সোজাসাপ্টা। একদিকে স্থল , অন্য দিকে   জল। সেই সময় , গাছপালা পৃথিবীর   মাটিতে বেশ শক্তপক্ত ভাবে শেকড় বিস্তার করেছে। জঙ্গলটঙ্গল ঘন হয়েছে নানা দিকে। নানা   ধরনের প্রাণীও   দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তখন।   ডাইনোসরেদের অবির্ভাব ঘটেছে , কিন্তু পৃথিবীতে রাজ করছে অন্য এক ধরনের প্রাণী। চার পায়ে চলে। ল্যাজ আছে   লম্বা। মুখের চেহারা পাখির   সঙ্গে মেলে। দেখতে   অনেকটা   আজকের কুমিরের মতো। কিন্তু   আকারে বিস্তর বড়। তাদের   এক দল ঘাসপাতা খায় , আর এক দল মাংস। তাদের দাপাদাপির ফলে , ডাইনোসরেরা তেমন সুবিধে   করে উঠতে পারছে না। ...