Posts

কাশ্মীরের বিশ্ববিখ্যাত জাফরান বিপন্ন হচ্ছে

Image
  জাফরান ছাড়া অনেক খাবার র ন্নাই করা যায় না। বিশেষ করে তা যদি হয় মুসলিম ঘরানার সুস্বাদু সব খাবার। বিশ্বের অনেক দেশেই জাফরানের চাষ হয়। ইরান , ভারত , গ্রিস , তুরষ্ক মরোক্কো , ফ্রান্স , ইতালি , স্পেন , পাকিস্তান , চিন , জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায়। তবে জাফরান উৎপাদনে প্র থ ম স্থানে রয়েছে ইরান। বিশ্বের জাফরান চাহিদার ৮০ শতাংশই মেটায় ওই দেশ। সেই তুলনায় , ভারতের অবদান ৫ শতাংশ। ভারতে ৯০ ভাগ জাফরানই চাষ করা হয় জম্মু ও কাশ্মীরে। তাও আবার সে রাজ্যের দু ’ টি জেলা , পুলওয়ামা ও বগদম-এ এই অতি সুগন্ধী উদ্ভিদটির চাষ মূলত সীমা বদ্ধ। কিন্তু এই জম্মু ও কাশ্মীরের জাফরানই বিশ্বের সেরা বলে বিবেচিত হয়।   জম্মু ও কাশ্মীরের ওই অতি উৎকৃষ্ট জাফরানের উৎপাদন কিন্তু কমে যাচ্ছে। ল ক্ষ্য   করা গেছে যে , বেশ কয়েক বছর ধরে এমনটা হয়ে চলেছে। ‘ নেচার.কম ’- এ প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্রে বলা হয়েছে , বিশেষ তাপ মাত্রা , বৃষ্টি ও মাটির চরিত্রের ওপর নির্ভর করে জাফরানের চাষ। ওই গবেষণা থেকে আরও জানা গেছে যে , ১৯৯৭ থেকে ২০১৫ ’ র মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরে জাফরানের উৎপাদন ৮৩ শতাংশ কমে গেছে। ...

গঙ্গা রহস্য

Image
  গঙ্গার একটা রহস্য আছে। আর সেই রহস্যের কিনারা করতে বিজ্ঞানীরা এখন জলে ডুব দিচ্ছেন। গঙ্গার এক আশ্চর্য ক্ষমতার কথা প্রায়ই শোনা যায়। বলা হয় , নিজের দূষিত জল নাকি সে নিজেই পরিশুদ্ধ করে ফেলতে পারে। তাই গঙ্গাকে পবিত্র নদী ও তার জলকে পবিত্র জল মনে করেন অনেকেই। ধারণাটা নেহাৎ ভুল নয়। তার এই ক্ষমতার কথা বিজ্ঞানী মহলে অনেক দিন ধরেই আলোচিত হচ্ছে। এখন দূষণের মাত্রা অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় , নদী আর নিজেকে আগের মতো দূষণমুক্ত করতে পারছে না। বলা হচ্ছে , বর্তমানে হিমালয়ের হিমবাহ থেকে নেমে আসা গঙ্গার জল ঋষিকেশ  পর্যন্ত সরাসরি পান করা যায়। কিন্তু তার পর সমতল দিয়ে গঙ্গা যতই এগোয় , ততই কলুষিত হতে থাকে তার জল। সেই জল পান করা যায় না। কিন্তু অতীতে একাধিক নগর ও জনপদের পাশ দিয়ে বয়ে গেলেও গঙ্গার জল পান যোগ্য ছিল।   হিন্দুদের কাছে তো সেই আদি কাল থেকেই গঙ্গা পবিত্র নদী বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। এমনকি গঙ্গাকে দেবীর মর্যাদাও দেওয়া হয়েছে শাস্ত্রে। তার জল এতটাই বিশুদ্ধ বলে মনে করা হত যে , কোনও ধর্মীয় কাজ গঙ্গা জল ছাড়া ছিল অসম্ভব। সেই রীতি আজও বজায় আছে।   কিন্তু কেবল যে হিন্দুদের কাছেই গঙ্গার বিশেষ গুরুত্...

প্রাণী নিধনের নতুন ইতিহাস

Image
বিশ্ব ভরা যে বিপুল প্রাণের বৈচিত্র তা যে , ক্র মশই ধ্বংস হচ্ছে , লুপ্ত হচ্ছে তার শুরুটা কিন্তু হয়েছিল হাজার হাজার বছর আগে। মানুষ যখন পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে , সে আবিষ্কার করছে বিশাল বিশাল সব প্রাণীদের , যারা নির্ভয়ে তখন পৃথিবীর বুকে ঘুরে বেড়াতো। কিন্তু সেই দৈত্যাকার প্রাণীরাই একে একে আমাদের এই নীল গ্রহ থেকে হারিয়ে যেতে লাগল। যদিও তখন কোনও বন্দুক ছিল না। ছিল না চোরা শিকারিদের মতো অপরাধী মানুষজনও। তবু তাদের বিলুপ্ত হওয়ার পেছনে মানুষের হাতই বেশি ছিল কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ থাকছে।   দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত ফোব ওয়েস্টনের প্রতিবেদন থেকে যেমন জানা যাচ্ছে , অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা সেই জেনিয়রনিস ’ র কথা। যে ছিল ২ মিটার লম্বা , ২০০ কেজি ওজনেরর পৃথিবীর অন্যতম ভারী ওজনের পাখি। অন্যান্য অনেক দৈত্যাকার প্রাণীদের সঙ্গে সেও সেখানে ঘুরে বেড়াত। কিন্তু সে ৫০ , ০০০ বছর আগেই পৃথিবীর বুক থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।   আবার উত্তর আমেরিকার দৈত্যাকার আর্মাডিলো , যে আকারে ছোট খাটো একটা গাড়ির মতো। সে কিন্তু ১২ , ০০০ বছর আগে পর্যন্তও এই পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াতো।   এই রকম ১৭৮ টিরও বেশি বিশাল প্রজাত...

পদ্ম ফুলের ইতিকথা: প্রথম ফুটেছিল ১৪৫ কোটি বছর আগে

Image
  একদা পৃথিবীর বুকে ঘুরে বেড়ানো দৈত্যাকার ডায়নোসরের মতো প্রাণীরা প্রাকৃতিক বিপর্যয় কিম্বা প্রতিকুল আবহাওয়ায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। ম্যামোথরাও বিলীন হল। অথচ আশ্চর্য , জলের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা একটা হালকা পলকা ডাঁটার ওপর ফোটা নরম কমল বা পদ্ম ফুল কি করে কোটি কোটি বছর ধরে অযুত ঝড় ঝাপটা সয়ে টিকে গেল এই পৃথিবীতে! অসাধারণ সুন্দর এই জলজ ফুলটি প্রথম ফুটেছিল বাতার পথম জন্ম হয়েছিল নাকি ১৪৫ কোটি ৫০ লক্ষ থেকে ৬৫ কোটি ৫০ লক্ষ বছর আগে । বিজ্ঞানীরা অন্তত তেমনটাই বলছেন।   না , যুগ যুগ ধরে ঘটে চলা কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ই তার অস্তিত্বকে নির্মূল করতে পারেনি। এমনকি বিগত তুষার  যুগে যা ১ কোটি ৮০ লক্ষ বছর থেকে ১০ , ০০০ আগে পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল , সেই যুগেও অনন্য এই পদ্ম ফুল কিন্তু হাজারও প্রতিকুলতার সঙ্গে লড়াই করেছে। এবং তার মোকাবিলা করে সে আজও পৃথিবীর বুকে আন্দোলিত হচ্ছে। তবে সত্য যে , পৃথিবীর কোনও কোনও জায়গা থেকে সে উধাও হয়ে গেছে। বর্তমানে সেই সব জায়গা থেকে পাওয়া তার ফসিল বা জীবাশ্ম জানান দেয় যে , একদা সেখানেও তারা প্রস্ফুটিত হত।   প্রাগৈতিহাসিক যুগের বাসিন্দা এই পদ্মের বহু...

উট কাঁটা বেছে খায় না

Image
  উটরা কি কাঁটা বেছে খায় ? সোনার কেল্লায় যাওয়ার পথে , এই অতি জরুরি প্র শ্ন টা জেগে ছিল জটায়ুর মনে। মরুভূমিতে গাছপালা তো তেমন থাকে না। যেগুলি থাকে , অনেক ক্ষেত্রে সেগুলির ডাল পালা আবার কাঁটায় ভরা। তা হলে , মরুভূমিতে উটেরা খায় কী ? লাইভ সায়েন্স-এ প্রকাশিত একটি লেখা থেকে উটেদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জানা গেল বেশ কিছু কথা। জটায়ু যেবার ফেলুদার সঙ্গে মরুপ্রান্তর পেরিয়ে সোনার কেল্লায় যাচ্ছিলেন , সেই সময় উটেদের খাদ্য তালিকা ও তাদের খাওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে এত কিছু জানা ছিল না।   লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের সঙ্গে কথা বলে , লাইভ সায়েন্স জানতে পারে যে , মরুভূমিতে থাকতে থাকতে , সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে নানা ভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে উটেরা। তিন ধরনের উট আছে পৃথিবীতে। ‘ ক্যামেলাস ড্রোমেডারিয়াস ’, ‘ ক্যামেলাস ব্যাক্ট্রিয়ানাস ’ ও ‘ ক্যামেলাস ফেরাস ’ । এদের সকলের পিঠে কুঁজ আছে। ব্যাক্ট্রিয়ানাস উটের পিঠে আবার থাকে দু ’ টো কুঁজ। তাতে জমা থাকে চর্বি। দুর্দিনে , কুঁজে সঞ্চিত চর্বিই ওদের শক্তি যোগায়। তাছাড়া , মরুভূমির কঠিন খাদ্য বেছে বেছে খাওয়ার জন্য , ওদের ঠোঁটগুলিও বিশেষ ভাবে তৈরি। তাদের ও...

২০০০ বছরের বরফ ৩০ বছরে হারালো হিমালয়

Image
  হিমের আলয়ে বরফ আর কত দিন থাকবে ? এভারেস্ট থেকে যে তথ্য এসেছে , তা মোটেই ভালো নয়। হিমালয় সম্পর্কে যাঁরা খোঁজ খবর রাখেন , তাঁরা সাউথ কোল-এর নাম শুনে থাকবেন। ২৬ , ০০০ ফিট ওপরে , সেটি একটি হিমবাহ। এভারেস্টে যে পর্বতারোহীরা ওঠেন , তাঁরা এই হিমবাহ পেরিয়ে পৃথিবীর সব চেয়ে উঁচু শৃঙ্গের দিকে অগ্রসর হন।   সেই হিমবাহ দ্রু ত গলে যাচ্ছে। সব হিমবাহই গলে। আবার তুষারপাতের ফলে , বরফ জমা হয় সেখানে। কিন্তু ‘ সাউথ কোল গলছে এক অস্বাভাবিক হারে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা পত্রে বলা হয়েছে যে , সাউথ কোল-এ যে হারে বরফ জমে ছিল , তার চেয়ে ৮০ গুণ হারে গলে যাচ্ছে সেখানকার বরফ।   গবেষকরা ওই পাহাড়ে দু ’ টি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ স্টেশন তৈরি করে ছিলেন। পৃথিবীতে সেগুলি হল সব চেয়ে উঁচুতে অবস্থিত ওই ধরনের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। সেখান থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে , সেখানে যে বরফ জমা হতে সময় লেগে ছিল ২ , ০০০ বছর , সেই পরিমাণ বরফ ১৯৯০-এর পর থেকে গলে গেছে । অর্থাৎ , মাত্র ৩২ বছরের মধ্যে।   গবেষকরা এও বলেছেন , যে দশ বছর ধরে জমে ওঠা বরফ গলে যাচ্ছে এক বছরে। তথ্য থেকে আরও জানা গেছে যে , সাউথ কোল-...

এবার রেকর্ড ভাঙ্গল সিও-২

Image
  বেড়েই চলেছে ,   সে বেড়েই চলেছে। তাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশ্ব জুড়ে কত বৈঠক , কত চুক্তি। কিন্তু লাগাম ছাড়া গতিতে তার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে আমাদের বায়ু মন্ডলে , যা পৃথিবীকে ক্র মশ গরম করে তুলছে। সে কার্বন ডাইঅক্সাইড বা সিও-২। এবং গত মে মাসে সে সমস্ত রেকর্ডই ভেঙে ফেলেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন , শিল্প যুগ শুরুর আগে বায়ুমন্ডলে গড়ে যে পরিমাণ সিও টু থাকত , বর্তমানে তার থেকে ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে। আসলে বিদ্যুৎকেন্দ্র , যানবাহন , ফার্ম ও অন্যান্য নানা উৎস থেকে বেরিয়ে আসা কার্বন ডাইঅক্সাইড বায়ুমন্ডলে বিপুল পরিমাণে মিশে যাচ্ছে। ২০২১ সালে বাতাসে ওই কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা ছিল ৩৬২০ কোটি টন। মানব সভ্যতার ইতিহাসে যা সর্বোচ্চ। আর বাতাসে এই সিও টু ’ র মাত্রা বেড়ে পৃথিবী যত গরম হয়ে উঠছে , ততই প্রকৃতিতে অঘটনও ঘটছে বেশি। বর্তমানে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা শিল্প যুগের আগের থেকে বেশি। এবং প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী এই তাপমাত্রা কমানোর যে লক্ষ্য মাত্রাই ঠিক করা হোক না কেন দেখা যাচ্ছে , তা ক্র মশই বেড়ে চলেছে। ফলে বিশ্বের নানা প্রান্তে প্রবল তাপপ্রবাহ বেড়েছে। তার প্রভাবে বিশেষ করে ইউরোপে...