কাশ্মীরের বিশ্ববিখ্যাত জাফরান বিপন্ন হচ্ছে
জম্মু ও কাশ্মীরের ওই অতি উৎকৃষ্ট জাফরানের উৎপাদন কিন্তু কমে যাচ্ছে। লক্ষ্য
করা গেছে যে, বেশ কয়েক বছর ধরে এমনটা হয়ে চলেছে। ‘নেচার.কম’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্রে বলা হয়েছে, বিশেষ তাপ মাত্রা, বৃষ্টি ও মাটির চরিত্রের ওপর নির্ভর করে জাফরানের চাষ। ওই গবেষণা থেকে আরও জানা গেছে যে, ১৯৯৭ থেকে ২০১৫’র মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরে জাফরানের উৎপাদন ৮৩ শতাংশ কমে গেছে। তাহলে কি পরিবেশে তারতম্যের কারণেই এমনটা হয়েছে?
‘মোঙ্গাবে-ইন্ডিয়া’য়
প্রকাশিত একটি লেখায়,
কাশ্মীরের এক জাফরান চাষির অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নাম শেখ মহম্মদ সুলতান। বয়স তাঁর ৬০-এর ঘরে। তিনি জানিয়েছেন, যে জমি থেকে তিনি এক সময় প্রায় ২০০ কেজি জাফরান পেতেন, সেই একই জমি থেকে উনি এখন পান ২০ কেজি মাত্র। তাঁর মতে, জাফরান চাষের ভবিষ্যৎ দিন দিন অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
মনে করা হচ্ছে, আবহাওয়ার পরিবর্তনই ভারতে জাফরানের মতো অমূল্য এক উদ্ভিদকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। এই নিয়ে গবেষণা হয়েছে শের-এ-কাশ্মীর ইউনিভারসিটির কৃষি বিভাগে। তাতে দেখা গেছে, কাশ্মীরে বৃষ্টিপাত ক্রমশ অনিয়মিত হয়ে গেছে। বৃষ্টি পড়ছে অসময়ে। কখনও বেশি, কখনও কম। আবার বৃষ্টি উধাও হয়ে যাচ্ছে থেকে থেকে। চলছে খরা। জাফরান খুব সুখী গাছ। যে-সে জায়গায়, যেনতেন পরিবেশে সে গজায় না। আকাশে, বাতাসে, মাটিতে সব কিছু ঠিক ঠাক থাকলে, তবেই সে অঙ্কুরিত হয়, ফুল ফোটায়। এখন জলবায়ুর যেমন পরিবর্তন ঘটে চলেছে, তাতে বিপন্ন হচ্ছে জাফরান গাছ।
জাফরান বিপন্ন হওয়ার ফলে, ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বহু মানুষের জীবিকা। তাঁদের মধ্যে যেমন আছেন কয়েক হাজার চাষি, তেমনই আছেন জাফরান ব্যবসায়ীরা। তাই এখন জাফরান গাছের জিনে কিছু পরিবর্তন ঘটিয়ে, তাদের আজকের বদলে যাওয়া পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করা যায় কি না, সেটাই দেখা।
ছবি: কাশ্মীরে জাফরান চাষ/স্ক্রোল.ইন

Comments
Post a Comment