Posts

মানুষও কি একদিন বিষধর হবে

Image
  দুর্মুখ মানুষ সম্পর্কে বলা হয়, তাদের মুখ দিয়ে যেন বিষ ঝরে। তাঁদের ভাষার ঝাঁজ বোঝাতেই, এমনটা বলা হয়।   তবে মানুষের মুখ থেকে বিষ ঝরার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা – বা বিষধর মানুষের আবির্ভাব – বোধহয় একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অন্তত, কল্পবিজ্ঞানের জগতে তেমনটা হওয়া তো একেবারেই অকল্পনীয় নয়। বিষ অনেক প্রাণীরই আছে। সাপের কথাটা প্রথমেই মনে এলেও, জলে স্থলে বহু প্রাণী, বিষকে শিকার ও আত্মরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। প্রাণী বিশেষে বিষের বৈশিষ্ট্য ও তীব্রতায় তারতম্য ঘটে।   কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, বিষ তৈরির কাজ যে জিনের সক্রিয়তায় হয়, সেই জিন আছে সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ীদের শরীরে। ‘রয়াল সোসায়েটি পাবলিশিং’-এ প্রকাশিত জাপানের ওকিনাওয়া ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-র গবেষক অগ্নীশ বড়ুয়া ও অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভারসিটির আলেকজান্ডার মিখেয়েভ-এর গবেষণাপত্র থেকে জানা গেছে এ কথা। ভেনম বা বিষ অনেক প্রাণীর মধ্যে পাওয়া যায় - যেমন, জেলিফিস, মাকড়সা, বিছে, সাপ ও স্লো লোরিসের মতে স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে।   এবং যদিও বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে তারা বিষ ছড়ানোর আলাদা আলাদা...

কোভিড ১৯’র দ্বিতীয় হামলা

Image
  হাওয়ায় ভাসছে নভেল করোনাভাইরাস। গত বছর, কোভিড-১৯ অতিমারি যখন বেশ জাঁকিয়ে বসেছে, তখন এমনটাই সন্দেহ করা হয়েছিল একবার। এই ধারণার পেছনে বেশ কিছু প্রমাণ থাকলেও, সেই সময় পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেননি গবেষক মহল। এখন আবার সেই কথাই নতুন করে বেশ জোর দিয়ে বলা হয়েছে ‘ল্যানসেট’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা পত্রে । নভেল করোনাভাইরাস একজনের শরীর থেকে বেরিয়ে, বাতাসে ভাসতে ভাসতে অন্য একজনের শরীরে প্রবেশ করতে পারে বলেই জানিয়েছেন গবেষকরা।   কিছুদিন হল, কোভিড-১৯’র সংক্রমণ ভারতে হু হু করে বাড়ছে। শীতের মরশুমে একটু শক্তিহীন হয়ে পড়লেও, বৈশাখের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎই যেন ঝড় তুলেছে কোভিড। তার পেছনে নভেল করোনার নিজের ক্যারামতি যেমন আছে, তেমনই আছে অবোধ মানুষের নিজস্ব অবদান।   নভেল করোনা তার ভোল পাল্টাচ্ছে বারবার।   চিন থেকে নানা পথে নানা দেশে পৌঁছে, সেখানকার হালচাল বুঝে, সে নিজেকে একটু আদটু বদলে নিয়ে নিজের শক্তি বা দক্ষতা বাড়িয়েছে। নভেল করোনাভাইরাসের যে স্ট্রেনটি এখন ভারতে তাণ্ডব চালাচ্ছে, সেটি নাকি সোজা উড়ে এসেছে ইংল্যাল্ড থেকে। তার সঙ্গে যোগ দিয়েছে ব্রেজিল আর দক্ষিণ আফিকা...

কোভিড-১৯: বসন্ত বিভ্রাট

Image
  মার্চের শুরু থেকে কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করেছে। শীতের দিনগুলিতে এই অসুখে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গিয়েছিল। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছিলেন সবাই। কিন্তু কিছু দিন হল শীত বিদায় নিয়েছে।   এখন বসন্ত। জীর্ণ পুরাতনকে ঝেড়ে ফেলে, গাছেরা সেজেছে নতুন পাতার সাজে। আর সেই সঙ্গে দেশজুড়ে শক্তিহীন হয়ে আসা কোভিড-১৯ হঠাৎ যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে উষ্ণ হাওয়ার ছোঁয়ায়। তাহলে কি ঋতুরাজ বসন্তের আগমনের সঙ্গে অতিমারি কোভিড-১৯-এর পুনরুত্থানের একটা যোগ আছে? হ্যাঁ, খুব সুস্পষ্ট যোগ আছে বলেই মনে করছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলোম্বিয়া ইউনিভারসিটির পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর লিউইস জিস্কা। এ বিষয়ে, ‘দ্য কনভারসেশন.কম’-এপ্রকাশিত তাঁর লেখায় উনি বলেছেন, বসন্ত মানেই উদ্ভিদ জগতে প্রাণের বিস্ফোরণ। এই সময় ফুল ফোটে চারিদিকে। তাই বাতাসে খুব বেশি মাত্রায় ভেসে বেড়ায় ফুলের রেণু। আর সেই ভাসমান রেণু, অনেকের শরীরে এক ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, যেমন অ্যালার্জি। তাঁর আগের গবেষণায় উনি দেখেছিলেন যে, ফুলের রেণু মানুষের শরীরে এক বিশেষ প্রোটিনকে নিস্তে...

মাছে-ভাতে থাকার দিন কি শেষ হতে চলেছে

Image
  কথায় বলে মাছে ভাতে বাঙালি। কিন্তু বাঙালির কপালে সেই মাছে ভাতে থাকার সুখ আর কদিন জুটবে বলা মুশকিল। এবং ভবিষ্যতে না জোটার সম্ভাবনার বার্তা ইতিমধ্যেই রটেছে। কারণ সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট বলছে মিঠে জলের মাছেদের ৮০ প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আর তার মধ্যে ১৬ প্রজাতিই লুপ্ত হয়েছে গত এক বছরে। গবেষকরা সতর্ক করছেন এই বলে যে, মিঠে জলের মাছের এক তৃতীয়াংশই এখন হুমকির মুখে। আর বাঙালির নির্ভরতাও তো সেই রুই-কাতলা-ট্যাঙরা-পাবদা-কই-পার্শে-ভেকটি ইত্যাদি মিঠে জলের মাছের ওপর। আর শুধু খাদ্য বা রসণাতৃপ্তির জন্যই নয়। জীবিকার কারণেও তো লক্ষ লক্ষ মানুষ এর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু নদীতে বিপুল দূষণ তাকে প্রায় নর্দমায় পরিণত করেছে। এবং কয়েক কোটি মানুষের চাহিদা মেটাতে নির্বিচারে মাছ ধরা, ও জলাভূমি নষ্ট করায় নিত্য মাছের সংখ্যা কমছে। তার ওপর নদীতে যথেচ্ছ বাঁধ দেওয়ার ফল পরিযায়ী মাছেদের স্বাভাবিক চলাফেরায় বাধা সৃষ্টি হয়েছে। তাতেই দেখা যাচ্ছে বিগত ৫০ বছরে ওই মাছের সংখ্যা এক তৃতীয়াংশ কমে গেছে। এবং ওই সময় কালের মধ্যে ‘মেগা ফিশ’ বা বড় জাতের মাছেরা কমেছে ৯৪%। সেদিক থেকে মাছেদের জগতে যেন একটা বড় বিপর্যই নেমে এসে...

কোথায় গেল মঙ্গলের মহাসাগর

Image
  পৃথিবী থেকে ২0.৪ কোটি কিলোমিটার দূরে , মঙ্গলের মাটিতে এখন ঘুরছে মানুষের পাঠানো একটি গাড়ি। নাম ‘পারসিভিয়ারেন্স’। শব্দটির মানে, লেগে থাকা। চেষ্টা করে যাওয়া। ‘হাল ছেড় না, বন্ধু’ - এই বলে নিজেকে উৎসাহ দিয়ে যাওয়ার আর এক নাম পারসিভিয়ারেন্স। শুনসান মঙ্গলে একা একা ঘুরছে পৃথিবী থেকে পাঠানো সেই গবেষণা যান। তার কোনও চালক নেই। তবুও সেটা চলে। এখান থেকে প্রেরিত সংকেতই সেটিকে চালায়। ২০.৪ কোটি কিমি দূর থেকে সঙ্কেত গেলে, সেই যান চলতে শুরু করে। তার টিভি ক্যামেরার চোখ খুলে যায়। শব্দগ্রহণ যন্ত্রের কান খাড়া হয়ে ওঠে। মঙ্গলের মাটিতে সেই গাড়ি এখন ঘুরছে আর ওই গ্রহের মাটিতে রেখে চলেছে তার চাকার দাগ। পারসিভিয়ারেন্স-এর আগেও সেখানে পাঠানো হয়েছে গবেষণা যান। মঙ্গলের অন্যদিকে সেগুলি এখনও সচল আছে। কাজ করছে। তথ্য পাঠিয়ে চলেছে। কিন্তু পারসিভিয়ারেন্সের ক্ষমতা তাদের তুলনায় কিছু বেশি। তার কাছ থেকে ইতিমধ্যেই পাওয়া গেছে মঙ্গলের বেশ কিছু ছবি। মনে হবে আমরা যেন পৃথিবীরই একটা লালচে সংস্করণের ছবি দেখছি। উঁচু নীচু ঢেউ খেলানো, রুক্ষ জমি। ছোট বড় পাথর ছড়িয়ে আছে সর্বত্র। দূরে, দিগন্ত জুড়ে প্রহরীর মত দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়ের সারি।...

কাশ্মীরের বন্যদের বন্ধু আলিয়া মীর

Image
আলিয়া মীর; ছবি: পোস্টকার্ড কাশ্মীর বন্যপ্রাণীরা মাঝে মাঝেই লোকালয়ে চলে আসছে। শুধু লোকালয় বললে কম বলা হয়। তারা চলে আসছে একেবারে শহরের মধ্যে। তেমন ঘটনা মাঝে মাঝেই ঘটছে কাশ্মীরের শ্রীনগর শহরে। গত ডিসেম্বর মাসে, একটি লেপার্ড বা চিতাবাঘ এসে পড়েছিল সেখানে। তাকে শহরে ঘুরে বেড়াতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন লোকজন। দল বেঁধে সেটিকে মারতে কোমর বেঁধে নামেন অনেকে। তার ফলে ভয় পেয়ে, প্রাণ বাঁচাতে নানা দিকে ছুটে বেড়ায় চিতাবাঘটি। কিন্তু তার কপাল ভাল যে, সময় মতো খবর পান আলিয়া মীর । বনকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে, চিতাবাঘটিকে নির্ঘাত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচান আলিয়া। অঙ্কশাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন শ্রীনগরের ওই মহিলা। কিন্তু প্রাণীদের প্রতি ভালবাসা তাঁকে করে তুলেছে একজন প্রথম সারির পশু উদ্ধারকারী। একদিন একটা প্যাঁচা বেকাদায় আটকে গিয়ে ছিল শ্রীনগরের এক চিনার গাছে। তাকে বাঁচাতে মই ঘাড়ে করে দৌড়ে ছিলেন আলিয়া। প্রাণী উদ্ধার কজে সেটাই তাঁর হাতেখড়ি বলা যায়। প্যাঁচা উদ্ধারের কাজটা তো এক রকম ছিল। কিন্তু একটা বড়, বিশেষ করে ভয়-পাওয়া, চিতাবাঘকে বাগে আনার কাজটা যে আরও বহু গুণ কঠিন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে ডিসেম্বরের শী...

বেশি মাংস, বেশি রোগ

Image
  কিছু মানুষ আছেন যাঁরা মাংস ছাড়া খাওয়ার কথা ভাবতেই পারেন না। তাছাড়া, দেখা যাচ্ছে, দেশে দেশে মানুষের অবস্থার উন্নতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, মাংস খাওয়ার চলও বাড়ছে। গরু, ছাগল, ভেড়া, শুয়োর, মুর্গি বা হাঁস, কোনও না কোনও প্রাণীর মাংস থাকে তাঁদের আহারের তালিকায়। কিন্তু রোজ নিয়ম করে মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে মোটেই ভাল নয়। দেখা গেছে, নানা রোগের মূলে রয়েছে প্রতিদিন মাংস খাওয়ার অভ্যাস। এমনটাই বলেছেন, ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভারসিটির গবেষকরা। রোজ মাংস খাওয়ার ফলে, পেটে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এই বিপদের কথা আগেই জানা গিয়ে ছিল। এখন জানা গেছে, প্রতিদিন মাংস খেলে, ক্যানসার ছাড়াও আরও ২৫ ধরনের রোগের সম্ভাবনা দেখা দেয়। যেগুলি সারাতে বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাসপাতালে বা স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে থেকে থেকেই যেতে হয়। আর পঞ্চব্যঞ্জনের মত পাঁচ রকমের ওষুধ খেয়ে শরীরটাকে কোনওক্রমে সচল রাখার চেষ্টা চালাতে হয় রোজ। দ্য গার্ডিয়ান-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে, গবেষকরা বলেছেন, রোজ নয়, প্রতি সপ্তাহে তিন দিন করে মাংস খেলেই অন্তত ন’ ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এর মধ্যে মুর্গি আ...