বেশি মাংস, বেশি রোগ

 


কিছু মানুষ আছেন যাঁরা মাংস ছাড়া খাওয়ার কথা ভাবতেই পারেন না। তাছাড়া, দেখা যাচ্ছে, দেশে দেশে মানুষের অবস্থার উন্নতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, মাংস খাওয়ার চলও বাড়ছে। গরু, ছাগল, ভেড়া, শুয়োর, মুর্গি বা হাঁস, কোনও না কোনও প্রাণীর মাংস থাকে তাঁদের আহারের তালিকায়। কিন্তু রোজ নিয়ম করে মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে মোটেই ভাল নয়। দেখা গেছে, নানা রোগের মূলে রয়েছে প্রতিদিন মাংস খাওয়ার অভ্যাস।

এমনটাই বলেছেন, ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভারসিটির গবেষকরা। রোজ মাংস খাওয়ার ফলে, পেটে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এই বিপদের কথা আগেই জানা গিয়ে ছিল। এখন জানা গেছে, প্রতিদিন মাংস খেলে, ক্যানসার ছাড়াও আরও ২৫ ধরনের রোগের সম্ভাবনা দেখা দেয়। যেগুলি সারাতে বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাসপাতালে বা স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে থেকে থেকেই যেতে হয়। আর পঞ্চব্যঞ্জনের মত পাঁচ রকমের ওষুধ খেয়ে শরীরটাকে কোনওক্রমে সচল রাখার চেষ্টা চালাতে হয় রোজ।

দ্য গার্ডিয়ান-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে, গবেষকরা বলেছেন, রোজ নয়, প্রতি সপ্তাহে তিন দিন করে মাংস খেলেই অন্তত ন’ ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এর মধ্যে মুর্গি আর হাঁসের মাংসকেও ধরেছেন তাঁরা। অনেকে মনে করেন, ‘রেড মিট’ বা চার-পেয়ে প্রাণীর মাংসের তুলনায় মুর্গি বা হাঁসের মাংস হয়ত বা কিছুটা নিরাপদ। সেই মাংসে লালের চেয়ে সাদা ভাবটাই বেশি বলে হয়ত।কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, ধারণাটা ভ্রান্ত।

প্রায় পাঁচ লক্ষ ব্রিটেনবাসীর চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ডা. কেরেন প্যাপিয়ের ও তাঁর সহকর্মীরা দেখেন যে, যাঁরা কখনও-সখনও মাংস খেয়ে থাকেন, তাঁদের তুলনায় যাঁরা সপ্তাহে তিন/চার দিন মাংস খান, তাঁদের শরীরের অবস্থা অনেকটাই খারাপ।

তাঁরা দেখেন, বেশি মাংস খাওয়ার ফলে যে সব রোগ দেখা দেয় তার মধ্যে আছে হার্টের অসুখ, নিউমোনিয়া, পেটের বৃহদন্ত্রের রোগ, গলব্লাডার, কোলোন বা মলাশয়ের সমস্যা, ডায়েবিটিস ও আরও বেশ কিছু জটিল পেটের অসুখ। গবেষকরা বলেছেন, প্রতিদিন ৭০ গ্রাম রেড মিট খাওয়াও স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। ‘জার্নাল অফ বিএসসি মেডিসিন’-এ প্রকাশিত হয়েছে তাঁদের গবেষণা পত্র।

শুধু ব্রিটেন নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনেও এ বিষয়ে গবেষণাহয়। তাতে গবেষকরা দেখেন রেড মিট খাওয়ার সঙ্গে মানুষের জীবনকাল কমে যাওয়ার একটা সম্পর্ক আছে। বলা হয়েছে, ৫৪ হাজার পুরুষ আর ২৮ হাজার মহিলাদের নিয়ে চালানো হয় ওই সমীক্ষা। তাতেও দেখা যায়, সপ্তাহে ৩.৫ বার রেড মিট খেলে, শরীরের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তার মধ্যে আবার ‘প্রোসেসড’ বা প্রক্রিয়াজাত মাংস থেকে ক্ষতির সম্ভাবনা তুলনায় বেশি।

গবেষকরা বলেছেন এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তবে শরীরের ওপর নিয়মিত মাংস খাওয়ার যে একটা খারাপ প্রভাব আছে, সমীক্ষায় তা দেখা গেছে।

গবেষণাপত্রে তাঁরা লিখেছেন যে, তুলনায় মাছ, শাক-সবজি আর বাদাম থেকে পাওয়া প্রোটিন অনেক বেশি নিরাপদ।

তবে গবেষকরা এও বলেছেন, তার মানে এই নয় যে, সকলকে নিরামিষাশী হয়ে যেতে হবে। মাংস খাওয়া চলতেই পারে, তবে ঘন ঘন নয়, আর পরিমাণটা হতে হবে কম।

 

Comments

Popular posts from this blog

জল - চাহিদা বড়ছে, যোগান কমছে

প্রকৃতি তৈরি করছে প্লাস্টিকের পাথর

গাছেরা কি দেখতে পায়