Posts

গুবরে পোকার মহাকাশ দর্শন

Image
  গুবরে পোকাদের খুব প্রিয় জিনিস গোবর। তা সে যে গরুর গোবর হতেই হবে তেমন কোনও কথা নেই। গরু, ছাগল, মোষ, বাইসন কিম্বা হাতি, বাঘ, সিংহ, হরিণ, বাঁদর– অর্থাৎ, যে কোনও প্রাণীর বিষ্ঠার সন্ধান পেলেই, মহাউৎসাহে তারা কাজে লেগে পড়ে। সেই বিষ্ঠার বল তৈরি করে, সেটিকে পেছনের পা দিয়ে ঠেলতে ঠেলতে উল্টো দিকে হাঁটা দেয়। বলগুলি তাদের শরীরের তুলনায় কয়েক গুণ বড় হলেও, তাদের কসরতে কোনও ঘাটতি দেখা যায় না। উল্টো দিকে মুখ করে, বলটিকে ঠেলে নিয়ে যেতে থাকে বিপুল উদ্যমে। কিন্তু তারা যে এমনটা করে তা তো জানাই ছিল। নতুন কথা যা জানা গেল তা হল, মালের বোঝা উল্টোদিকে ঠেলতে ঠেলতে গুবরেরা কিন্তু মোটামুটি ‘স্ট্রেট লাইন’ বা সরল রেখা ধরে সোজা চলতে থাকে। ডান দিক, বাঁ দিকে বেঁকে যাওয়া, বা পথ হারিয়ে চক্রাকারে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় না তাদের। কি করে তা সম্ভব হয়? কালাহরি বা সাহারা মরুভূমিতে, অথবা অকূল সমুদ্রে, কোনও দিক নির্দেশক ছাড়া মানুষ সোজা চলতে পারে না। এমনটাই দেখা গেছে। কিন্তু গুবরেরা পারে কী করে? সোজা পথে চলার জন্য কি তারা কোনও দিকচিহ্ন ব্যবহার করে? এই রহস্য সমাধান করেছেন সুইডেনের লুন্ড ইউনিভারসিটি ও দক্ষিণআফ্রিকার উইটওয়া...

ইলেকট্রিক মাশরুমের দেখা মিলল মেঘালয়ে

Image
ব্যাঙের ছাতা বা মাশরুম তো অনেক ধরনের হয়। কোনওটা খাওয়া যায়, তো কেনওটা আবার বিষাক্ত। কোনওটা ঠিক ছাতার মত দেখতে, তো কোনওটা গোল-গোল বোতামের মত। কিন্তু ‘ইলেকট্রিক মাশরুমের’ কথা কি কেউ শুনেছেন? হ্যাঁ, সে রকম মাশরুমও আছে। সেগুলিতে আলো জ্বলে। উত্তর-পূর্ব ভারতের মেঘালয়ের জঙ্গলে দেখা গেছে ওই বিচিত্র মাশরুম। মোঙ্গাবে-ইন্ডিয়া-তেপ্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে যে, ভারতীয় ও চিনা বিজ্ঞানীদের একটি দল ছত্রাক সম্বন্ধে গবেষণা করতে মেঘালয়ের বনেবাদাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। সেখানকার জঙ্গলে এত বিচিত্র ধরনের সব ছত্রাক দেখতে পান তাঁরা যে, আশ্চর্য হয়ে যান সেই বৈচিত্র দেখে। কিন্তু তাঁরা জানতেন না যে আরও একটা বড় বিস্ময় অপেক্ষা করছে তাঁদের জন্য। এক দিন গ্রামবাসীরা তাঁদের জিজ্ঞেস করেন, তাঁরা ‘ইলেকট্রিক মাশরুম’ দেখেছেন কি না। প্রশ্নটা তাঁদের অবাক করে। না, সে রকম মাশরুম তো তাঁরা দেখেননি। তাই ইলেকট্রিক মাশরুমের সন্ধানে তাঁরা রওয়ানা দিলেন জয়ন্তিয়া পাহাড়ের উদ্দেশে। সঙ্গে নিলেন একজন স্হানীয় গাইডকে। খাড়াই জয়ন্তীয়া পাহাড়ের বনপথ যাঁর নখদর্পনে। গন্তব্যে যখন তাঁরা পৌঁছলেন, তখন রাত হয়ে গেছে। ঝিরঝিরে বৃষ্টিও নে...

ম্যামথের বাড়ি

Image
  ম্যামথের হাড়ের তৈরি প্রকাণ্ড বাড়ির অবশেষ; ছবি: স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন   রাশিয়ার ধূসর, হাড়-কাঁপানো সাইবেরিয়ায়, একটা বেশ বড়সড় বাড়ির অবশেষ আবিষ্কার করেছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। যে ধ্বংসাবশেষ তাঁরা পেয়েছেন, তা থেকে তাঁদের অনুমান, বাড়িটা ২৫ হাজার বছর আগে তৈরি হয়েছিল। গোলাকৃতি সেই বাড়িটা   ৪০ ফিট চওড়া। কিন্তু কাঠ, পাথর, মাটি বা বাড়ি তৈরির অন্যান্য কোনও প্রচলিত বস্তু দিয়ে তৈরি হয়নি সেটি। বাড়িটি তৈরি হয়েছিল ম্যামথের হাড়, দাঁত আর চামড়া দিয়ে। ম্যামথ হল সেই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া লোমোশ হাতি, যারা তুষার যুগে ঘুরে বেড়াত এই পৃথিবীতে। আজকের আফ্রিকান হাতির চেয়েও বেশ বড় ছিল তারা। তুষার যুগের ভয়ঙ্কর ঠাণ্ডা আটকানোর জন্য তাদের গায়ে ছিল খুব লোম। এবং তাদের দাঁত আজকের হাতির দাঁতের চেয়ে ছিল ঢের ঢের বড়। প্রত্নতত্ত্ববিদদের অনুমান, বাড়িটি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছিল অন্তত ৬০ টি ম্যামথের হাড়, দাঁত ও চামড়া। গবেষণাটি করেছেন ইংল্যান্ডের এক্সেটার ইউনিভারসিটির প্রত্নতত্ত্ববিদ আলেকজ্যান্ডার প্রায়োর। তাঁর গবেষণা পত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ‘অ্যান্টিকুইটি’ জার্নালে। বাড়িটি তৈরি করতে যে পরিমাণ ম্যামথের হাড় আর দাঁ...

বদলাচ্ছে কেরলের পরিবেশ, বাড়ছে ময়ূর

Image
  দক্ষিণ ভারতের কেরল রাজ্যে ময়ূর মানুষকে বেশ বিপাকে ফেলেছে। সাধারণত শোনা যায় হাতি, বুনো শুয়োর, হরিণ বা বাঁদরের দল খেতের শস্য খেয়ে চাষির ক্ষতি করে।   কিন্তু জানা যাচ্ছে যে, কেরল ও তামিল নাড়ুর কিছু অংশে, হাতি আর বনের দাঁতাল শুয়োর ছাড়াও এবার শস্য খেতে হানা দিচ্ছে ময়ূর।   একাধিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে যে, ফসল পাকলেই ময়ূরের ঝাঁক এসে হাজির হচ্ছে আর মনের আনন্দে শস্যদানা খেয়ে, মাঠ ফাঁকা করে চলে যাচ্ছে তারা। আর ফসল খুইয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকছেন চাষি। কেউ কেউ বলছেন চাষবাস করাই ছেড়ে দেবেন। কারণ ময়ূরদের রুখতে কী ব্যবস্থা নেবেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না তাঁরা। কিছু কাল হল কেরলে ময়ূরের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।   এক সময় সেখানে ময়ূর প্রায় দেখাই যেত না। কখনও কখনও দু’একটা চোখে পড়ত, এই যা। চাষিরা তেমনটাই বলেছেন সংবাদ মাধ্যমকে। একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে, পাখি বিশারদ সেলিম আলি ময়ূরকে কেরলের পাখির তালিকাতেই রাখেননি। মোঙ্গাবে-তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৩৩ সালে সেলিম আলি কোচিন আর ট্রিভাঙ্কোরে ১৯টি জায়গায় সমীক্ষা করেছিলেন। কিন্তু কোথাও মযূর দেখতে পাননি তি...

জিন কাটার কাঁচি আবিষ্কার

Image
এ বছর রসায়নে নোবেল পেলেন দুই মহিলা বিজ্ঞানী   ইমানুয়েল শারপেন্তিয়ের (বাঁ দিকে) ও জেনিফার দৌদনা (ডান দিকে)। এই প্রথম, কোনও একটি বিষয়ে কেবল মহিলা বিজ্ঞানীরাই সম্মানিত হলেন। প্রথম জন হলেন ফরাসি। গবেষণা করেন জার্মানির ম্যাক্‌স প্ল্যাঙ্ক গবেষণা কেন্দ্রে। দ্বিতীয়জন, মার্কিন বিজ্ঞানী, কাজ করেন ইউনিভারসিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া-বার্কলেতে। ২০১২সালে জিন কাটার কাঁচি আবিষ্কার করেছিলেন তাঁরা।   গবেষণা করেছিলেন একসঙ্গে। তাই নোবেল পেলেন দু’জনই। হ্যাঁ, কাঁচি অনেক রকমের হয় - চুল কাটার কাঁচি, গোঁফ কাটার কাঁচি, গাছ কাটার কাঁচি। কিন্তু জিন কাটার অভিনব কাঁচি নিয়ে এলেন তাঁরাই। এ এমনই এক কাঁচি যা দিয়ে জীবাণু থেকে মানুষ, কাটছাঁট করে সবই বদলে ফেলা যায়। পৃথিবীর সব প্রাণী, তা সে অণুজীব, বটবৃক্ষ বা মহামানব, যেই হোক না কেন, তাদের শারীরিক গঠন নির্ধারণ করে তাদের জিন। প্রতিটি কোষের মধ্যে থাকে কয়েক’শ থেকে কয়েক হাজার জিন। আর প্রতিটি জিনের মধ্যে থাকে এক জোড়া লম্বা, একে অপরকে জড়িয়ে থাকা ফিতে। ডিএনএ নামেই সেগুলি পরিচিত এখন। ওই ডিএনএ-র মধ্যে সূক্ষ্ম রাসায়নিক কোডে লেখা থাকে প্রতিটি প্রাণীর দেহের গঠ...

শিম্পাঞ্জিদেরও সিনিয়র সিটিজেন আছে

Image
  এখন বয়স হয়েছে তাঁদের। তবে চুল তেমন কাঁচা-পাকা নয়। তাই দেখলে মনে হয় না তাঁরা প্রবীণ। কিন্তু চলাফেরা এখন স্লথ। যৌবনের কসরত করার সেই ক্ষমতা আর নেই। কারও আবার দু চারটে দাঁতও খোয়া গেছে। এখন অবসর যাপনের সময়। তাই পুরনো বন্ধুরা দৌড়ঝাঁপ না করে এখন অনেকটা সময় একসঙ্গে রয়েবসে দিন কাটান। জীবনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার তেমন প্রয়োজন নেই আর। তাই গোষ্ঠীপতি হয়ে অন্যের ওপর ছড়ি ঘোরানর বদলে, তাঁরা এখন মিলেমিশে থাকতেই পছন্দ করেন। খাবার নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। এক সময় সমাজে কে বড় আর কে ছোট ছিল, সেই ভেদাভেদ ভুলে, একে অপরকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন প্রয়োজন মত। প্রৌঢ়ত্বের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুত্বও গাঢ় হয়। তাঁরা শিম্পাঞ্জি। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা পত্র থেকে জানা গেছে যে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, শিম্পাঞ্জিদের ব্যবহারে পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। প্রায় মানুষের মতোই, সিনিয়র সিটিজেনের চৌকাঠ পেরিয়ে গেলে, জীবনযাপনের ধারাটা অন্য রকম হয়ে যায় শিম্পাঞ্জিদেরও। কুড়ি বছর ধরে সংগ্রহ করা তথ্য বিশ্লেষণ করে, এমনই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন জারিন মাচান্দা। উনি একজন বানর বিশেষজ্ঞ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টাফ্ট ইউনিভারসিটির সঙ্গে যুক্ত। আফ্...

ধনধান্যে ভরা ছিল সিন্ধু সভ্যতা

Image
কথায় বলে ‘ভেতো বাঙালি ’ । অন্তত এক বেলা ভাত না খেলে মনেই হয় না দিনের আহার সম্পূর্ণ হল। আসলে ভাত বাঙালির বড় প্রিয় খাবার। সারা ভারতে, বা ভারতীয় উপমহাদেশেই, ভাত - অর্থাৎ চাল - প্রধান খাদ্যগুলির মধ্যে একটি। চাল এ দেশে নানা ভাবে খাওয়া হয় কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত। এত কাল মনে করা হত এ হেন প্রিয় চাল প্রাচীন কালে ভারতে উৎপন্ন হত না। ধারণা ছিল যে বন্য ধানকে চাষযোগ্য করে তুলে তাকে খাওয়ার উপযোগী করে তোলা হয় চিন দেশে।  সে দেশ থেকে নানা পথ ঘুরে চাল আসে ভারতে আজ থেকে ৪০০০ বছর আগে। তারপর ধীরে ধীরে ধান চাষ করতে শেখে এখানকার মানুষ। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে অতীতের কাহিনীটি  ঠিক এ রকম নয়। বরং চিনে যে সময় ধান চাষ হচ্ছিল ভারতের সিন্ধু সভ্যতার মানুষজনও ঠিক সেই সময়ই ধান চাষে ব্যস্ত থাকতেন। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় তেমনটাই জানা গেছে। যৌথ ভাবে গবেষণা করেছেন ইংল্যান্ডের কেম্ব্রিজও অক্সফোর্ড ইউনিভারসিটি ও ভারতের বেনারস হিন্দু ইউনিভারসিটির বিশেষজ্ঞরা । আজকের উত্তরপ্রদেশের সন্ত কবির জেলায় লাহুরাদেওয়া নামের এক জায়গা আছে। এক সময় সেটি ছিল সিন্ধু সভ্যতার অঙ্গ। সেখানে খনন কাজ চালিয়ে যে প্রাচীন নিদ...