শিম্পাঞ্জিদেরও সিনিয়র সিটিজেন আছে
এখন বয়স হয়েছে তাঁদের। তবে চুল তেমন কাঁচা-পাকা নয়। তাই দেখলে
মনে হয় না তাঁরা প্রবীণ। কিন্তু চলাফেরা এখন স্লথ। যৌবনের কসরত করার সেই ক্ষমতা আর
নেই। কারও আবার দু চারটে দাঁতও খোয়া গেছে। এখন অবসর যাপনের সময়। তাই পুরনো বন্ধুরা
দৌড়ঝাঁপ না করে এখন অনেকটা সময় একসঙ্গে রয়েবসে দিন কাটান। জীবনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার
তেমন প্রয়োজন নেই আর। তাই গোষ্ঠীপতি হয়ে অন্যের ওপর ছড়ি ঘোরানর বদলে, তাঁরা এখন মিলেমিশে
থাকতেই পছন্দ করেন। খাবার নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। এক সময় সমাজে কে বড় আর কে ছোট
ছিল, সেই ভেদাভেদ ভুলে, একে অপরকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন প্রয়োজন মত। প্রৌঢ়ত্বের
সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুত্বও গাঢ় হয়। তাঁরা শিম্পাঞ্জি।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা পত্র থেকে জানা গেছে যে, বয়স বাড়ার
সঙ্গে সঙ্গে, শিম্পাঞ্জিদের ব্যবহারে পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। প্রায় মানুষের মতোই, সিনিয়র
সিটিজেনের চৌকাঠ পেরিয়ে গেলে, জীবনযাপনের ধারাটা অন্য রকম হয়ে যায় শিম্পাঞ্জিদেরও।
কুড়ি বছর ধরে সংগ্রহ করা তথ্য বিশ্লেষণ করে, এমনই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন জারিন মাচান্দা।
উনি একজন বানর বিশেষজ্ঞ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টাফ্ট ইউনিভারসিটির সঙ্গে যুক্ত।
আফ্রিকায় উগান্ডার কিবালে জাতীয় উদ্যানে ১৯৮৭ সাল থেকে শিম্পাঞ্জিদের
নিয়ে একটা প্রকল্প চলছে। সেখানে তাদের আচরণের ওপর তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে সেই সময় থেকে।
শিম্পাঞ্জিরা মানুষের মতোই সমাজবদ্ধ জীব। এলাকা বেছে নিয়ে তারা দল বেঁধে থাকে। নিজেদের
মধ্যে নানা বিষয়ে প্রতিযোগিতা চলে তাদের মধ্যে। মাঝে মাঝে ঝগড়াঝাঁটি, মারামারিও হয়।
আবার সেই সঙ্গে, নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতাই ধরে রাখে তাদের সমাজকে। দেখা গেছে,
যৌবনকালে পুরুষ শিম্পাঞ্জিদের মধ্যে রেশারেশিটা চলে বেশি। সবচেয়ে ক্ষমতাবান যে, সেই
নিজেকে একটি গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। তাদের মধ্যে এই প্রতিযোগিতার প্রবণতা
আছে বলেই, মাচান্দা পুরুষ শিম্পাঞ্জিদেরই তাঁর গবেষণার বিষয় হিসেবে বেছে নেন।
দেখা গেছে, সমাজে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে নেতাটি মাঝে মাঝে
ক্ষমতা প্রদর্শন করে থাকে। আবার, তরুণ শিম্পাঞ্জিরা নেতার নেকনজরে থাকার জন্য, তাকে
নানাভাবে খুশি রাখার চেষ্টা করে। যার মধ্যে প্রধান উপায়টি হল ‘গ্রুমিং’, বা উকুন বেছে
দেওয়ার কাজ। উকুন বেছে দিলে, নেতাটির আরাম হয়। ফলে, তার কাছ থেকে ছোটদের দাঁতখিঁচুনি
খেতে হয় কম। গোষ্টীপতির সঙ্গে ক্রমশ একটা সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে তাদের। আমাদের নেতাদেরও
তো কত সাঙ্গোপাঙ্গ থাকে। নেতাকে খুশি করে কিছু সুবিধে আদায় করে নেওয়ার আশায় ফাইফরমাস
খাটে তারা।
কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এমন একটা সময় আসে যখন পুরুষ শিম্পাঞ্জিরা
পরের প্রজন্মের হাতে সমাজের দায়িত্ব সঁপে দিয়ে নিজেরা অবসর নেয়। মানুষও তো এমনটাই করে।
কিছু জীববিজ্ঞানী বলেছেন, মেয়ে শিম্পাঞ্জি ও হাতি বা বনবোর
মতো সমাজবদ্ধ প্রাণীদের নিয়েও এই ধরনের গবেষণা হওয়া উচিৎ। তাহলে মানুষে সঙ্গে তাদের
আচরণগত মিল কতটা জানা যাবে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন