Posts

অ্যামাজন থেকে কঙ্গো বদলে যাচ্ছে জঙ্গল

Image
পৃথিবী জুড়ে জঙ্গলের চেহারা বদলে যাচ্ছে। তা সে দক্ষিণ আমেরিকার অ্যামাজনের অরণ্য হোক বা কঙ্গোর জঙ্গল। বিশ্বব্যাপী এক গবেষণা শেষে দেখা গেছে যে, জঙ্গলে গাছেদের উচ্চতা কমে যাচ্ছে। আবার অনেক বয়স্ক গাছ মারা যাচ্ছে অকালে। আর এ সবই ঘটছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে।   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্যাসিফিক নর্থওয়েস্ট ন্যাশনাল ল্যাবরেটারি’ এই গবেষণাটি করেছে। ‘সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে তাঁদের গবেষণা পত্র। গবেষকরা বলছেন, আবহাওয়ার উষ্ণতা আর বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা দিন দিন বাড়তে থাকায়, গাছেদের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। সেই সঙ্গে দাবানল, খরা, ঘন ঘন ঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পৃথিবীর অরণ্যগুলিতে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে।   বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বাড়লে তা গাছেদের বৃদ্ধির পক্ষে সহায়ক হয় বলেই ধরে নেওয়া হয়। কিন্ত এ ক্ষেত্রে গবেষকরা বলছেন, ওই সুফল ভোগ করে প্রধানত নতুন অরণ্যের গাছেরা। পুরনো বনের প্রাচীন গাছেরা ততটা লাভবান হয় না।   গবেষকদের আশঙ্কা আগামী দিনে, জঙ্গলের চেহারা আরও বদলে যাবে, আর সেই সঙ্গে তাদের চরিত্রও। মনে করা হচ্ছে, মানুষ সমেত সমস্ত...

আম্পান - শোনা যাচ্ছে কি গাছেদের আর্তনাদ

Image
আম্পান চলে গেছে, রেখে গেছে গাছেদের শব। না, ঠিক শব নয়। আহত গাছ সব পড়ে আছে রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে। নিথর দেহ, অথচ তিরতির করে কাঁপছে তার সজীব পাতা। কেউ কেউ দাঁড়িয়ে আছে। তাদের দেখে মনে হচ্ছে, ডাল-পালা যেন শরীর থেকে ছিঁড়ে নিয়ে গেছে হিংস্র হাওয়া। আম্পান চলে যাওয়ার পর, পড়ে যাওয়া গাছেরা এখনও বেঁচে আছে। তারা কি আর্তনাদ করছে? ক্ষত বিক্ষত শরীর নিয়ে তারা কি বলছে, আমাদের জল দাও। মাটি দাও। দাঁড় করিয়ে দাও। আবার আমরা বেঁচে উঠতে পারি। কিন্তু তাদের আর্তি শুনতে পা্চ্ছি না আমরা। তা্ই মৃত্যু তাদের অবশ্যম্ভাবী। কলকাতা পূর এলাকাতেই নাকি এ ভাবে এক এক করে মরে যেতে বসেছে ৫০০০ আহত গাছ।   গাছেদের যে প্রাণ আছে, তা তো জগদীশ চন্দ্র বোস (ছবি)প্রমাণ করে দিয়ে ছিলেন গত শতাব্দীতেই। সেই বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী আরও বলে ছিলেন, আমদের মতই গাছেদের খিদে পায়। তাদের ব্যাথা লাগে। কথাও বলে তারা। সেই ভাষা আমদের বুঝতে শিখতে হয়।   জগদীশ চন্দ্র গাছেদের সম্পর্কে যা বলেছিলেন, সে বিষয়ে ইদানীং গবেষণা আরও এগিয়েছে। বিজ্ঞানীরা নানান প্রশ্ন করেছেন নিজেদের আর উত্তর খুঁজেছেন তার। গাছ থেকে ফুলটা ছিঁড়ে নেওয়ায় কি ...

ইটি-র সঙ্গে কথা

Image
অনেক দিন ধরেই তাদের খোঁজ চলেছে। এই মহাবিশ্বে আর কেউ আছে কিনা সেটা জানতে কিছু বিজ্ঞানী সেই ১৯২৪ সাল থেকে লেগে আছেন। তারপর ১৯৮৪ সালে তো স্হাপিত হয় সেটি ইনস্টিটিউট বা SETI নামক এক সংস্হা, যেখানে গ্রহগ্রহান্তরের সম্ভাব্য প্রাণীদের খোঁজ চলছে পুরোদমে। এই বিপুল ব্রহ্মান্ডে মানুষ একা থাকতে চায় না। তাই সে জানতে চাইছে কোনও এক দূর গ্রহে তার কোনও সঙ্গী সাথি আছে কিনা।   থাকতেই তো পারে। এখনও তাদের সন্ধান মেলেনি মানে তো এই নয় যে, কোনও দিন মিলবে না। সময়ের বিচারে বলতে গেলে এ কাজে তো এক পলকেরও কম সময় ব্যয় হয়নি এখনও।     কিন্তু এরই মধ্যে একটা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আর প্রশ্নটা মোটেই অমূলক নয়। চিন্তাটা হল এই যে, বহির্বিশ্বের বুদ্ধিধর প্রাণীদের সন্ধান যদি কোনও দিন পাওয়াও যায়, তাদের সঙ্গে আমরা কথাটা বলব কোন ভাষায়? ইংরেজি, ফরাসি, জাপানি, চিনা, বা আমাদের ‘আ মরি’ বাংলা ভাষা যদি তাদের কাছে হিং টিং ছট-এর মতো শোনায় তাহলে তো পড়তে হবে মহা সমস্যায়। কিসের কি মানে করে বসবে তারা কে বলতে পারে। ‘এস বস আহারে’ - শুনেও হয়তো বা তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠল!   তবে ধরা যাক, বোঝার মতো ভ...

ভবিষ্যৎবাণী তো মিলে যাচ্ছে

Image
সাধারণ মানুষ ভবিষ্যৎদ্রষ্টা নন। আজ থেকে পাঁচ, দশ, পঞ্চাশ বা একশ বছর পরে কি হবে তা জানার উপায় আমাদের নেই। আবার যাঁরা অসাধরণ, যাঁরা দেশ চালান এবং নিজেদের দূরদর্শী বলে মনে করেন, অদূর ভবিষ্যতের ছবিটাও তাঁদের কাছে স্পষ্ট নয়। দেখা গেছে, একমাত্র বিজ্ঞানীরাই আগামী দিনে কী থেকে কী হতে পারে, তার একটা বাস্তব-নির্ভর আভাস দিতে পারেন আজকাল। কিন্তু তাঁদের কথা শোনার লোক কম।   আর শোনার লোক কম বলেই একটা অশরীরি ভাইরাসের হানাদারিতে হতভম্ব মানুষ সব কাজ ফেলে আজ বাড়িতে বসে আছে। অথচ কিছু মানুষের আচরণের ফলে পশু-পাখি থেকে যে মোক্ষম সব ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়াবে, সেই পূর্বাভাস বিজ্ঞানীরা শুনিয়েছিলেন প্রায় ৪০ বছর আগে। গত কয়েক বছরে, তাঁদের কথা অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেছে। (পড়ুন আগের লেখা  জেনেছি, কিন্তু শুনিনি )     দূরত্ব যাতে বজায় থাকে তার জন্য প্রকৃতি লক্ষণরেখা এঁকে দিয়ে ছিল। বন্যরা থাকবে বনে। মানুষ থাকবে তাদের থেকে দূরে। দুয়ের মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ হবে যতটা সম্ভব কম। সে ভাবেই প্রকৃতি সাজিয়ে ছিল পৃথিবীকে। আর তাদের খাওয়ার উদ্দেশ্যে খামার গড়ে, কৃত্রিম প্রজননের সাহায্যে প্রাণীদের সংখ...

চিবিয়ে খাওয়া সহজ হল

Image
আমরা যাইই খাই না কেন, কখনও কি খেয়াল করি যে খাবার আমরা চিবিয়ে খাচ্ছি? এক সময় এক কম্পানি তার আইসক্রিমের সম্পর্কে বিজ্ঞাপনে বলত “মুখে দিলে গলে যায় আহারে কী পুষ্টি”! তবে, সব খাবারই যে মুখে দিলে গলে যায় এমন নয়। অনেক কিছুই আছে যা আমাদের বেশ জোরের সঙ্গে চেবাতে হয় - যেমন আখ। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও, চেবাতে চেবাতে চোয়াল খুলে যাওয়ার উপক্রম হয় না। কিন্তু আমাদের নিকট আত্মীয় শিম্পাঞ্জি বা আমাদের সুদূরের পূর্বপুরুষরা দিনের অনেকটা সময় খাবার চেবাতে ব্যয় করে থাকে বা করত। আর শুধু কি তাই, খাবার চিবিয়ে তা গলাধকরণ করার অবস্হায় আনতে কসরত করতে হত খুবই। তবে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, আজ থেকে প্রায় ২০, ৩০ লক্ষ বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষ ‘হোমো ইরেক্টাস’-দের দাঁত ছোট হয়ে যেতে থাকে আবার তাদের মস্তিষ্ক আকারে হতে থাকে বড়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হারভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন এ থেকে বোঝা যায়, সে সময় এমন কিছু ঘটেছিল যার ফলে বড় বড় প্রায় হামানদিস্তার মতো দাঁতের প্রয়োজন কমে এসেছিল। আবার অপর দিকে বাড়ছিল তাদের মস্তিষ্কের আয়তন, যা প্রমাণ করে যে শরীরে পুষ্টি যাচ্ছিল ভাল মাত্রায়। ছোট দাঁত, অথচ বেশি পুষ্টি - ...

মানুষ কেন কাঁদে?

Image
মানুষ কেন কাঁদে? মানুষই সম্ভবত এক মাত্র প্রাণী যে কাঁদলে চোখের জল পড়ে। অন্য কোনও প্রাণী এমন করে কাঁদে বলে এখনও জানা যায়নি। আবার এমনও অনেক ব্যক্তি আছেন যাঁরা কাঁদেন না। বলা ভাল, কাঁদতে পারেন না। গভীর শোকে দুঃখেও কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন না তাঁরা। চোখের জল পড়ে না তাঁদের।    কান্না সংক্রান্ত গবেষণায় এক বিখ্যাত নাম বিজ্ঞানী মাইকেল ট্রিম্বল। উনি বলেছেন মানুষ কেন কাঁদে এ ব্যাপারে বিজ্ঞানীদের মধ্য মতের মিল নেই। আর কিছু মানুষ কেন কাঁদে না, সে বিষয়ে বিজ্ঞানী মহলে তো বিশেষ ধারণা নেই বলেই চলে। সাধারণ ভাবে মনে করা হয় কান্নার সঙ্গে যে চোখের জল পড়ে, চোখের স্বাস্থ্য ভাল রাখতেই তা হয়।    কিন্তু নেদারল্যান্ডের টিলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অ্যাড ভিঙ্গারহোয়েটস কান্না নিয়ে এক বিরাট বই লিখে ফেলেছেন। আর কেবল মাত্র শারীরিক কারণেই অশ্রুমোচন হয় তা মানেন না উনি।    তাঁর মতে, বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে চোখের জল হয়ে উঠেছে এক বিশেষ সাঙ্কেতিক ভাষা।   চোখের জল আর পাঁচ জনকে জানিয়ে দেয় কোনও এক ব্যক্তির মনের অবস্হা। অর্থাৎ, একটিও বাক্য ব্যয় না করেও চোখের জল মনের কথা বলে দেয়। আর অন্য...

আমেরিকার নভেল করোনাভাইরাস কিছু বলছে

Image
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে নভেল করোনাভাইরাস একটা বার্তা পঠিয়েছে। তাতে সে দেশের সমাজ সম্পর্কে একটা ছবি আছে। আর আছে কিছু পরামর্শ।   ১৭ এপ্রিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স ইউনিভারসিটিএকটি সমীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায়, সে দেশে কোভিড-১৯-এ আক্রান্তদের মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গ, দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলি থেকে আসা অভিবাসী, এশিয় জনগোষ্ঠি ও স্থানীয় রেড ইন্ডিয়ানদের মধ্যে মৃত্যুহার শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি।   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোলও একই ধরনের অনুপাতহীন পরিসংখ্যানের দিকে ইঙ্গিত করেছে। তাদের হিসেব অনুযায়ী, সে দেশে কৃষ্ণাঙ্গদের জনসংখ্যা ১৩ শতাংশ হলেও নভেল করোনাভাইরাসের আক্রমণে তাঁদের মৃত্যুহার সামগ্রিকের প্রায় ৩৩ শতাংশ।   ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের একটি রিপোর্ট বলছে, কোথাও কোথাও ওই মৃত্যুহার আরও বেশি। যেমন, সে দেশের একটি রাষ্ট্র উইসকনসিন। সেখানকার জনসংখ্যার মাত্র ৬.৭ শতাংশ হলেন কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ। কিন্তু কোভিড-১৯-এ যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের ৩৬ শতাংশ হলেন কৃষ্ণাঙ্গ।   আরও দুটি জায়গার কথা উল্লেখ করেছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক – শ...