অ্যামাজন থেকে কঙ্গো বদলে যাচ্ছে জঙ্গল


পৃথিবী জুড়ে জঙ্গলের চেহারা বদলে যাচ্ছে। তা সে দক্ষিণ আমেরিকার অ্যামাজনের অরণ্য হোক বা কঙ্গোর জঙ্গল। বিশ্বব্যাপী এক গবেষণা শেষে দেখা গেছে যে, জঙ্গলে গাছেদের উচ্চতা কমে যাচ্ছে। আবার অনেক বয়স্ক গাছ মারা যাচ্ছে অকালে। আর এ সবই ঘটছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে।

  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্যাসিফিক নর্থওয়েস্ট ন্যাশনাল ল্যাবরেটারি’ এই গবেষণাটি করেছে। ‘সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে তাঁদের গবেষণা পত্র। গবেষকরা বলছেন, আবহাওয়ার উষ্ণতা আর বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা দিন দিন বাড়তে থাকায়, গাছেদের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। সেই সঙ্গে দাবানল, খরা, ঘন ঘন ঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পৃথিবীর অরণ্যগুলিতে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে।

  বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বাড়লে তা গাছেদের বৃদ্ধির পক্ষে সহায়ক হয় বলেই ধরে নেওয়া হয়। কিন্ত এ ক্ষেত্রে গবেষকরা বলছেন, ওই সুফল ভোগ করে প্রধানত নতুন অরণ্যের গাছেরা। পুরনো বনের প্রাচীন গাছেরা ততটা লাভবান হয় না।

  গবেষকদের আশঙ্কা আগামী দিনে, জঙ্গলের চেহারা আরও বদলে যাবে, আর সেই সঙ্গে তাদের চরিত্রও। মনে করা হচ্ছে, মানুষ সমেত সমস্ত প্রাণী জগতের ওপরই ওই পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে। কারণ, পৃথিবীর জঙ্গলগুলিতে যদি গাছেদের আকার-আকৃতি ছোট হয়ে যায় আর প্রাচীন সব মহীরুহর শূন্যস্থান পূরণ করে নাবালক গাছের দল, তাহলে জীববৈচিত্রও কমে যাবে বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। তার ফল কতটা সুদূরপ্রসারী হবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা না গেলেও, সেটা যে খুব ভাল হবে না, সে বিষয়ে গবেষকদের মধ্যে কোনও সংশয় নেই।

  উষ্ণায়ন আর জঙ্গল কাটা, এই সাঁড়াশি আক্রমণের ফলে পৃথিবীর জঙ্গলগুলি এখন বিশেষ এক হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। একদিকে গাছ কাটা চলছেই। তার ফলে, বছরে বছরে কমে যাচ্ছে বড়, প্রাপ্তবয়স্ক গাছের সংখ্যা। তার সঙ্গে উষ্ণায়নে বাড়িয়ে দিচ্ছে প্রকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা আর সেগুলির তীব্রতা। আবার উষ্ণায়নের ফলেই বাড়ছে গাছেদের ওপর পোকার আক্রমণ আর নানা ধরনের জীবাণুদের উৎপাত। তাই বেড়ে যাচ্ছে গাছেদের অসুখ আর মৃত্যু হার। অরণ্যের গাছ তাই নানাভাবে বিপন্ন।

  পৃথিবীর জীবচক্রের পক্ষে লক্ষণটা ভাল নয় আদৌ।

পিডি

 


মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভালো হরমোন বাড়ায় কুকুর, বেড়াল

গাছেরা কি দেখতে পায়

এক চিলতে বাগানে হাজারও প্রাণীর বাস