ইটি-র সঙ্গে কথা



অনেক দিন ধরেই তাদের খোঁজ চলেছে। এই মহাবিশ্বে আর কেউ আছে কিনা সেটা জানতে কিছু বিজ্ঞানী সেই ১৯২৪ সাল থেকে লেগে আছেন। তারপর ১৯৮৪ সালে তো স্হাপিত হয় সেটি ইনস্টিটিউট বা SETI নামক এক সংস্হা, যেখানে গ্রহগ্রহান্তরের সম্ভাব্য প্রাণীদের খোঁজ চলছে পুরোদমে। এই বিপুল ব্রহ্মান্ডে মানুষ একা থাকতে চায় না। তাই সে জানতে চাইছে কোনও এক দূর গ্রহে তার কোনও সঙ্গী সাথি আছে কিনা।
  থাকতেই তো পারে। এখনও তাদের সন্ধান মেলেনি মানে তো এই নয় যে, কোনও দিন মিলবে না। সময়ের বিচারে বলতে গেলে এ কাজে তো এক পলকেরও কম সময় ব্যয় হয়নি এখনও।
  কিন্তু এরই মধ্যে একটা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আর প্রশ্নটা মোটেই অমূলক নয়। চিন্তাটা হল এই যে, বহির্বিশ্বের বুদ্ধিধর প্রাণীদের সন্ধান যদি কোনও দিন পাওয়াও যায়, তাদের সঙ্গে আমরা কথাটা বলব কোন ভাষায়? ইংরেজি, ফরাসি, জাপানি, চিনা, বা আমাদের ‘আ মরি’ বাংলা ভাষা যদি তাদের কাছে হিং টিং ছট-এর মতো শোনায় তাহলে তো পড়তে হবে মহা সমস্যায়। কিসের কি মানে করে বসবে তারা কে বলতে পারে। ‘এস বস আহারে’ - শুনেও হয়তো বা তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠল!
  তবে ধরা যাক, বোঝার মতো ভাষা একটা পাওয়া গেল। মুখের ভাষা না হয়ে সাঙ্কেতিক ভাষাও হতে পারে সেটা। আমাদের এই বৈদ্যুতিন যুগে সেটা হওয়াই স্বাভাবিক। তাছাড়া টেলিগ্রাফের টরে-টক্কা ভাষা তো চালু হয়েছে সেই কবেই - ১৮৩৬ সালে, যখন আমেরিকার স্যামুয়েল মর্স সৃষ্টি করেন ওই বৈদ্যুতিক সাঙ্কেতিক ভাষা।
  আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র হল প্রক্সিমা সেনটাউরি। আমাদের সূর্যের মত তারও কিছু বশংবদ গ্রহ আছে, যারা তার চারপাশে ঘুরপাক খায়। ধরা যাক, ওই নিকটতম নক্ষত্রের কোনও এক গ্রহে বহির্বিশ্বের প্রাণীদের সন্ধান পাওয়া গেল। সেটা আনন্দের না আতঙ্কের ব্যাপার হবে, তা চট করে বলা শক্ত, যতক্ষণ না তাদের মতিগতি কেমন তা জানা যাচ্ছে। আর তা জানতে আলাপ শুরু করতে হবে তাদের সঙ্গে, হোক না তা সাঙ্কেতিক ভাষায়। আর সমস্যাটা সেখানেই।
“নমস্কার! পৃথিবী থেকে বলছি। কেমন আছেন আপনারা?” রেডিও তরঙ্গের মারফৎ এই বার্তা পাঠিয়ে আলাপচারিতা শুরু করবেন আমাদের বিজ্ঞানীরা। কিন্তু উত্তর আসবে না। কারণ, পৃথিবী থেকে ৪.২৪৩ আলোকবর্ষ দূরে অবস্হিত প্রক্সিমা সেনটাউরির কক্ষপথে ঘুরতে থাকা গ্রহবাসীর কাছে সেই অভিনন্দন বার্তা পৌঁছতে সময় লাগবে চার বছরেরও কিছু বেশি সময়। ধরে নেওয়া যায় উত্তর আসতেও তেমন সময়ই লাগবে।
  তাছাড়া কোন ভাষা তারা বুঝবে তারও কোনও নিশ্চয়তা নেই। ব্রিটিশ বিজ্ঞানী লান্সেলট টমাস হগবেন তৈরি করেছেন এক অঙ্কের ভাষা। তার নাম দিয়েছেন ‘অ্যাস্ট্রাগ্লসা’। সেই ভাষায় নাকি বহির্বিশ্বের প্রাণীদের সঙ্গে মহাকাশের খুঁটিনাটি নিয়ে দিব্যি আলোচনা করা যাবে, যেমন আমরা করি আবহাওয়া নিয়ে। তবে কেউই জানে না অঙ্কে তারা কাঁচা না পাকা।
  বহির্বিশ্বের প্রাণীদের ভাষা কেউ কোনও দিন শুনে না থাকলেও, তাদের ভাষা কেমন হতে পারে তাই নিয়ে গবেষণা চলছে। ভাষাতত্ত্বের এই বিভাগের ইংরেজি নাম ‘জেনোলিংগুইস্টিকস’। এ বিষয়ে গবেষণা করছেন মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রের বোলিং গ্রিন স্টেট ইউনিভারসিটির ভাষাবিদ শেরি ওয়েলস-জেনসেন। উনি বলেছেন পৃথিবীতে ৭,০০০ ভাষায় কথা বলে মানুষ কিন্তু সেগুলির মধ্যে ৫০ শতাংশেরই কোনও লিপি নেই। তাই গ্রহান্তরের প্রাণীরা লিখতে পড়তে পারে কিনা, সে বিষয়ে কোনও ধারণাই করা যাচ্ছে না।
  সেটি ইনস্টিটিউটের এক কর্ণধার সেথ শসটাক বলেছেন ইন্টারনেটে লেখা, ছবি আর শব্দের যে ভান্ডার আছে তা ব্রহ্মান্ডে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। উনি মনে করেন কেউ যদি কোথাও থেকে থাকে, তাহলে ওই বিপুল উপাদান থেকে তারা আমাদের সম্পর্কে দু কথা জানলেও জানতে পারে।
অনীশ গুপ্ত/পিডি




Comments

  1. Beyond science there's a new science we have to imagine.

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

জল - চাহিদা বড়ছে, যোগান কমছে

প্রকৃতি তৈরি করছে প্লাস্টিকের পাথর

গাছেরা কি দেখতে পায়