চিবিয়ে খাওয়া সহজ হল
আমরা
যাইই খাই না কেন, কখনও কি খেয়াল করি যে খাবার আমরা চিবিয়ে খাচ্ছি? এক সময় এক কম্পানি
তার আইসক্রিমের সম্পর্কে বিজ্ঞাপনে বলত “মুখে দিলে গলে যায় আহারে কী পুষ্টি”! তবে,
সব খাবারই যে মুখে দিলে গলে যায় এমন নয়। অনেক কিছুই আছে যা আমাদের বেশ জোরের সঙ্গে
চেবাতে হয় - যেমন আখ। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও, চেবাতে চেবাতে চোয়াল খুলে যাওয়ার উপক্রম
হয় না।
কিন্তু আমাদের নিকট আত্মীয় শিম্পাঞ্জি বা আমাদের
সুদূরের পূর্বপুরুষরা দিনের অনেকটা সময় খাবার চেবাতে ব্যয় করে থাকে বা করত। আর শুধু
কি তাই, খাবার চিবিয়ে তা গলাধকরণ করার অবস্হায় আনতে কসরত করতে হত খুবই।
তবে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, আজ থেকে প্রায় ২০, ৩০ লক্ষ
বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষ ‘হোমো ইরেক্টাস’-দের দাঁত ছোট হয়ে যেতে থাকে আবার তাদের
মস্তিষ্ক আকারে হতে থাকে বড়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হারভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের
গবেষকরা বলছেন এ থেকে বোঝা যায়, সে সময় এমন কিছু ঘটেছিল যার ফলে বড় বড় প্রায় হামানদিস্তার
মতো দাঁতের প্রয়োজন কমে এসেছিল। আবার অপর দিকে বাড়ছিল তাদের মস্তিষ্কের আয়তন, যা প্রমাণ
করে যে শরীরে পুষ্টি যাচ্ছিল ভাল মাত্রায়। ছোট দাঁত, অথচ বেশি পুষ্টি - কী করে তা
সম্ভব হচ্ছিল?
হারভার্ডের গবেষকদের মতে রহস্যের উত্তরটা লুকিয়ে
আছে, প্রথমত, আমাদের পূর্বপুরুষদের মাংসাশী হয়ে ওঠার মধ্যে, আর দ্বিতীয়ত, খাদ্য বস্তু
পিষে নেওয়ার সরঞ্জাম তৈরি করতে পারার ক্ষমতা অর্জন করায়। অর্থাৎ, শক্ত শক্ত খাবার আগে
ভেঙ্গে নাও, গুঁড়িয়ে নাও, পিটিয়ে থেঁত করে নরম করে নিয়ে, তার পর খাও। পাথর ভেঙ্গে ঘষে
তারা যখন তা দিয়ে কাজের সরঞ্জাম সৃষ্টি করতে সক্ষম হল, তখন থেকেই তাদের খাওয়া-দাওয়া
পাল্টাতে লাগল।
খাবার চেবাতে
কম পরিশ্রমের প্রয়োজন হল সেই থেকে। দাঁতের জোরও আর লাগল না আগের মতো। অথচ খাবার থেকে
আরও সহজে আরও বেশি পুষ্টি আহরণ করতে সক্ষম হল শরীর। ফলে, এক দিকে খাবার থেকে বেশি পুষ্টি যোগান আর
অন্য দিকে খাবার চেবাতে কম শক্তি ব্যয় - এই দুয়ের ফলে শরীরে যে বাড়তি শক্তি সঞ্চিত
হতে থাকল প্রকৃতি ঠিক করল তা মগজ গঠনের কাজে লাগানো যাক।
তাই দেখা গেল, কালক্রমে, দাঁত ছোট হচ্ছে আর মগজ
হচ্ছে বড়! আর সেই সঙ্গে বাড়ছে বুদ্ধি।
পিডি/সূত্র:
সায়েন্সডেইলি
অবাক প্রথিবী
বাঁশ
খুব দ্রুত বাড়ে। কিছু প্রজাতির বাঁশ আছে যারা দিনে ৩.২ ফিট পর্যন্ত বাড়তে পারে।

Comments
Post a Comment