মরুবিজয়ের কেতন উড়ছে সোনার কেল্লায়

 



পালটে যাচ্ছে সোনার কেল্লার দেশ, রাজস্থান। মরু্ভূমি, ঝলসানো গরম, হাড়কাঁপানো শীত, আর মাত্র ছিটেফোঁটা বৃষ্টি - এই ছিল ওই রাজ্যে বৈশিষ্ট্য। এখন সেখানে গরমও আছে। শীতের মরসুমে এখনও  হাড় কাঁপে কোথাও কোথাও। কিন্তু ছিটেফোঁটার বদলে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হয় অনেক জায়গায়। আর মরুভূমি ক্রমশ হয়ে উঠছে সবুজ।

ডাউন টু আর্থ-এর একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে, রাজস্থানের পশ্চিম অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্যাটার্ন ও জমির চেহারা বদলে যাচ্ছে। আর সেই সঙ্গে বদলাচ্ছে সেখানকার মানুষের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য। ওই রাজ্যের পশ্চিমের ১২ জেলায় বাস করেন ২.৭ কোটি মানুষ (২০১১-র জনগণনা) ও ২.৬ গৃহপালিত পশু (২০১৯-র পশু গণনা)। পৃথিবীর কোনও মরু অঞ্চলে এত মানুষের বাস নেই। ওই রাজ্যে প্রায় অর্ধেক এলাকাজুড়ে রয়েছে বালিয়াড়ি। এখানে বৃষ্টি কম হয়। দুতিন বছর অন্তর দেখা দিত খরা। কিন্তু এখন সেখানে আগের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। কখনও কখনও এত বৃষ্টি হচ্ছে যে দেখা দিচ্ছে বন্যা। সেচের ব্যবস্থা প্রসারিত হয়ে চলেছে। চাষের জমি বাড়ছে, গাছগাছালি এখন অনেক বেশি চোখে পড়ে। খরা আর তেমন ঘনঘন দেখা দিচ্ছে না। আঁধিবা ধুলর ঝড়ের প্রকোপও কমেছে। আর কমছে বালিয়াড়ি। সেখানে মরুভূমি যেন এখন ব্যাকফুটে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রকৃতিতে অনেক ওলটপালট হবে বলে যে আশঙ্কা করা হয়, তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে রাজস্থানে। মরুভূমিতে এখন জাঁকিয়ে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিপাতের হিসেব দেখিয়ে দিচ্ছে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ উত্তর উত্তর বেড়েছে।

আকাশ থেকে যেমন জল পাচ্ছে মরু অঞ্চল, তেমনই আবার ইন্দিরা গান্ধী ক্যানেল ও নর্মদা ক্যানেল থেকেও প্রচুর জল আসছে রাজস্থানে। ফলে, এক সময়কার ধূসর পতিত মাটি আজ হয়ে উঠছে সুজলা সুফলা সবুজ।

বলা যেতে পারে, মরু বিজয়ের কেতন উড়ছে সোনার কেল্লা প্রাকারে এখন।

ছবি: নিজস্ব

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভালো হরমোন বাড়ায় কুকুর, বেড়াল

গাছেরা কি দেখতে পায়

অন্ধকারকে মানুষ ভয় পায় কেন