মাটির স্বাস্থ্যই মানুষের স্বাস্থ্য
মাটির
সঙ্গে যে টাকার একটা যোগ আছে, তা
আমরা জানি। মাটির দাম কমে না। দিন দিন বাড়ে। কিন্তু মাটির সঙ্গে আমাদের
স্বাস্থ্যেরও যে একটা সরাসরি স¤পর্ক
রয়েছে, সে কথা আগে কখনও তেমন জোর দিয়ে বলা
হয়নি। এখন তা বলা হচ্ছে। আমাদের স্বাস্থ্য কেমন থাকবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে মাটির স্বাস্থ্য
কেমন, তার ওপর।
আমরা মাটি খাই না। মাটি আমাদের খাওয়ায়। আমরা যাই-ই খাই না কেন, তা জোগায় মাটি। মাটি থেকে নানা খনিজ
পদার্থ নিজেদের খাদ্য হিসেবে তুলে নেয় উদ্ভিদ। তা থেকে তারা পুষ্টি অর্জন করে। এবং
আমরা সেই সব উদ্ভিদ ও গাছের ফলমূল, এমনকি তাদের ডালপালা খেয়ে নিজেরা পুষ্টি আহরণ করি। তাছাড়া, যেসব প্রাণীর মাংস খেয়ে আমরা আমাদের
প্রোটিনের চাহিদা মেটাই, সেই সব প্রাণীরাও ঘাসপাতা খেয়ে বেড়ে
ওঠে। তার মানে দাঁড়ায় এই যে, মাটিই
আমাদের শরীরে পুষ্টির মূল জোগানদাতা। ফলে, মাটি যদি অপুষ্টির শিকার হয়, অন্যান্য অনেক প্রাণী সহ আমাদের শরীরেও পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে
পারে।
ভারতেসম্প্রতি এক গবেষণা হয়েছে। করেছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর রিসার্চ অন ইন্টারন্যাশনাল
ইকোনমিক রিলেসান্স। তাতে দেখা গেছে, এ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মাটি ঘোর অপুষ্টিতে ভুগছে। সেই সব জায়গায়, যে খাদ্য উৎপন্ন হয়, সে সবেও রয়েছে পুষ্টির অভাব। ফলে, যে চাল, ডাল, গম, তেল, শাক সবজি মানুষ খাচ্ছে, তা থেকে মিলছে না যথেষ্ট পরিমাণ
পুষ্টি।
বলা
হয়েছে, রাসায়নিক সার ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশি
মাত্রায় মাটিতে ছড়ানো হয়েছে নাইট্রোজেন। অন্যান্য পদার্থগুলিকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া
হয়নি। কারণ, নাইট্রোজেন ফলন বাড়াতে সাহায্য করে।
সেই সঙ্গে অভাব হয়েছে গোবরের মতো জৈবিক সারের প্রয়োগে। এবং চাষ করা হয়েছে অতি
মাত্রায়। ফলে যা হবার তা হয়েছে — মাটি খুইয়েছে তার উর্বরতা।
রিপোর্টে
বলা হয়েছে, ভারতের মাটিকে অত্যন্ত বেশি চাপ সইতে
হচ্ছে। বিভিন্ন কারণে, প্রতি বছর প্রায় ৫৩০ কোটি টন ‘টপসয়েল’ বা উপরিভাগের মাটি খোয়া যাচ্ছে। টপসয়েল হচ্ছে মাটির সবচেয়ে উর্বরতম
অংশ। ফলে, দেশের এক বিরাট ভূখণ্ডের ক্ষতি হচ্ছে বছর বছর।
গবেষণায়
দেখা গেছে, নিবিড় পদ্ধতিতে অত্যধিক চাষ করার ফলে, মাটি থেকে যে পরিমাণ খনিজ ও জৈবিক
পদার্থ শুষে নেওয়া হয়েছে,
ও হয়ে চলেছে, তা পূরণ করার পথ না বার করতে পারলে, এ দেশের মানুষের মধ্যে পুষ্টির অভাব
ক্রমশ বাড়তে থাকবে। ধান, গম ও অন্যান্য শস্যের ফলন হবে পরিমাণে
অনেক, কিন্তু তা থেকে পুষ্টি মিলবে কম। এক ধরনের ‘চোরা অনাহার’ মানুষের ক্ষতি করবে। শারীরিক ভাবে
দুর্বল করবে তাদের।
ছবি: নিজস্ব

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন