Posts

জানলার পাশে ডাইনোসর

Image
কাল সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি দেখা যায় বিরাট এক ডাইনোসর জানলার পাশে মুখ বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কেমন হবে ব্যাপারটা? বিজ্ঞানীরা অবশ্য বলছেন তাতে আর আশ্চর্য হওয়ার কি আছে? ডাইনোসরদের সঙ্গে তো আমাদের দিনে রাতে রোজই দেখা হচ্ছে? যে কাক, শালিক বা চড়াই আমাদের চার পাশে উড়ে বেড়াচ্ছে, কিম্বা যে টিকটিকিটা ঘরের দেওয়ালে পোকা ধরার আশায় স্থির হয়ে বসে থাকে, তারা তো সবাই সেই সেকালের প্রকান্ড প্রাণীদেরই ক্ষুদে সংস্করণ।   কিন্তু ওই মিনি ডাইনোসরদের নিয়ে আমাদের কোনও মাথা ব্যাথা নেই। ওরা তো এখন আমাদের ঘরের লোক বলা চলে। চিন্তা তো সেই তিনতলা্‌ সমান পাঁচটা হাতির ওজনের প্রকান্ডদের নিয়ে, যাদের আবার ফিরিয়ে আনার জল্পনা-কল্পনা চলছে।   এক দল বিজ্ঞানীর তো স্থির বিশ্বাস যে, টিরেনোসর-রেক্স-এর মত ছ’কোটি বছর আগেকার সেই দৈত্যকায়, শাবলের মত দাঁতধারী প্রাণীটির অনায়াসেই আবার পুনর্জন্ম দেওয়া যেতে পারে গবেষণাগারে, বিজ্ঞানের কারসাজিতে।   তাই যদি হয়, তা হলে আটকাচ্ছে কোথায়? ডিএনএ-তে। বিজ্ঞানীরা বলছেন যে, তাদের অনেক ফসিল মিলেছে ঠিকই, কিন্তু তেমন যুৎসই ডিএনএ মিলছে না যা দিয়ে আবার রক্তমাংসের ডাইনোসর...

সিঁড়ি দিয়েই ওঠা ভাল

Image
নিজের ভাল চাইলে, সিঁড়ি দিয়েই ওঠা ভাল। বলা হয়, সিঁড়ি ভেঙ্গে উঠলে শরীর ভাল থাকে। হাত, পা, পেশী সব শক্তপোক্ত হয়ে ওঠে। এখন জানা যাচ্ছে যে কেবল শরীর ভাল থাকে তাই নয়, ব্রেন বা মস্তিষ্কও থাকে সজীব। আর এও দেখা গেছে যে, সেই সঙ্গে যদি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে মস্তিষ্ক এক নবীন ভাব ধরে রাখে অনেক দিন। কানাডার কনকরডিয়া ইউনিভারসিটির গবেষকরা এ কথা জানিয়েছেন।    সেখানকার গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা করেন তাঁদের মস্তিষ্ক অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় থাকে। আসলে মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের ওপর তার ছাপ পড়ে। কিন্তু দেখা গেছে, যাঁরা নিয়মিত সিঁড়ি ব্যবহার করেন তাদের মস্তিষ্ক বয়েসের তুলনায় অনেকটাই সজীব থাকে। গবেষকরা তাই বলছেন যে, যতটা সম্ভব সিঁড়ি ব্যবহার করাটাই ভাল, যদি না কোনও শারীরিক অসুবিধে থাকে। সূত্র: সায়েন্সডেইলি

কুকুর অনেক রকম, বেড়াল তত নয় কেন

Image
পৃথিবীতে যত ধরনের কুকুর আছে, তত ধরনের বেড়াল কিন্তু নেই। অথচ কুকুর ও বেড়াল উভয়েই মানুষের খুব কাছের ও প্রিয় প্রাণী। আকার আকৃতি আর স্বভাবের দিক থেকে কুকুরদের মধ্যে এত বৈচিত্র্য কেন তৈরি হল আর বেড়ালের মধ্যে হল না, তা এখন হয়ে উঠেছে গবেষণার বিষয়।   আমাদের পাড়ার ‘রোডেশিয়ান’রা ছাড়াও পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে আছে নানা রকমারি কুকুর। কেউ বাছুরের মত বড় তো কেউ এতই ছোট যে পকেটে ঢুকে যেতে পারে। কেউ বাঁশ পাতার মত ছিপছিপে, তো কেউ বেঁটে, মোটা ষণ্ডামার্কা চেহারার। কারও কান শিঙের মতো খাড়া হয়ে থাকে, কারও আবার ঝুলে মাটিতে ঠেকে। কোনও কোনও কুকুরের লোম এত লম্বা যে তা মাটিতে লুটোয়, আবার অনেকের যেন সব সময় ‘ক্রু-কাট’ করা। কেউ থ্যাবড়া মুখো, তো কেউ লম্বা মুখো। কেউ খ্যাঁকখ্যাঁকে, কেউ বা গম্ভীর। কারও চোখে দুষ্টুমি, কারও দৃষ্টি আবার রক্ত হিম করে দেয়।   বেড়ালের অবশ্য এত বৈচিত্র্য নেই। কেউ রোগা, কেউ মোটা। কেউ বড়, কেউ তুলনায় ছোট। কারও লোম বেশি,কারও তুলনায় কম। কিন্তু আকারের দিক থেকে বিচার করলে, তেমন আকাশ-পাতাল তফাৎ চোখে পড়ে না। একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে, ৭২ জাতের পোষা বেড়াল আছে পৃথ...

লকডাউনে প্রকৃতির উৎসব

Image
হিমালয়: ত্রিশূল পর্বত মানুষকে বাদ দিয়ে, পৃথিবী জুড়ে এখন একটা উৎসব চলছে। এমন উৎসব অনেক কাল দেখেনি কেউ। আকাশ আবার ফিরে পেয়েছে তার নীল। কলুষ-বিহীন বাতাস এখন ফুরফুরে হাল্কা। দিনগুলো ঝলমল করছে নিখাদ সোনালী আলোয়। নদীতে   আবার প্রায় বর্জ্যহীন স্বচ্ছ স্রোত বয়ে চলেছে ।পশু-পাখি, গাছপালা, কীটপতঙ্গ সবাই যেন বহু যুগ পরে আবার উপভোগ করছে স্বাধীনতার ভুলে-যাওয়া স্বাদ। এমনকি, যাদের আমরা বলি নিষ্প্রাণ জড়, সেই মাটি, পাথর, বালি, তারাও যেন নিশ্চিন্তে আজ ঘুমিয়ে আছে পৃথিবীর বুকে।   আজ প্রকৃতি যেন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে, কারণ মানুষ এখন গৃহবন্দি। একটা ভাইরাস তাকে বাড়ির মধ্যে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য করেছে। তাহলে কি এটাই মনে করতে হবে যে, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের একটা শত্রুতা আছে? কারণ মানুষ যখন দাপিয়ে বেড়ায়, প্রকৃতি তখন বিপন্ন বোধ করে। এবং মানুষ যখন হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে বাধ্য হয়েছে, তখনই সে ফিরছে নিজের ছন্দে।   জানা গেছে, গঙ্গা এখন অনেকটাই দূষণমুক্ত। খবরে প্রকাশ হরিদ্বারে গঙ্গা এতটাই পরিষ্কার হয়েছে যে, তার জল নাকি স্রেফ ক্লোরিন দিয়ে পরিশুদ্ধ করেই পান করা যেতে পারে। দু’দিন আগে কলকাতার বাবুঘ...

বরফ-হীন উত্তরমেরু

Image
উত্তরমেরুতে আর বরফ থাকবে না। ২০৫০ সালের মধ্যেই তেমনটা ঘটবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্তত, গ্রীষ্মের সময় বরফের ওই রাজ্য বরফশূন্য হয়ে পড়বে। তবে বছরে কত মাস উত্তরমেরু বরফ-হীন থাকবে, তা নির্ভর করবে জলবায়ু পরিবর্তন কতটা ঠেকান করা যাচ্ছে, তার ওপর। বিশ্বের ২১ গবেষণা কেন্দ্র থেকে পাওয়া তথ্যে বিশ্লেষণ করে জার্মানির হামবুর্গ ইউনিভারসিটির বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।   এখনও উত্তরমেরু সারা বছরই বরফে ঢাকা থাকে। গ্রীষ্মের দিনগুলিতে সেই বরফের পরিমাণ কমে যায়। শীত এলে আবার বেড়ে যায় বরফ।   কিন্তু উষ্ণায়ণের ফলে, বিগত কয়েক দশক ধরে সেখানে বরফ ক্রমশ কমে যাচ্ছে। যতটা গলছে, ততোটা তৈরি হচ্ছে না। অথচ, ওই বরফই সেখানকার পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। বরফই সাদা ভালুক, সিল ও আরও অনেক প্রাণীর বাসস্থান। তারই মধ্যে আছে তাদের খাদ্য ভাণ্ডার ও নিরাপত্তার গ্যারান্টি। আর ওই বরফের চাদরই সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে ঠিক রাখে সেখানকার তাপমাত্রা।        বরফ-হীন হয়ে পড়লে বিপন্ন হবে সেখানকার পরিবেশ ও প্রাণীরা। সেই পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে সুদূর দক্ষিণমেরুতেও। উত্তরমেরুতে যে একটা ...

জেনেছি, কিন্তু শুনিনি

Image
“এই গ্রহে মানুষের আধিপত্যের সামনে সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে ভাইরাস।” এ কথা বলেছিলেন ১৯৫৮ সালের নোবেলজয়ী মাইক্রোবায়োলজিস্ট জশোয়া লেডেরবার্গ।  ভাইরাস থেকে যে একটা অতিমারি ঘটবে, সেরকম আশঙ্কা করা হচ্ছিল অনেক দিন ধরে। এক বার নয়, দু’বার নয়, সতর্ক করা হয়েছিল বার বার। সেই ১৯৯০-এর দশক থেকে সাবধান করছিলেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা বলছিলেন: পৃথিবী জুড়ে একটা অতিমারি কেবল সময়ের অপেক্ষায়। জশোয়া লেডেরবার্গ   ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক-এর একটি সাম্প্রতিক লেখার শিরোনামে প্রশ্ন করা হয়েছে যে, বিশেষজ্ঞরা একটা অতিমারি সম্পর্কে সাবধান করে ছিলেন কয়েক দশক আগে। তা সত্ত্বেও আমরা প্রস্তুত হইনি কেন? লেখাটি লিখেছেন সাংবাদিক রবিন মারান্তস হেনিগ।   চিকিৎসা বিজ্ঞানে, বিশেষ করে ভাইরাস সংক্রান্ত গবেষণায়, কি জানা যাচ্ছে, তাই ছিল তাঁর আগ্রহের বিষয়। বিজ্ঞানীরা জীবাণু সম্পর্কে কি জানতে পারছেন, ভাইরাসদের গতিবিধি কেমন দাঁড়াচ্ছে, ভাইরাসদের কাছ থেকে মানুষ কতটা হুমকির মুখে পড়তে চলেছে, এই নিয়ে বই লেখার জন্য নিজেও গবেষণা শুরু করেন ১৯৯০-তে। তাঁর বইটির নাম ডানসিং ম্যাট্রিক্স।   হেনিগ বলছ...

গোলাপি মুখ তাদের আলাদা করেছে

Image
          বিপন্ন যারা তাদের লোমহীন রঙিন মুখমন্ডলের জন্য উআকারি’রা বিশেষ পরিচিত।   গোলাপি থেকে গাড় লাল রঙের সেই মুখ অন্য বানর প্রজাতি থেকে তাকে আলাদা করেছে।   বানর প্রজাতির ছোট্ট এই প্রাণীটি দক্ষিণ আমেরিকার ক্রান্তীয় বর্ষারণ্যের বাসিন্দা।   নদী ঝর্ণা ইত্যাদি মিষ্টি জলের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে তারা।   অ্যামাজন নদীর অববাহিকায় ব্রেজিল, পেরু, দক্ষিণ কলোম্বিয়ার কিছু অঞ্চলে তাদের   দেখা মেলে।     দেড় থেকে দু ফিট লম্বা এই উআকারিদের ওজন হবে খুব বেশি হলে কেজি তিনেক।   সারা গায়ে বেশ বড় বড় লোম হলে কী হবে দেহের তুলনায় তার লেজটি খুবই ছোট।   ফলে এক গাছ থেকে আর এক গাছে লাফালাফির সময় ওই খুদে লেজটি তেমন কাজে দেয় না।   তা সত্ত্বেও তারা ৬৫ ফিটের বেশি দূরত্বেও লাফাতে পারে।   এবং এই লাফানোর ব্যাপারে তাদের বেশ শক্তপোক্ত হাত-পাকেই তারা কাজে লাগায়।   অবশ্য শরীরের ব্যালেন্স বা ভারসাম্য বজায় রাখতে ওই ছোট্ট লেজটা কিছুটা সাহায্য করে।    গাছের একেবারে উঁচুতে ঘন পাতার আড়ালে থাকা...