জানলার পাশে ডাইনোসর
কাল
সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি দেখা যায় বিরাট এক ডাইনোসর জানলার পাশে মুখ বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে
আছে, কেমন হবে ব্যাপারটা? বিজ্ঞানীরা অবশ্য বলছেন তাতে আর আশ্চর্য হওয়ার কি আছে? ডাইনোসরদের
সঙ্গে তো আমাদের দিনে রাতে রোজই দেখা হচ্ছে? যে কাক, শালিক বা চড়াই আমাদের চার পাশে
উড়ে বেড়াচ্ছে, কিম্বা যে টিকটিকিটা ঘরের দেওয়ালে পোকা ধরার আশায় স্থির হয়ে বসে থাকে,
তারা তো সবাই সেই সেকালের প্রকান্ড প্রাণীদেরই ক্ষুদে সংস্করণ।
কিন্তু ওই মিনি ডাইনোসরদের নিয়ে আমাদের কোনও মাথা
ব্যাথা নেই। ওরা তো এখন আমাদের ঘরের লোক বলা চলে। চিন্তা তো সেই তিনতলা্ সমান পাঁচটা
হাতির ওজনের প্রকান্ডদের নিয়ে, যাদের আবার ফিরিয়ে আনার জল্পনা-কল্পনা চলছে।
এক দল বিজ্ঞানীর তো স্থির বিশ্বাস যে, টিরেনোসর-রেক্স-এর
মত ছ’কোটি বছর আগেকার সেই দৈত্যকায়, শাবলের মত দাঁতধারী প্রাণীটির অনায়াসেই আবার পুনর্জন্ম
দেওয়া যেতে পারে গবেষণাগারে, বিজ্ঞানের কারসাজিতে।
তাই যদি হয়, তা হলে আটকাচ্ছে কোথায়? ডিএনএ-তে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন যে, তাদের অনেক ফসিল মিলেছে ঠিকই, কিন্তু তেমন যুৎসই ডিএনএ মিলছে
না যা দিয়ে আবার রক্তমাংসের ডাইনোসর সৃষ্টি করা যাবে।
ঠিকই। ছ’কোটি বছরের পুরনো ফসিল-হওয়া প্রাণীর টাটকা
ডিএনএ মেলা দুষ্কর। কিন্তু ধরা যাক পাওয়াও গেল। টেস্টটিউবের ডাইনোসরও হুংকার দিয়ে
রাজপথে নেমে এলো একদিন।কিন্তু তারপর?
অপর এক দল বিজ্ঞানী আশ্বাস দিয়ে বলছেন, ভয় নেই।
ওরা ছিল ছ’কোটি বছর আগে। তারপর পৃখিবী অনেক পাল্টে গেছে।এটা নানা দূষণের যুগ। তার
ওপর এখন পৃথিবীজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হরেক রকম মারাত্মক আর অতি আধুনিক সব ভাইরাস আর
ব্যাক্টিরিয়া। তাই মনে হয় তাদের হাতে সে মারা পড়বে অচিরেই। আর বিলুপ্ত হবে আবার।
অনীশ
গুপ্ত
সূত্র:
হওসায়েন্সওয়ার্কস.কম

Comments
Post a Comment