কুকুর অনেক রকম, বেড়াল তত নয় কেন
পৃথিবীতে যত ধরনের কুকুর আছে, তত ধরনের বেড়াল কিন্তু নেই। অথচ
কুকুর ও বেড়াল উভয়েই মানুষের খুব কাছের ও প্রিয় প্রাণী। আকার আকৃতি আর স্বভাবের দিক
থেকে কুকুরদের মধ্যে এত বৈচিত্র্য কেন তৈরি হল আর বেড়ালের মধ্যে হল না, তা এখন হয়ে
উঠেছে গবেষণার বিষয়।
আমাদের পাড়ার ‘রোডেশিয়ান’রা ছাড়াও পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে আছে নানা
রকমারি কুকুর। কেউ বাছুরের মত বড় তো কেউ এতই ছোট যে পকেটে ঢুকে যেতে পারে। কেউ বাঁশ
পাতার মত ছিপছিপে, তো কেউ বেঁটে, মোটা ষণ্ডামার্কা চেহারার। কারও কান শিঙের মতো খাড়া
হয়ে থাকে, কারও আবার ঝুলে মাটিতে ঠেকে। কোনও কোনও কুকুরের লোম এত লম্বা যে তা মাটিতে
লুটোয়, আবার অনেকের যেন সব সময় ‘ক্রু-কাট’ করা। কেউ থ্যাবড়া মুখো, তো কেউ লম্বা মুখো।
কেউ খ্যাঁকখ্যাঁকে, কেউ বা গম্ভীর। কারও চোখে দুষ্টুমি, কারও দৃষ্টি আবার রক্ত হিম
করে দেয়।
বেড়ালের অবশ্য এত বৈচিত্র্য নেই। কেউ রোগা, কেউ মোটা। কেউ
বড়, কেউ তুলনায় ছোট। কারও লোম বেশি,কারও তুলনায় কম। কিন্তু আকারের দিক থেকে বিচার
করলে, তেমন আকাশ-পাতাল তফাৎ চোখে পড়ে না। একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে, ৭২ জাতের
পোষা বেড়াল আছে পৃথিবীতে। আর অন্য একটি সংস্থা বলছে, বিশ্বে পোষা কুকুর আছে ৩৪০ জাতের
।
কেন এত তফাৎ? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসুরি ইউনিভারসিটির গবেষক
লেজলি লিয়নস ‘লাইভসয়েন্স’-কে বলেন, এক জাতের বেড়ালের সঙ্গে অন্য জাতের বেড়ালের মিশ্রণ
ঘটিয়ে এক নতুন জাতের বেড়াল তৈরি করার চেষ্টা শুরু হয় ৭৫-৮০ বছর আগে। কিন্তু কুকুরের
ক্ষেত্রে এ কাজ চলেছে কয়েক শ’বছর ধরে। তার ফলে, কুকুরের জিনে ছোট ছোট
পরিবর্তন ঘটতে থাকায়, তাদের আকার-আকৃতি আর স্বভাবেও দেখা দেয় বৈচিত্র্য।
কুকুর নিয়ে প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে।
কিন্তু বেড়াল নিয়ে নয় কেন? রাশিয়াতে পাওয়া কুকুরে ফসিল থেকে অনুমান করা হচ্ছে কুকুর
প্রায় ১৯ হাজার বছর ধরে মানুষের সঙ্গে আছে। আর প্রাচ্যের কয়েকটি জায়গায় পাওয়া বেড়ালের
ফসিল থেকে মনে করা হচ্ছে বেড়ালের সঙ্গে মানুষের ঘনিষ্ঠতা আরও অনেক পরে গড়ে ওঠে, প্রায়
১০ হাজার বছর আগে।
তবে বলা হচ্ছে, সেই প্রাচীন কালেই মানুষ বুঝে ছিল যে, কুকুরকে
প্রশিক্ষণ দিলে, তাকে দিয়ে সে অনেক কাজ করাতে পারবে। যেমন, ছাগল-ভেড়া চরানর কাজে কুকুর
সহযোগী হয়ে উঠতে পারে। শিকারের কাজেও সে রাখতে পারে বিশেষ ভূমিকা। বাড়িঘর পাহারা দেওয়ানো
যাবে তাকে দিয়ে। বরফের চাদরের ওপর দিয়ে ‘স্লেজ’টেনে
নিয়ে যেতে পারবে সে। আর স্রেফ বন্ধু হয়েও দিন কাটাতে পারবে মানুষের সঙ্গে।
কিন্তু মানুষ এও বুঝে ছিল যে, সব কুকুর কে দিয়ে সব কাজ করানো
যাবে না। তাই নানা জাতের কুকুর সৃষ্টি করায় মনোযোগ দেয় মানুষ, যাতে এক এক জাতের কুকুর
এক একটি ক্ষেত্রে বিশেষ পারদর্শী হয়ে উঠতে পারে।
অপর দিকে বেড়ালের চরিত্র থেকে মানুষের কাছে এও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল
যে, ভালবাসার ওই স্বাধীনচেতা প্রাণীটিকে দিয়ে ইঁদুর মারার কাজ ছাড়া আর খুব বেশি কিছু
করানো যাবে না। তাই নানা জাতের, নানা আকারের, নানা স্বভাবের বেড়াল সৃষ্টি করার বিশেষ
চেষ্টাই করেনি মানুষ।
পিডি

দারুন তো! খুব ভালো লাগলো, অনেক কিছু জানতে পারলাম।
ReplyDelete