গোলাপি মুখ তাদের আলাদা করেছে
বিপন্ন যারা
তাদের লোমহীন রঙিন মুখমন্ডলের জন্য উআকারি’রা বিশেষ পরিচিত। গোলাপি থেকে গাড় লাল রঙের সেই মুখ অন্য বানর প্রজাতি থেকে তাকে আলাদা করেছে। বানর প্রজাতির ছোট্ট এই প্রাণীটি দক্ষিণ আমেরিকার ক্রান্তীয় বর্ষারণ্যের বাসিন্দা। নদী ঝর্ণা ইত্যাদি মিষ্টি জলের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে তারা। অ্যামাজন নদীর অববাহিকায় ব্রেজিল, পেরু, দক্ষিণ কলোম্বিয়ার কিছু অঞ্চলে তাদের দেখা মেলে।
তাদের লোমহীন রঙিন মুখমন্ডলের জন্য উআকারি’রা বিশেষ পরিচিত। গোলাপি থেকে গাড় লাল রঙের সেই মুখ অন্য বানর প্রজাতি থেকে তাকে আলাদা করেছে। বানর প্রজাতির ছোট্ট এই প্রাণীটি দক্ষিণ আমেরিকার ক্রান্তীয় বর্ষারণ্যের বাসিন্দা। নদী ঝর্ণা ইত্যাদি মিষ্টি জলের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে তারা। অ্যামাজন নদীর অববাহিকায় ব্রেজিল, পেরু, দক্ষিণ কলোম্বিয়ার কিছু অঞ্চলে তাদের দেখা মেলে।
দেড়
থেকে দু ফিট লম্বা এই উআকারিদের ওজন হবে খুব বেশি হলে কেজি তিনেক। সারা গায়ে বেশ বড় বড় লোম হলে কী হবে দেহের তুলনায়
তার লেজটি খুবই ছোট। ফলে এক গাছ থেকে আর এক
গাছে লাফালাফির সময় ওই খুদে লেজটি তেমন কাজে দেয় না। তা সত্ত্বেও তারা ৬৫ ফিটের বেশি দূরত্বেও লাফাতে
পারে। এবং এই লাফানোর ব্যাপারে তাদের বেশ
শক্তপোক্ত হাত-পাকেই তারা কাজে লাগায়। অবশ্য
শরীরের ব্যালেন্স বা ভারসাম্য বজায় রাখতে ওই ছোট্ট লেজটা কিছুটা সাহায্য করে। গাছের একেবারে উঁচুতে ঘন পাতার আড়ালে থাকাই পছন্দ
তাদের। ঘন মোটা লোমে ঢাকা উআকারিদের লোমের
রঙও বিভিন্ন। প্রজাতি অনুযায়ী লাল, বাদামি,
কালো ও সাদা হয় লোম।
এমনিতে
ছানাপোনা সমেত নারী পুরুষ মিলে ১০-৩০ জনের দল নিয়ে তারা বসবাস করে। একসঙ্গেই গাছের ওপর বেশিরভাগ সময় থাকে তারা। কেবল খাবারের
সন্ধানে তারা যখন বেরোয়, তখনই একমাত্র ছোট ছোট দলে ঘোরে। খাবারের ব্যাপারে তারা মূলত ফলাহারি। তবে আমিষেও আছে। তাই ফুল ফল পাতার পাশাপাশি পোকামাকড় ছোটখাটো
প্রাণীও ঢুকে পড়ে তাদের খাদ্য তালিয় । তবে
প্রধানত ফল খায় বলে অরণ্য জুড়ে তারা ফলের বীজও ছড়িয়ে দেয়। ফলে নিজেদের অজান্তেই ইকো-সিস্টেম বা প্রতিবেশ
রক্ষায় উআকারিরা একটা বড় ভূমিকা নিয়ে ফেলে।
সাধারণত
উআকারিরা চার প্রজাতির হয়। এক একটি প্রজাতিকে
এক এক জায়গায় দেখা যায়। যেমন, ব্রেজিলের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
দেখা যায় সাদা উআকারিদের। ব্রেজিল- পেরুর সীমান্তে
সোনালি, ব্রেজিল-কলোম্বিয়া সীমান্তে লাল ও তার একটু পূর্বেই হালকা রঙের উআকারিরা
থাকে। তাদের প্রজনন সময় অক্টোবর ও মে মাস। সাধারণত প্রতি দু’বছর অন্তর একটি করে সন্তানের জন্ম
দেয় তারা। আরণ্যক প্রকৃতিতে তারা বাঁচে ২০
বছরের মতো।
উআকারির
কিছু শত্রুও আছে। শিকারি পাখি, গাছে বাস করে
এমন সাপ, এমনকী বড় জাতের বানররাও তাদের শত্রু।
তবে সব থেকে বড় শত্রু বুঝি মানুষ। একদিকে
জঙ্গল কেটে কেটে তাদের বাসস্হান ধ্বংস করে দিচ্ছে। অপরদিকে খাওয়ার জন্য তাদের শিকার করছে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত অ্যামাজন-বর্ষারণ্যের কিছু
আদিম উপজাতির প্রধান খাদ্যই ছিল উআকারির মাংস।
নিয়মিত শিকার করত। এখন অনেকে তাদের
পোষার জন্য ধরে। প্রাকৃতিক অরণ্যে ক্রমশই
তাদের বিপদের সম্ভাবনা তাই বেড়েই চলেছে।
সূত্র:
এ-জেড অ্যানিমেলস.কম

Comments
Post a Comment