হুমকির মুখে ধান-চাল, মানুষও
চালের
ওপর নির্ভর করে কয়েকশো কোটি মানুষের জীবন। চাল থেকে তৈরি নানা খাবারই তাদের প্রধান
খাদ্য। কিন্তু দেখা যাচ্ছে,
সেই চালের উৎপাদন কমছে। এবং উৎপাদন
কমার মূল কারণ হল অতি বৃষ্টি।
ধান
থেকে চাল হয়। এবং যে সব দেশে ব্যাপক হারে ধান চাষের চলন আছে, সেই সব দেশে বৃষ্টিও হয় যথেষ্ট।
পর্যাপ্ত পরিমাণ বৃষ্টির জল পেলে, ধানের
ফলন হয় ভালো। কিন্তু অতিবৃষ্টি ধান গাছ নষ্ট করে দিতে পারে।
মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০০ সাল থেকে, ধান চাষ-করা বিভিন্ন দেশে ঘনঘন বন্যা
দেখা দেওয়ায়, ধানের ক্ষতি বছরে বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এবং গবেষকরা দেখছেন যে, আগামী দিনে জলবায়ু পরিবর্তন যত তীব্র
হবে, ধান চষের ক্ষতি হবে তত বেশি।
গবেষকরা
বলছেন, এত দিন, বিজ্ঞানী ও কৃষক উভয়েরই নজর থেকেছে অনাবৃষ্টির ওপর। কারণ, অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ধানের ফলন ব্যাহত
করে। তাঁরা বলছেন, এখন, অনাবৃষ্টির সঙ্গে অতিবৃষ্টির ওপরও নজর রাখতে হবে। কারণ, বেশি বৃষ্টিপাতও ধান গাছকে মেরে দেয়।
এবং দিচ্ছে।
গবেষকরা
বলছেন, ধান গাছ যদি এক সপ্তাহ টানা জলের তলায়
ডুবে থাকে, তাহলে তার মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে
পারে। এই মাত্রাকে মাথায় রেখে তারা জানাচ্ছেন, বার বার ঘটে যাওয়া বন্যা ধান চাষের ক্রমাগত ক্ষতি করে চলেছে। এবং
তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী
দিনে ধান চাষের অঞ্চলগুলিতে বৃষ্টিপাতের হার ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। অথচ, পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশি মানুষ চালের
ওপর নির্ভরশীল।
যে
সব দেশে ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি, সেগুলিকেও
চিহ্নিত করা হয়েছে। চিন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া,
ফিলিপিন্স ও নেপাল তার মধ্যে পড়ে।
ভারতে, দু’টি জায়গা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি
হলো সাবরমতি নদী অববাহিকা। এবং দ্বিতীয়টি, পশ্চিমবাংলা।
ভারতএখন বিশ্বের প্রথম চাল উৎপাদনকারী দেশ। ২০২৫-২৬-এ ভারতে চাল উৎপাদন হয় ১৫১ মিলিয়ন (১৫.১ কোটি) মেট্রিক টন চাল। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চিন — ১৪৬ মিলিয়ন (১৪.৬ কোটি) মেট্রিক টন। তৃতীয় স্থানে আছে ভারতের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ — উৎপাদন, প্রায় ৫৫ মিলিয়ন (৫.৫ কোটি) মেট্রিক টন।
ভারতের
রাজ্যগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাল উৎপাদন হয় পশ্চিমবাংলায়, — বছরে প্রায় ১.৬ কোটি মেট্রিক টন। তার মানে, এ দেশের ১০ শতাংশের একটু বেশি চাল আসে পশ্চিমবাংলা থেকে।
খাদ্য
হিসেবে চালের ব্যবহারও সব চেয়ে বেশি এই তিন দেশে — ভারত, চিন ও বাংলাদেশ।
ছবি নিজস্ব

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন