শিম্পাঞ্জি কিন্তু ৯৬ শতাংশই মানুষ
শিম্পাঞ্জিরা
মানুষের খুব কাছের প্রাণী। তাদের সঙ্গে মানুষের বিস্তর মিল। বিজ্ঞানীরা বলেন মানুষ
আর শিম্পাঞ্জির ৯৬ শতাংশ ডিএনএ এক। অর্থাৎ আমরা মানুষরা, ৯৬ ভাগ শিম্পাঞ্জি। আর সেই
কারণেই হয়তো জন্মানোর পর শিম্পাঞ্জি আর মানব শিশু যে ভাবে বড় হয় তাতে বিশেষ তফাৎ দেখা
যায় না।
মিল লক্ষ করা যায় জন্মের আগে থেকেই। যেমন, মাতৃগর্ভে
মানব শিশু সাধারণত থাকে ২৮০ দিন, আর শিম্পাঞ্জি শিশু ২৩০ দিন। জন্মের পর মানব শিশু
যতটা অসহায়, এক শিম্পাঞ্জি শাবকও ঠিক ততোটাই। মানুষের মতই, মা-বাবার, বিশেষ করে মায়ের
আদর যত্ন না পেলে শিম্পাঞ্জি ছানার বাঁচা দুষ্কর হয়ে ওঠে।
প্রথম ছ’মাস মায়ের গলা জড়িয়ে ঘোরে শিম্পাঞ্জি বাচ্চা,
যেমন আমরা শিশুকালে ঘুরি মায়ের কোলে। ছ’মাস
পেরলে তারা ঘোরে মায়ের পিঠে চড়ে। এমন দৃশ্যও তো মানুষের ক্ষেত্রেও দেখা যায় - বাচ্চাকে
কাপড় দিয়ে পিঠে বেঁধে নিয়ে চলেছে। কিম্বা মা কাজ করছে কোথাও। উভয় শিশু তখনও নিজের পায়ে
ভর দিয়ে হেঁটে চলে বেড়াতে পারে না। দু’বছর বয়স হলে তবেই শিম্পাঞ্জি ছানা মায়ের কোল
ছেড়ে মাটিতে খেলতে শুরু করে। তবে মায়ের খুব
কাছাকাছিই থাকে তখনও। তিন বছর বয়স হলে তবেই তারা আরও একটু সড়গড় হয়ে মাকে ছেড়ে নিরাপদ
দূরত্বে গিয়ে তার চারপাশের বিস্ময়কর জগৎটাকে আবিষ্কার করতে আরম্ভ করে।
মানুষের সন্তানও বোধহয় এমনটাই করে তার জন্মের তিন
বছর পরে। তিন-চার বছর অবধি মায়ের দুধ খেয়েই বড় হয় শিম্পাঞ্জিরা। তারপর বড়দের খাবার
তথা নানা রকম ফল মূল খেতে শেখে । বছর পাঁচেক বয়স হলে গাছের ডালে আলাদা খাট-বিছানা হয়
তাদের, আর সেই থেকেই শুরু হয় কৈশোরে পদার্পনের প্রস্তুতি। তা সত্ত্বে তারা থাকে মায়ের কাছে কাছেই। হই, হট্টোগোল
সবই চলে। কিন্তু কোনও কিছুই মায়ের নজর এড়িয়ে নয়।
দেখতে দেখতে ১০ বছর বয়স হলে ছেলে শিম্পাঞ্জিদের
আলাদা হয়ে যাওয়ার সময় আসে। এবার সে মায়ের কাছ থেকে দূরে সরে যাবে। নিজের পায়ে দাঁড়াবে।
নিজের সংসার হবে। বছর ১৫ হলে সন্তান হবে তারও। তবে তরুণ পুরুষরা মায়ের থেকে আলাদা হয়ে
গেলেও, তারা একই গোষ্ঠীর মধ্যে থেকে যায়।
আর মেয়েরা, ১৩/১৪ বছর বয়সে সন্তান ধারণের ক্ষমতা
অর্জন করলেই সাধারণত চলে যায় অন্য দলে। কিন্তু বৃহত্তর দলের বাইরে যায় না কেউই। মানে,
শাঁখারিপাড়ার শিম্পাঞ্জি কাঁসারিপাড়ায় ভুলেও আস্তানা খুঁজতে যায় না। তেমনটা হলেই যে
“বহিরাগত” “বহিরাগত” চিৎকারে একেবারে ধুন্ধুমার কান্ড শুরু হয়ে যায়!
মানুষের মতই তারাও সমাজবদ্ধ জীব। মুখের ভঙ্গি, গলার
নানা স্বর, শরীরের নানা সঙ্কেতের সাহায্যে তারা নিজেদের মধ্যে ভাব বিনিময় করে। প্রয়োজনে
পাথর বা কাঠিকে তারা উই পোকা ধরার ছিপ হিসেবে কাজে লাগায়। আফ্রিকার কোথাও কোথাও
ধারাল কাঠের টুকরোকে তারা বর্শার মত ব্যবহার করে। জঙ্গলের বিশেষ বিশেষ গাছপালা আমাদেরই
মত তারা ওষুধ হিসেবে খায়।
তুবও প্রাণী জগতে মানুষের এই নিকটতম আত্মীয় আমাদেরই
হাতে আক্রান্ত হয়। তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন আমাদেরই
জন্য। এক সময় আফ্রিকার ২৫ দেশে তাদের বাস ছিল। এখন পাঁচটিতে তারা বিলুপ্ত হয়ে গেছে;
আরও পাঁচটিতে তারা অতিমাত্রায় বিপন্ন। মনে করা হয় ৫০ বছর আগেও তাদের সংখ্যা ছিল প্রায়
১০ লক্ষ। এখন আছে কেবল ১.৭ লক্ষ।
সূত্র:
সেভচিম্পস.অরজ, কনসার্ভনেচার.অরজ

Comments
Post a Comment