Posts

গাছেরা প্রাণ বাঁচায়

Image
  গাছেরা প্রাণ বাঁচায় মানুষের। তার মানে এই নয় যে , আমরা বিপদে পড়লে , তারা শেকড়বাকড় তুলে লাফিয়ে এসে আমাদের বিপদ মুক্ত করে। তারা যেটা করে , তা হল মানুষের মৃত্যু হার কমায়। ফ্রেন্ডস অফ দ্য ট্রিজ (গাছেদের বন্ধু) নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা , মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ড শহরের রাস্তার দু ’ ধারে প্রচুর গাছ লাগায় ৩০ বছর আগে। মানুষের ওপর সেই তিন দশক আগে লাগানো গাছগুলির প্রভাব কেমন হয়েছে , তা নিয়ে একটি গবেষণা হয় সম্প্রতি। সেই গবেষণা থেকে জানা গেছে যে , গাছগুলি ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের মৃত্যু হার বেশ খানিকটা কমিয়েছে। গবেষকরা এও দেখেছেন যে , গাছগুলি লাগাতে ও সেগুলির দেখাশোনা করতে যা খরচ হয়েছে , সেগুলি থেকে যে সুফল পাওয়া গেছে , টাকার হিসেবে তার মূল্য অনেক বেশি। শহরের যে সব এলাকায় গাছগুলি লাগনো হয় , গবেষকরা সেই সব এলাকার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেন। দেখা যায় , গাছ লাগানর আগে , সে সব এলাকায় মৃত্যু হার যা ছিল , গাছগুলি লাগানোর পর সেগুলি ধীরে ধীরে বড় ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সেই সব এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে মৃত্যু হার কমতে থাকে। কোথাও কোথাও তা ২০ শতাংশ...

হাওয়া বদল আনল ডাইনোসরদের

Image
  পৃথিবীতে বদল এসেছে বার বার। আর দেখা গেছে , পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার পেছনে নিঃশব্দে কাজ করেছে আবহাওয়া পরিবর্তন। হাওয়া   বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে পৃথিবীর চেহারাও।   আজ থেকে ২৫ কোটি বছর আগে , পৃথিবীর স্থলভাগ বলতে   একটাই বিরাট মহাদেশ ছিল। আজকের এশিয়া , আফ্রিকা , ইউরোপ , অস্ট্রেলিয়া , উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার মতো আলাদা আলাদা মহাদেশে ভাগ করা ছিল না পৃথিবী। ব্যবস্থাটা   ছিল বেশ সোজাসাপ্টা। একদিকে স্থল , অন্য দিকে   জল। সেই সময় , গাছপালা পৃথিবীর   মাটিতে বেশ শক্তপক্ত ভাবে শেকড় বিস্তার করেছে। জঙ্গলটঙ্গল ঘন হয়েছে নানা দিকে। নানা   ধরনের প্রাণীও   দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তখন।   ডাইনোসরেদের অবির্ভাব ঘটেছে , কিন্তু পৃথিবীতে রাজ করছে অন্য এক ধরনের প্রাণী। চার পায়ে চলে। ল্যাজ আছে   লম্বা। মুখের চেহারা পাখির   সঙ্গে মেলে। দেখতে   অনেকটা   আজকের কুমিরের মতো। কিন্তু   আকারে বিস্তর বড়। তাদের   এক দল ঘাসপাতা খায় , আর এক দল মাংস। তাদের দাপাদাপির ফলে , ডাইনোসরেরা তেমন সুবিধে   করে উঠতে পারছে না। ...

মস্তিষ্কের সিন্দুকে রাখা থাকে স্মৃতি

Image
  পুরানো সেই দিনের কথা , সেই চোখের দেখা প্রাণের কথা কি কখনও ভোলা যায় ? যায় না। তাই অনেক কাল কেটে গেলেও , বার বার মনের মধ্যে ফিরে ফিরে আসে সেই ভোরের বেলা ফুল তোলার স্মৃতি।   আসলে মনে রাখার মতো কোনও ঘটনা যাতে আমরা ভুলে না যাই , তার জন্য আমাদের মস্তিষ্কে বিশেষ ব্যবস্থা আছে। সে স্মৃতি সুখেরই হোক বা দুঃখের।   সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রকেফেলার ইউনিভারসিটির গবেষক রাজা সেতুপতি , মস্তিষ্কে স্মৃতি কী ভাবে সঞ্চিত হয় , তা অনুসন্ধান করে দেখেছেন। ‘ নেচার ’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর গবেষণা পত্র ।   দেখা গেছে , আমাদের মস্তিষ্কের যে অংশে স্মৃতি সঞ্চিত হয় সেটির নাম , হিপোক্যাম্পাস। স্মৃতির মহাফেজখানার এমন অদ্ভুত নাম হলো কেন , তা বলা মুশকিল। গ্রিক ভাষায় ‘ হিপো ’ মানে ঘোঁড়া। আর ‘ ক্যামপাস ’ হলো সমুদ্রের দানব। দু ’ টি শব্দ ল্যাটিন ভাষায় এক হয়ে গিয়ে , তৈরি হয় ‘ হিপোক্যাম্পাস ’ । তার সঙ্গে আমাদের স্মৃতি ভাণ্ডারের কী সম্পর্ক , তা চিকিৎসাশাস্ত্রের রচয়িতারাই বলতে পারবেন।   একটা সম্পূর্ণ ঘটনা আমাদের ব্রেনের হিপোক্যাম্পাসে গচ্ছিত থাকে। সেই ঘটনার স্মৃতিকণাগুলি আ...

প্রাণীদের কি মন আছে?

Image
  আমাদের চারপাশে যারা থাকে -   কুকুর , বেড়াল , গরু , ছাগল ,  ঘোড়া -   তাদের কি আনন্দ বা মন খারাপ হয় ? তারা কি কখনও মানসিক যন্ত্রনায় ভোগে ? অথবা আবসাদের শিকার হয় কি তারা ? এক সময় মনে করা হত , এই সব প্রাণী বা পশুদের মন বলে কোনও বস্তু নেই। এখনও অনেকে তেমনটাই মনে করেন। তাই তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন তাঁরা। এমনকি অত্যাচারও করে থাকেন। প্রাচীন ভারতে মনে করা হত মানুষ সহ সব প্রাণীরই আত্মা আছে। আমরা সকলে , একে অপরের সঙ্গে , সেই সূত্রে বাঁধা। তাই প্রাণীদের প্রতি অহিংস আচরণের কথা বলা হয়েছিল বার   বার। এখন বিজ্ঞান বলছে , পৃথিবীজুড়ে ছড়ানো আছে প্রাণের এক বিশাল জাল , যাতে জীবাণু , কীটপতঙ্গ , হাতি — ঘোড়া , জলের পুঁটি থেকে তিমি , মানুষ - সবাই জড়িয়ে আছি সেই প্রাণের জালে। এখন এও বলা হচ্ছে , প্রাণীদের মনও আছে। ফ্রান্সের রেন ইউনিভারসিটির প্রাণী বিজ্ঞানী মার্টিন হসবার্গার বলেছেন , প্রাণীদের আচরণ দেখে আমরা তার মানে বুঝতে পারি না অনেক সময়। যেমন , মাঝে মাঝে পোশা ঘোড়াদের ভীষণ লম্ফঝম্প করে খেলতে দেখা যায়। মনে হবে , তারা বোধহয় আনন্দ করছে নিজেদের মধ্যে। হসবার্গ ৩০ বছর...