Posts

মস্তিষ্কের সিন্দুকে রাখা থাকে স্মৃতি

Image
  পুরানো সেই দিনের কথা , সেই চোখের দেখা প্রাণের কথা কি কখনও ভোলা যায় ? যায় না। তাই অনেক কাল কেটে গেলেও , বার বার মনের মধ্যে ফিরে ফিরে আসে সেই ভোরের বেলা ফুল তোলার স্মৃতি।   আসলে মনে রাখার মতো কোনও ঘটনা যাতে আমরা ভুলে না যাই , তার জন্য আমাদের মস্তিষ্কে বিশেষ ব্যবস্থা আছে। সে স্মৃতি সুখেরই হোক বা দুঃখের।   সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রকেফেলার ইউনিভারসিটির গবেষক রাজা সেতুপতি , মস্তিষ্কে স্মৃতি কী ভাবে সঞ্চিত হয় , তা অনুসন্ধান করে দেখেছেন। ‘ নেচার ’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর গবেষণা পত্র ।   দেখা গেছে , আমাদের মস্তিষ্কের যে অংশে স্মৃতি সঞ্চিত হয় সেটির নাম , হিপোক্যাম্পাস। স্মৃতির মহাফেজখানার এমন অদ্ভুত নাম হলো কেন , তা বলা মুশকিল। গ্রিক ভাষায় ‘ হিপো ’ মানে ঘোঁড়া। আর ‘ ক্যামপাস ’ হলো সমুদ্রের দানব। দু ’ টি শব্দ ল্যাটিন ভাষায় এক হয়ে গিয়ে , তৈরি হয় ‘ হিপোক্যাম্পাস ’ । তার সঙ্গে আমাদের স্মৃতি ভাণ্ডারের কী সম্পর্ক , তা চিকিৎসাশাস্ত্রের রচয়িতারাই বলতে পারবেন।   একটা সম্পূর্ণ ঘটনা আমাদের ব্রেনের হিপোক্যাম্পাসে গচ্ছিত থাকে। সেই ঘটনার স্মৃতিকণাগুলি আ...

প্রাণীদের কি মন আছে?

Image
  আমাদের চারপাশে যারা থাকে -   কুকুর , বেড়াল , গরু , ছাগল ,  ঘোড়া -   তাদের কি আনন্দ বা মন খারাপ হয় ? তারা কি কখনও মানসিক যন্ত্রনায় ভোগে ? অথবা আবসাদের শিকার হয় কি তারা ? এক সময় মনে করা হত , এই সব প্রাণী বা পশুদের মন বলে কোনও বস্তু নেই। এখনও অনেকে তেমনটাই মনে করেন। তাই তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন তাঁরা। এমনকি অত্যাচারও করে থাকেন। প্রাচীন ভারতে মনে করা হত মানুষ সহ সব প্রাণীরই আত্মা আছে। আমরা সকলে , একে অপরের সঙ্গে , সেই সূত্রে বাঁধা। তাই প্রাণীদের প্রতি অহিংস আচরণের কথা বলা হয়েছিল বার   বার। এখন বিজ্ঞান বলছে , পৃথিবীজুড়ে ছড়ানো আছে প্রাণের এক বিশাল জাল , যাতে জীবাণু , কীটপতঙ্গ , হাতি — ঘোড়া , জলের পুঁটি থেকে তিমি , মানুষ - সবাই জড়িয়ে আছি সেই প্রাণের জালে। এখন এও বলা হচ্ছে , প্রাণীদের মনও আছে। ফ্রান্সের রেন ইউনিভারসিটির প্রাণী বিজ্ঞানী মার্টিন হসবার্গার বলেছেন , প্রাণীদের আচরণ দেখে আমরা তার মানে বুঝতে পারি না অনেক সময়। যেমন , মাঝে মাঝে পোশা ঘোড়াদের ভীষণ লম্ফঝম্প করে খেলতে দেখা যায়। মনে হবে , তারা বোধহয় আনন্দ করছে নিজেদের মধ্যে। হসবার্গ ৩০ বছর...

মাছেরাও গান গায়

Image
কে জানত মাছেরা গান গায়! ব্রাজিলের এক নৃতত্ত্ব¡বীদ, রাফায়েল জোসে ডি মেনজেস বাসটস। তিনি সে দেশের কামায়ুরা উপজাতিদের ওপর অনেক দিন ধরে গবেষণা করছিলেন। একদিন তাঁর এক কামায়ুরা বন্ধু, একওয়া, ও তিনি ক্যানুতে করে একটি হ্রদে বেড়াচ্ছিলেন। নিস্তরঙ্গ জল কেটে ক্যানু এগোচ্ছিল প্রায় নিঃশব্দে। এমন সময় একওয়া বাসটসকে একটা প্রশ্ন করে বসেন।   “মাছেদের গান শুনতে পাচ্ছেন কি?” জানতে চান তাঁর একওয়া। প্রশ্নটা শুনে, অবাক হন বাসটস। ভাবেন, মানুষটি নিশ্চয় খুব ভাবুক প্রকৃতির। চারপাশের শোভা দেখে হয়তো একটু আপ্লুত হয়ে পড়েছেন। হয়ত এক কল্পনার জগতে প্রবেশ করেছেন তিনি। তাই ওই অদ্ভুত ও অবাস্তব প্রশ্ন।   কিন্তু বেশ কয়েক বছর পর, বেসটস সত্যিই একদিন মাছের গান শুনতে পান। খুবই ক্ষমতা সম্পন্ন মেশিনের সাহয্যে রেকর্ড করা মাছের গান শোনার সুযোগ হয় ওই নৃতত্ত্ববীদের। তখন তাঁর মনে পড়ে যায় ব্রজিলের সেই অরণ্যবাসী একওয়ার কথা। উনি তো মাছের গান শোনার কথাই বলেছিলেন। এখন মেশিনে-ধরা মাছের গানই তো শুনলেন বেসটস। একওয়া তো তাহলে কল্পনার জগতে ভেসে গিয়ে ওই কথা বলেননি। উনি তো নিশ্চয় ক্যানুয় বসে মাছের গান শুনতে পাচ্ছিলেন সে দিন!   এই ঘটনার...

কাশ্মীরের বিশ্ববিখ্যাত জাফরান বিপন্ন হচ্ছে

Image
  জাফরান ছাড়া অনেক খাবার র ন্নাই করা যায় না। বিশেষ করে তা যদি হয় মুসলিম ঘরানার সুস্বাদু সব খাবার। বিশ্বের অনেক দেশেই জাফরানের চাষ হয়। ইরান , ভারত , গ্রিস , তুরষ্ক মরোক্কো , ফ্রান্স , ইতালি , স্পেন , পাকিস্তান , চিন , জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায়। তবে জাফরান উৎপাদনে প্র থ ম স্থানে রয়েছে ইরান। বিশ্বের জাফরান চাহিদার ৮০ শতাংশই মেটায় ওই দেশ। সেই তুলনায় , ভারতের অবদান ৫ শতাংশ। ভারতে ৯০ ভাগ জাফরানই চাষ করা হয় জম্মু ও কাশ্মীরে। তাও আবার সে রাজ্যের দু ’ টি জেলা , পুলওয়ামা ও বগদম-এ এই অতি সুগন্ধী উদ্ভিদটির চাষ মূলত সীমা বদ্ধ। কিন্তু এই জম্মু ও কাশ্মীরের জাফরানই বিশ্বের সেরা বলে বিবেচিত হয়।   জম্মু ও কাশ্মীরের ওই অতি উৎকৃষ্ট জাফরানের উৎপাদন কিন্তু কমে যাচ্ছে। ল ক্ষ্য   করা গেছে যে , বেশ কয়েক বছর ধরে এমনটা হয়ে চলেছে। ‘ নেচার.কম ’- এ প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্রে বলা হয়েছে , বিশেষ তাপ মাত্রা , বৃষ্টি ও মাটির চরিত্রের ওপর নির্ভর করে জাফরানের চাষ। ওই গবেষণা থেকে আরও জানা গেছে যে , ১৯৯৭ থেকে ২০১৫ ’ র মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরে জাফরানের উৎপাদন ৮৩ শতাংশ কমে গেছে। ...