Posts

২০০০ বছরের বরফ ৩০ বছরে হারালো হিমালয়

Image
  হিমের আলয়ে বরফ আর কত দিন থাকবে ? এভারেস্ট থেকে যে তথ্য এসেছে , তা মোটেই ভালো নয়। হিমালয় সম্পর্কে যাঁরা খোঁজ খবর রাখেন , তাঁরা সাউথ কোল-এর নাম শুনে থাকবেন। ২৬ , ০০০ ফিট ওপরে , সেটি একটি হিমবাহ। এভারেস্টে যে পর্বতারোহীরা ওঠেন , তাঁরা এই হিমবাহ পেরিয়ে পৃথিবীর সব চেয়ে উঁচু শৃঙ্গের দিকে অগ্রসর হন।   সেই হিমবাহ দ্রু ত গলে যাচ্ছে। সব হিমবাহই গলে। আবার তুষারপাতের ফলে , বরফ জমা হয় সেখানে। কিন্তু ‘ সাউথ কোল গলছে এক অস্বাভাবিক হারে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা পত্রে বলা হয়েছে যে , সাউথ কোল-এ যে হারে বরফ জমে ছিল , তার চেয়ে ৮০ গুণ হারে গলে যাচ্ছে সেখানকার বরফ।   গবেষকরা ওই পাহাড়ে দু ’ টি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ স্টেশন তৈরি করে ছিলেন। পৃথিবীতে সেগুলি হল সব চেয়ে উঁচুতে অবস্থিত ওই ধরনের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। সেখান থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে , সেখানে যে বরফ জমা হতে সময় লেগে ছিল ২ , ০০০ বছর , সেই পরিমাণ বরফ ১৯৯০-এর পর থেকে গলে গেছে । অর্থাৎ , মাত্র ৩২ বছরের মধ্যে।   গবেষকরা এও বলেছেন , যে দশ বছর ধরে জমে ওঠা বরফ গলে যাচ্ছে এক বছরে। তথ্য থেকে আরও জানা গেছে যে , সাউথ কোল-...

এবার রেকর্ড ভাঙ্গল সিও-২

Image
  বেড়েই চলেছে ,   সে বেড়েই চলেছে। তাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশ্ব জুড়ে কত বৈঠক , কত চুক্তি। কিন্তু লাগাম ছাড়া গতিতে তার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে আমাদের বায়ু মন্ডলে , যা পৃথিবীকে ক্র মশ গরম করে তুলছে। সে কার্বন ডাইঅক্সাইড বা সিও-২। এবং গত মে মাসে সে সমস্ত রেকর্ডই ভেঙে ফেলেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন , শিল্প যুগ শুরুর আগে বায়ুমন্ডলে গড়ে যে পরিমাণ সিও টু থাকত , বর্তমানে তার থেকে ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে। আসলে বিদ্যুৎকেন্দ্র , যানবাহন , ফার্ম ও অন্যান্য নানা উৎস থেকে বেরিয়ে আসা কার্বন ডাইঅক্সাইড বায়ুমন্ডলে বিপুল পরিমাণে মিশে যাচ্ছে। ২০২১ সালে বাতাসে ওই কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা ছিল ৩৬২০ কোটি টন। মানব সভ্যতার ইতিহাসে যা সর্বোচ্চ। আর বাতাসে এই সিও টু ’ র মাত্রা বেড়ে পৃথিবী যত গরম হয়ে উঠছে , ততই প্রকৃতিতে অঘটনও ঘটছে বেশি। বর্তমানে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা শিল্প যুগের আগের থেকে বেশি। এবং প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী এই তাপমাত্রা কমানোর যে লক্ষ্য মাত্রাই ঠিক করা হোক না কেন দেখা যাচ্ছে , তা ক্র মশই বেড়ে চলেছে। ফলে বিশ্বের নানা প্রান্তে প্রবল তাপপ্রবাহ বেড়েছে। তার প্রভাবে বিশেষ করে ইউরোপে...

চাঁদের মাটিতে জন্মাল গাছ

Image
  চাঁদে গাছ না জন্মালেও , চাঁদের মাটিতে গাছ জন্মেছে। না এটা কোনও ধাঁধার লাইন নয়। সত্যিই , চাঁদ থেকে নিয়ে আসা মাটিতে লাগানো হয়ে ছিল বীজ। আর তাই থেকে ফুটে বেরিয়েছে গাছের চারা। মানুষের ইতিহাসে কেন , পৃথিবীর চারশো কোটি বছরের ইতিহাসে এমনটা আগে কখনও ঘটেনি। চাঁদ থেকে নিয়ে আসা মাটিতে গজালো গাছ! তাই হয়তো কোনও একদিন , পূর্ণিমার চাঁদের বুকে চাষ করে , গম ফলিয়ে , তৈরি করা যাবে ঝলসানো রুটি। মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এই অকল্পনীয় সাফল্য অর্জনকরেছেন । ‘ কমিউনিকেশন বায়োলজি ’ জার্নালে বেরিয়েছে তাঁদের গবেষণার ইতিবৃতান্ত। চাঁদের মাটি পৃথিবীর মাটি থেকে গুণগত ভাবে আলাদা। তবুও সেই মাটিতে যে গাছ গজাতে পারে , বিজ্ঞানীরা তা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। এই সাফল্যের পেছনে বিজ্ঞানীদের কৃতিত্ব যেমন আছে , তেমনই আবার , গাছও প্রমাণ করেছে তার অসীম প্রাণশক্তি। কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবীর মাটিতে নিজেদের বিস্তার ঘটিয়ে , বাতাস থেকে কার্বন-ডাইঅক্সাইড শুষে নিয়ে আর অক্সিজেন ছড়িয়ে , তারা এই গ্রহকে সব প্রাণীর বাসযোগ্য করে তুলেছে একটু একটু করে। এবার তারা দেখিয়ে দিল , চাঁদের মাটিকেও তারা আপন করে নিতে পা...

অ্যামাজনে ছানাধরাদের উপদ্রব চলছে

Image
  সাও পাওলোতে উদ্ধার-করা  ‘ টার্কয়েজ  ফ্র নটেড ’  টিয়ার বাচ্চা অগস্ট আর সেপ্টেম্বর , এই দুটো মাস খুব দুঃসময় অ্যামাজনের ‘ টার্কয়েজ ফ্র নটেড ’ টিয়াদের জন্য। অসাধারণ দেখতে ওই পাখি। বুকটা তাদের নীল-সবুজ পালকে ঢাকা। চোখের চারপাশটা হলুদ। আর চোখের মনিটা একটা লাল রিং দিয়ে ঘেরা। ওই দুটি মাসে তাদের বাচ্চারা একটু বড় হয়ে ওঠে। ছোট ছোট ডানা গজায় তাদের। কিন্ত ডানা মেলে উড়ে যাওয়ার মতো বড় হয়ে ওঠে না তখনও। মায়েরা খাবার নিয়ে এলে , তারা বাসায় বসেই মায়ের মুখ থেকে খাবার খায়। ওই সময় , টিয়ার ছানাদের ডাকে ভরে ওঠে অ্যামাজনের জঙ্গল। টিয়াদের কাছে এ এক অতি সুখের সময় হওয়ারই কথা। কিন্তু ওই আনন্দমুখর দিনগুলিতেই হঠাৎই শোকের ছায়া নামে অ্যামাজনের বনে। গাছে গাছে টিয়াদের বাসা থেকে এক এক করে উধাও হয়ে যেতে থাকে বাচ্চারা। টিয়া দম্পতিরা উড়ে উড়ে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়ায় তাদের। কিন্ত দেখা মেলে না আর। খাঁচাব ন্দী হয়ে , জঙ্গলের চোরাপথ দিয়ে , তারা পাচার হয়ে যায় বনের সীমানার বাইরে। এক অচেনা , অজানা ইঁট-কাঠের জঙ্গলে চিরকালের জন্য হারিয়ে যায় ওই নীল-সবুজ টিয়ার শিশুরা। মোঙ্গাবে-তে প্রকাশিত ডিমাস মা র্কে জ-এর   এ...

তিব্বতের হিমবাহে মিলল প্রাচীন সব জীবাণু

Image
Photo: Science.org তিব্বতের পাহাড়ে গিয়ে ছিলেন কয়েক জন বিজ্ঞানী। হিমবাহ নিয়ে গবেষণা করেন তাঁরা। হিমালয়ের খুব উঁচু এলাকায় যে তুষার জমে থাকে , সেই বরফের হালহকিকত জানাই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য। বছর বছর , হিমালয়ের পাহাড়ে তুষারপাত হয়। এ বছরের বরফ পরের বছর সবই গলে জল হয়ে যায় না। অনেকটাই জমে থাকে ২০ হাজার ২২ হাজার ফিট ওপরের প্রবল ঠাণ্ডায় । সেই জমে থাকা বরফের ওপর আবার তুষারপাত হয়। এই ভাবে , বছর বছর , দশকে দশকে একটা বরফের আস্তরণের ওপর জমা হয় আরও একটা আস্তরণ। যেন একটা লেপের ওপর চাপানো হয় আরও একটা লেপ , তার ওপর আরও একটা... পাহাড়ের ২২ , ০০০ ফিট উচ্চতা থেকে বিজ্ঞানীরা নিয়ে আসেন একটা বরফের চাঁই। ওই বরফ যাতে গলে না যায় , সেই ব্যবস্থা ছিল তাঁদের। তারপর , মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহায়েও ইউনিভারসিটিতে ফিরে এসে গবেষণা শুরু হয়। বিশ্লেষণ করে দেখা যায় , বরফের ওই খণ্ড টি ১৫ , ০০০ বছর পুরনো। সেই কবে , কোন সুদূর অতীতে , বরফ পড়ে ছিল , পাহাড়ে। সেই বরফ হাজার হাজার বছর সেখানে থাকার পর , চলে যায় এক ঝকঝকে আধুনিক গবেষণাগারে। সেখানে শুরু হল সেটির নানা বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান। আর সেই...