উষ্ণায়ন অনুভব করছেন ৭১% ভারতীয়
তাপপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি, ধস, বিধ্বংসী হড়পা বাণ — বিগত কয়েক বছরে, এই সব বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হয়েছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষকে।
উত্তরই হোক বা দক্ষিণ, পূর্বই হোক বা পশ্চিম, চারিদিকেই প্রকৃতির রোষ অনুভব করা
গেছে। বলা হচ্ছে, ওই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণ হলো উষ্ণায়ন।
পৃথিবীর
গড় তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় ঘটে যাচ্ছে নানান আবহাওয়া পরিবর্তন। কিন্তু এ দেশের ক’জন মানুষ মনে করেন যে, প্রকৃতি বিরূপ হচ্ছে? এবং সেই রোষ সৃষ্টি করার পেছনে মানুষের
হাত রয়েছে?
এই
সব বিষয়ে ভারতের মানুষ কী ভাবছেন, তা জানার জন্য ২০২২ থেকে ২০২৫-এর মধ্যে একটি সমীক্ষা চালানো হয়।
প্রায় ১৯,০০০
ব্যক্তি তাতে অংশ নেন। সমীক্ষাটি করে ‘ইয়েল প্রোগ্রাম অন ক্লাইমেট চেঞ্জ
কমিউনিকেশন’।
ওই
সমীক্ষা থেকে যা জানা গেছে, তা এই রকম :
- ৯০ শতাংশ ভারতীয় বলেছেন, তাঁরা বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব অনুভব করছেন। তাপপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি, জলকষ্ট, বন্যা — এ সবেরই তাঁরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সাক্ষী। কিন্তু এ সবের পেছনে মানুষের যে একটা বড়ো ভূমিকা আছে, সে ব্যাপারে তাঁরা সবাই নিশ্চিত নন। অন্তত ৩৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন না যে, ওই সব বিপর্যয়ের পেছনে মানুষের কোনও হাত আছে। তাঁদের মতে, বিপর্যয়গুলি নেহাতই প্রাকৃতিক ঘটনা।
- তবে, প্রায় ৭০ শতাংশেরও বেশি মানুষ মনে করেন যে, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে পশুপাখি ও গাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হচ্ছে। কৃষিতে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও গাছের অসুখ বাড়ছে। দেখা দিচ্ছে খরা ও জলের সংকট। বেড়ে যাচ্ছে বায়ু দূষণের মাত্রা। বাড়ছে জলের দূষণও। খাদ্য সংরক্ষণ ব্যাহত হচ্ছে ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে ঘনঘন। মৌসুমি বায়ুর আসা যাওয়া অনিশ্চিত হচ্ছে। বারবার বন্যা হচ্ছে। এবং বিঘ্নিত হচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ।
- প্রায় ৮৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন, উষ্ণায়ন ভারতের ক্ষতি করবে। এবং ৯৩ শতাংশ ব্যক্তির মতে, উষ্ণায়ন সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে একটি জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন।
ভারতএখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ। এবং বলা হয়, আবহাওয়া পরিবর্তন তাকে যথেষ্ট সংকটের
মধ্যে ফেলে দিতে পারে। আবার ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দিক থেকে বিচার করলে, ভারতে মাথাপিছু গ্রিনহা্উস গ্যাসে
নিঃসরণের পরিমাণ খুবই কম। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সভায় ভারত এই তথ্যের ওপরই জোর দিয়ে
আসছে। বিশ্বে বৃহত্তম গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ চিনের অবস্থানও একই রকম। এবং
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ গ্রিনহাউস গ্যাসের জোগানদার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান
সরকার তো মনে করেন যে, মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে ঘটতে-থাকা আবহাওয়া পরিবর্তনের কথাটা কেবল
একটি কষ্টকল্পিত আশঙ্কা মাত্র।
ছবি: নিজস্ব

Comments
Post a Comment