এশিয়ার মশা আফ্রিকায়
এশিয়ার
মশারা দল বেঁধে আফ্রিকা যাচ্ছে। তবে সব ধরনের মশারা যাচ্ছে, তা নয়। আফ্রিকার টানে সে দিকে পাড়ি
জমাচ্ছে, ‘অ্যানোফেলিস
স্টিফেনসি’।
তারা যে-সে মশা নয়। তাদের নামটি যেমন বড়ো, তারা তেমনই মারাত্মক। এই প্রজাতির মশাই ম্যালেরিয়া ছড়ায়। তার ফলে, দেশে দেশে মানুষের প্রাণ হানী ঘটে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এই মশারা এখন সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছে এমন সব ম্যালেরিয়ার জীবাণু, ওষুধ যাদের কাবু করতে পারে না। ম্যালেরিয়ার ওষুধের বিরুদ্ধে ওই জীবাণুরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এমনকি রক্ত পরীক্ষার সময়ও তারা আত্মগোপনও করে থাকতে পারে। ফলে, কারোর যে ম্যালেরিয়া হয়েছে, রক্ত পরীক্ষা করেও তা সহজে জানা যাচ্ছে না। আফ্রিকাগামী এশিয়ার অ্যানোফেলিস স্টিফেনসি যে এই ধরনের মারাত্মক ম্যালেরিয়া জীবাণু নিজেদের শরীরে বহন করে নিয়ে যাচ্ছে, তা জানতে পেরেছেন ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্ক্যাস্টার ইউনিভার্সিটিগবেষকরা।
উল্লেখ করা যেতে পারে যে, অ্যানোফেলিস স্টিফেনসি শহুরে মশা। শহরের পরিবেশই তাদের বেশি পছন্দ। গ্রামের প্রতি তারা কোনও আকর্ষণ বোধ করে না।
এশিয়ার
ওই মশা যে আফ্রিকায় পৌঁছে গেছে তা প্রথম জানা যায় ২০১২তে। ওই সালে, আফ্রিকার জিবৌতি-তে তাদের উড়ে বেড়াতে
দেখা যায়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত তারা ছড়িয়ে পড়েছে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে। যেমন, ইথিওপিয়া, সুদান, সোমালিয়া, এরিট্রিয়া, ইয়েমেন, নাইজেরিয়া, কেনিয়া ও ঘানায়। গবেষকরা বলেছেন, এত কম সময়ের মধ্যে ওই ধরনের কোনও মশার
প্রজাতিকে এত বড়ো এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে আগে কখনও দেখা যায়নি। গবেষণায় দেখা গেছে, মশা দমনের চিরাচরিত পদ্ধতিতে তাদের
নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বলা হয়েছে, এদের বাগে আনতে নতুন উপায় বার করতে
হবে।
ওই
গবেষণা পত্রের প্রধান লেখক ড. লুইগি শেড্ডা বলেন যে, এশিয়ার মশার আফ্রিকা যাত্রার বিষয়টি
জানতে পারা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ওই মশা ইথিওপিয়ায় ব্যাপক ম্যালেরিয়া
ছড়িয়েছে। এবং একটি বড়ো ভৌগোলিক অঞ্চলে নিজেদের অস্তিত্ব কায়েম করার ফলে
অ্যানোফিলিস স্টেফেনসি আফ্রিকার অনেক দেশেই জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি হুমকি হয়ে
দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তারা যখন সারা বছরই নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয় ও কীটনাশককে
হার মানাতে সক্ষম। এমনকি ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণুও ছড়াচ্ছে তারা। ফলে, তাদের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে
বাজারে আনতে হবে নতুন ওষুধ।
মনে
করা হয়, এক
সময় আফ্রিকা থেকেই মানুষ পৃথিবীর নানা দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। এখন এশিয়া থেকে মশা যাচ্ছে আফ্রিকায়।
ছবি: উইকিপিডিয়া

Comments
Post a Comment