বায়ু দূষণ প্রতিটি অঙ্গের ক্ষতি করে
[জেন্নি শিয়ার্সটন এক জন বিজ্ঞানী। বায়ু দূষণ মানুষের শরীরের
ওপর কী প্রভাব ফেলে, সে বিষয়ে তিনি ‘দ্য কনভার্সেশন-এ একটি লেখা লেখেন। তারই কিছু অংশ
প্রকাশ করা হল।]
আমি একজন এনভায়রমেন্টাল এপিডারমিওলজিস্ট বা পরিবেশ-প্রভাবিত অসুখ বিশেষজ্ঞ।
অনেক কাজের মধ্যে আমি যেটা করি তা হল, বায়ু দূষণ মানুষের শহরের কী ক্ষতি করে, তা নিয়ে গবেষণা। বাতাসের গুণমান বিচার করা খুবই জরুরি। কারণ, দূষণ কমলে কতটা আর্থিক সাশ্রয় হতে পারে, নীতি নির্ধারকরা তা বুঝতে পারেন। এবং
সেই অনুযায়ী তাঁরা নিয়ম-কানুন ঠিক করার সুযোগ পান।
বায়ু
দূষণ আমাদের শরীরে কী করে:
ওজোন
গ্যাস ও পিএম-২.৫ [বা ২.৫ মাইক্রোমিটার অথবা তার চেয়েও কম ব্যাসের ভাসমান ধূলিকণা]
শরীরের প্রতিটি অঙ্গেরই ক্ষতি করে।
বায়ু
দূষণ বিশেষ করে হার্ট, রক্ত চলাচল, শ্বাসপ্রশ্বাস ও স্নায়ুবিক ব্যবস্থার পক্ষে বিশেষ হানিকর। একাধিক গবেষণায় দেখা
গেছে যে, পিএম-২.৫’র প্রভাব করোনারি হার্ট ডিসিজ [বা হৃদ্যন্ত্র
ও রক্তবাহী শিরা উপশিরার অসুখ] সৃষ্টি করে। এবং এই অসুখ মৃত্যুর সংখ্যা বাড়িয়ে
দেয়। পিএম-২.৫ ও ওজোন গ্যাস যদি অল্প সময়ের জন্যও শরীরে প্রবেশ করতে থাকে, তাহলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের
কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
শ্বাসপ্রশ্বাসের
ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে, পিএম-২.৫ হাঁপানি ও বচ্চাদের
ব্রঙ্কাইটিসের মতো শ্বাসের অসুখ হওয়ার ঝুঁকি ১০ শতাংশ বাড়িয়ে দিতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় এও দেখা গেছে যে, পিএম-২.৫ যদি শরীরে প্রবেশ করতে থাকে, তাহলে স্মৃতিভ্রষ্টকারী
অ্যালজাইমার্স-এর মতো অসুখ দেখা দেয় বা অনুধাবন করার ক্ষমতা কমে যায়। তাছাড়া, ইন্টার্ন্যাশন্যাল এজেন্সি ফর রিসার্চ
অন ক্যানসার পিএম-২.৫কে কার্সিনোজেনিক বলে চিহ্নিত করেছে, যা ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে।
এটা
প্রমাণিত যে, বায়ু দূষণ কমাতে পারলে, অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। চিকিৎসার
খরচও কমানো যায়। এবং জীবনের মান উন্নত হয়।
মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের এনভাইরনমেন্ট প্রোটেকশন এজেন্সি’র (ইপিএ) বিজ্ঞানীরা ১৯৯০ থেকে ২০১০ পর্যন্ত একটি সমীক্ষা চালান।
তাঁরা হিসেব করে দেখেন যে,
দেশজুড়ে বাতাসে ভাসমান পিএম-২.৫’র পরিমাণ ৩৯ শতাংশ কমে যাওয়ার ফলে
ইস্কিমিক হাট, সিওপিডি’র মতো ফুসফুসের অসুখ, ফুসফুসের ক্যানসার ও স্ট্রোক থেকে মৃত্যুর সংখ্যা কমে ৫৯ শতাংশ।
আবার, দেখা যায় যে, ওই সময় কালের মধ্যে, ওজোনের ৯ শতাংশ হ্রাস, দীর্ঘকালীন শ্বাসকষ্টের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা কমে ১৩ শতাংশ। এই সব অসুখ বেশ ব্যয় সাপেক্ষ। এগুলির চিকিৎসা সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এবং চিকিৎসার খরচ মেটানর জন্য বিমা কম্পানিগুলিও তাদের প্রিমিয়ামের অঙ্কটা বাড়িয়ে দেয়। অন্য দিকে, মানুষ তার কর্মক্ষমতা হারালে, অর্থনীতির ওপরও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
ছবি: উইকিপিডিয়া কমন্স

Comments
Post a Comment