জল - দেউলিয়া হচ্ছে অনেক দেশ
পৃথিবীর অনেক দেশ দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। তাদের আয় ১০ ইউনিট হলে, তারা খরচ করছে ১৫। এই দেউলিয়া অবস্থাটা আর্থিক নয়। বরং জলের। যতটা জল তারা প্রকৃতির কাছ থেকে পাচ্ছে, তার অনেক বেশি ব্যবহার করছে তারা। পৃথিবী এখন জল সঙ্কটের কবল থেকে জলের দেউলিয়া অবস্থায় প্রবেশ করেছে। এ কথা জানিয়েছে জাতিসংঘ।
কয়েক
দশক ধরে বিজ্ঞানীরা বলে আসছেন যে, পৃথিবী এক গভীর জল সঙ্কটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যার অর্থ দাঁড়ায়, চেষ্টা করলে সেই সঙ্কট কাটিয়ে ওঠাও
সম্ভব। কিন্তু অনেক দেশে জলের অভাব এখন আর সঙ্কটের পর্যায়ে নেই। জলের দিক থেকে
তারা দেউলিয়া অবস্থায় ডুবে গেছে। সে সব দেশে জলের ভাণ্ডার শেষ। চেষ্টা করলেও, সেই ভাণ্ডার আর পূরণ করা সম্ভব হবে না।
এমনটাই জানা যাচ্ছে।
বিশ্বের
নানা প্রান্তে জলের যোগান ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে আসছে। মাটির নিচের জলস্তরও নামতে
নামতে ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে সেই সব অঞ্চলে। মনে করা হচ্ছে, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল হচ্ছে এমন
এক আধুনিক শহর যেটি জলশূন্য হতে বসেছে। ইরানের রাজধানী তেহরানে, জলকষ্টে নাভিশ্বাস উঠছে সেখানকার
বাসিন্দাদের। মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি মাটিতে বসে যাচ্ছে। বছরে ২০ ইঞ্চি
হারে। কারণ, মাটির
নীচের জলভাণ্ডার থেকে বিপুল পরিমাণ জল তোলা হয়েছে। ফলে, সেখানকার মাটি আলগা হয়ে গেছে। মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমের রাজ্যগুলির মধ্যে জল বণ্টন নিয়ে চলেছে জোর
প্রতিযোগিতা। কারণ, যে কলোরাডো নদীর (ছবি) জলের ওপর তারা নির্ভরশীল, খরাক্লিষ্ট সেই নদীর জল শোচনীয় ভাবে
কমে গেছে।
জল-দেউলিয়া
হয়ে যাওয়ার দিকে ভারতও এগোচ্ছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার ইনস্টিটিউট-এরহিসেব অনুযায়ী, পৃথিবীর
২৫ শতাংশ ভূগর্ভের জল ব্যবহার হয় ভারতে। এবং তার ৯০ শতাংশ যায় কৃষিকাজে। সবুজ
বিপ্লব ভারতের এক বিপুল সংখ্যক মানুষকে দারিদ্রের কবল থেকে তুলে আনে ঠিকই, কিন্তু তার জল-চাহিদা কয়েকটি রাজ্যের ভূগর্ভে সঞ্চিত
জলের ভাণ্ডারকে উদ্বেগজনক ভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
‘দেউলিয়া-পনা’র ধারনাটা রাষ্ট্রসংঘের গবেষকরা
ব্যাখ্যা করেছেন এই ভাবে -
পৃথিবীর
দেশগুলি জল আয় করে বৃষ্টি ও তুষারপাত থেকে। কিন্তু প্রকৃতি যত জল দেয়, তার অনেক বেশি পরিমাণ মানুষ ব্যবহার
করছে প্রতি বছর। সমুদ্র, নদী, খালবিল, জলাভূমি এবং মাটির তলা থেকে জল তুলে নেওয়া হচ্ছে সামঞ্জস্যহীন ভাবে।
ফলে, ধারের
অঙ্ক লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েই চলেছে। সেই সঙ্গে উষ্ণায়নে বেড়ে-যাওয়া তাপমাত্রা ও ঘন ঘন
খরা, জলের
চাহিদা বাড়িয়ে, পরিস্থিতি
আরও ঘোরাল করে তুলছে।
ফলে
সংকুচিত হচ্ছে নদী, জলাশয়; মাটির তলার জলস্তর নেমে যাচ্ছে, ধসছে মাটি, ঘটছে মরু বিস্তার, তুষার কমছে, দ্রুত গলছে হিমবাহ।
সংখ্যাতত্ত্ব
বলছে, পৃথিবীর
৫০ শতাংশ বড় হ্রদের জল ১৯৯০ থেকে কমে গেছে। ভূগর্ভের বড় জলভাণ্ডারগুলির ৭০ শতাংশের
জল পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ইউরোপের অয়তনের জলাভূমি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে
বিগত ৫০ বছরে। এবং ১৯৭০ থেকে পৃথিবীজুড়ে হিমবাহের আয়তন কমেছে ৭০ শতাংশ। যে সব
অঞ্চলে এই সব কারণে চাপ অনুভূত হচ্ছে না, সেখানেও দূষণের দৌলতে ব্যবহারযোগ্য
জলের পরিমাণ কমছে। এবং অন্তত, ৪০০ কোটি মানুষ, কিছু না হলেও, এক মাসের জন্য তীব্র জল সংকটের মধ্যে পড়েন।
অথচ, জলের চাহিদা ও ব্যবহার কমছে না। বরং
বাড়ছে। এ যেন একালের আলাদিনের দেওয়া জলের ক্রেডিট কার্ড - যত চাইব তত পাব!
পৃথিবীর
অনেক দেশ দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। তাদের আয় ১০ ইউনিট হলে, তারা খরচ করছে ১৫। এই দেউলিয়া অবস্থাটা
আর্থিক নয়। বরং জলের। যতটা জল তারা প্রকৃতির কাছ থেকে পাচ্ছে, তার অনেক বেশি ব্যবহার করছে তারা।
পৃথিবী এখন জল সঙ্কটের কবল থেকে জলের দেউলিয়া অবস্থায় প্রবেশ করেছে। এ কথা
জানিয়েছে জাতিসংঘ।
কয়েক
দশক ধরে বিজ্ঞানীরা বলে আসছেন যে, পৃথিবী এক গভীর জল সঙ্কটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যার অর্থ দাঁড়ায়, চেষ্টা করলে সেই সঙ্কট কাটিয়ে ওঠাও
সম্ভব। কিন্তু অনেক দেশে জলের অভাব এখন আর সঙ্কটের পর্যায়ে নেই। জলের দিক থেকে
তারা দেউলিয়া অবস্থায় ডুবে গেছে। সে সব দেশে জলের ভাণ্ডার শেষ। চেষ্টা করলেও, সেই ভাণ্ডার আর পূরণ করা সম্ভব হবে না।
এমনটাই জানা যাচ্ছে।
বিশ্বের
নানা প্রান্তে জলের যোগান ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে আসছে। মাটির নিচের জলস্তরও নামতে
নামতে ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে সেই সব অঞ্চলে। মনে করা হচ্ছে, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল হচ্ছে এমন
এক আধুনিক শহর যেটি জলশূন্য হতে বসেছে। ইরানের রাজধানী তেহরানে, জলকষ্টে নাভিশ্বাস উঠছে সেখানকার
বাসিন্দাদের। মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি মাটিতে বসে যাচ্ছে। বছরে ২০ ইঞ্চি
হারে। কারণ, মাটির
নীচের জলভাণ্ডার থেকে বিপুল পরিমাণ জল তোলা হয়েছে। ফলে, সেখানকার মাটি আলগা হয়ে গেছে। মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমের রাজ্যগুলির মধ্যে জল বণ্টন নিয়ে চলেছে জোর
প্রতিযোগিতা। কারণ, যে কলোরাডো নদীর জলের ওপর তারা নির্ভরশীল, খরাক্লিষ্ট সেই নদীর জল শোচনীয় ভাবে
কমে গেছে।
জল-দেউলিয়া
হয়ে যাওয়ার দিকে ভারতও এগোচ্ছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার ইনস্টিটিউট-এর
হিসেব অনুযায়ী, পৃথিবীর
২৫ শতাংশ ভূগর্ভের জল ব্যবহার হয় ভারতে। এবং তার ৯০ শতাংশ যায় কৃষিকাজে। সবুজ
বিপ্লব ভারতের এক বিপুল সংখ্যক মানুষকে দারিদ্রের কবল থেকে তুলে আনে ঠিকই, কিন্তু তার জল-চাহিদা কয়েকটি রাজ্যের ভূগর্ভে সঞ্চিত
জলের ভাণ্ডারকে উদ্বেগজনক ভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
‘দেউলিয়া-পনা’র ধারনাটা রাষ্ট্রসংঘের গবেষকরা
ব্যাখ্যা করেছেন এই ভাবে -
পৃথিবীর
দেশগুলি জল আয় করে বৃষ্টি ও তুষারপাত থেকে। কিন্তু প্রকৃতি যত জল দেয়, তার অনেক বেশি পরিমাণ মানুষ ব্যবহার
করছে প্রতি বছর। সমুদ্র, নদী, খালবিল, জলাভূমি এবং মাটির তলা থেকে জল তুলে নেওয়া হচ্ছে সামঞ্জস্যহীন ভাবে।
ফলে, ধারের
অঙ্ক লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েই চলেছে। সেই সঙ্গে উষ্ণায়নে বেড়ে-যাওয়া তাপমাত্রা ও ঘন ঘন
খরা, জলের
চাহিদা বাড়িয়ে, পরিস্থিতি
আরও ঘোরাল করে তুলছে।
ফলে
সংকুচিত হচ্ছে নদী, জলাশয়; মাটির তলার জলস্তর নেমে যাচ্ছে, ধসছে মাটি, ঘটছে মরু বিস্তার, তুষার কমছে, দ্রুত গলছে হিমবাহ।
সংখ্যাতত্ত্ব
বলছে, পৃথিবীর
৫০ শতাংশ বড় হ্রদের জল ১৯৯০ থেকে কমে গেছে। ভূগর্ভের বড় জলভাণ্ডারগুলির ৭০ শতাংশের
জল পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ইউরোপের অয়তনের জলাভূমি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে
বিগত ৫০ বছরে। এবং ১৯৭০ থেকে পৃথিবীজুড়ে হিমবাহের আয়তন কমেছে ৭০ শতাংশ। যে সব
অঞ্চলে এই সব কারণে চাপ অনুভূত হচ্ছে না, সেখানেও দূষণের দৌলতে ব্যবহারযোগ্য
জলের পরিমাণ কমছে। এবং অন্তত, ৪০০ কোটি মানুষ, কিছু না হলেও, এক মাসের জন্য তীব্র জল সংকটের মধ্যে পড়েন।
অথচ, জলের চাহিদা ও ব্যবহার কমছে না। বরং
বাড়ছে। এ যেন একালের আলাদিনের দেওয়া জলের ক্রেডিট কার্ড - যত চাইব তত পাব!
ছবি: উইকিপিডিয়াকমন্স

Comments
Post a Comment