তিব্বতের হিমবাহে মিলল প্রাচীন সব জীবাণু




Photo: Science.org

তিব্বতের পাহাড়ে গিয়ে ছিলেন কয়েক জন বিজ্ঞানী। হিমবাহ নিয়ে গবেষণা করেন তাঁরা। হিমালয়ের খুব উঁচু এলাকায় যে তুষার জমে থাকে, সেই বরফের হালহকিকত জানাই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য।

বছর বছর, হিমালয়ের পাহাড়ে তুষারপাত হয়। এ বছরের বরফ পরের বছর সবই গলে জল হয়ে যায় না। অনেকটাই জমে থাকে ২০ হাজার ২২ হাজার ফিট ওপরের প্রবল ঠাণ্ডায়। সেই জমে থাকা বরফের ওপর আবার তুষারপাত হয়। এই ভাবে, বছর বছর, দশকে দশকে একটা বরফের আস্তরণের ওপর জমা হয় আরও একটা আস্তরণ। যেন একটা লেপের ওপর চাপানো হয় আরও একটা লেপ, তার ওপর আরও একটা...

পাহাড়ের ২২,০০০ ফিট উচ্চতা থেকে বিজ্ঞানীরা নিয়ে আসেন একটা বরফের চাঁই। ওই বরফ যাতে গলে না যায়, সেই ব্যবস্থা ছিল তাঁদের। তারপর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহায়েও ইউনিভারসিটিতে ফিরে এসে গবেষণা শুরু হয়।

বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বরফের ওই খণ্ডটি ১৫,০০০ বছর পুরনো। সেই কবে, কোন সুদূর অতীতে, বরফ পড়ে ছিল, পাহাড়ে। সেই বরফ হাজার হাজার বছর সেখানে থাকার পর, চলে যায় এক ঝকঝকে আধুনিক গবেষণাগারে। সেখানে শুরু হল সেটির নানা বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান।

আর সেই অনুসন্ধান থেকে আশ্চর্যভাবে দেখা পাওয়া যায় একরাস ভাইরাসের। তিব্বতের পাহাড়ে বরফের মধ্যে ১৫ হাজার বছর ধরে ঘুমিয়ে ছিল তারা। এখনও ঘুমিয়েই আছে, অক্ষত, অবিকৃত অবস্থায়।

গবেষক ঝি-পিং ঝঙ বলেন যে, হিমবাহটি আস্তে আস্তে তৈরি হয়ে ছিল। আর সেই সময়কার ধুলিকণা ও গ্যাসের সঙ্গে অনেক ভাইরাসও মিশে যায় ওই বরফের সঙ্গে। অতীতে, পশ্চিম চিনে, তিব্বতের পাহাড়ের পরিবেশ কেমন ছিল, সেটা জানাই তাঁদের গবেষণার লক্ষ্য।

সব মিলিয়ে ৩৩ ধরনের ভাইরাস পাওয়া যায় ওই হিমবাহ থেকে তুলে আনা বরফে। তার মধ্যে চারটিকে শনাক্ত করা গেছে। বাকিগুলির পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

তবে এটা স্পষ্ট যে, তারা অতি কঠিন পরিবেশে দিব্যি থাকত, আর ভাইরাসের চরিত্র অনুযায়ী উৎপাত করতেও ছাড়ত না।


জীবাণুমুক্ত মাটি পাওয়া গেল অ্যান্টার্কটিকায়


পৃথিবীতে এমন কোনও জায়গা নেই যেখানে জীবাণু পাওয়া যায় না। সে হিমালয়ে মাউন্ট এভারেস্টের চুড়ায়, মেরু অঞ্চলের বিষম  ঠাণ্ডা, অথবা সমুদ্রের গভীরে, অক্সিজেনহীন পরিবেশে। যেখানে সালফার বেরতে থাকে উষ্ণ প্রশ্রবন থেকে, বা মাধ্যাকর্ষণের বাইরে মহাশূন্যে ভাসমান আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে - তা সে যেখানেই হোক, জীবাণুদের দেখা মেলে সর্বত্র।

এক টুকরো মাটি নিয়ে, তা জোরালো মাইক্রোস্কোপের নীচে ফেললে দেখা যাবে, সেখানে গিজগিজ করছে কোটি কোটি  জীবাণু। তাই অ্যান্টার্কটিকার শ্যাকেলটন  গ্লেসিয়ার বা হিমবাহ থেকে, বিজ্ঞানী নোয়া  ফিয়েরার যখন ২০৪টি মাটির  নমুনা নিয়ে তাঁর গবেষণাগারে ফিরে যান, তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে, অ্যান্টার্কটিকার জীবাণুদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হবে  অচিরেই। কিন্তু এক মহাবিস্ময় অপেক্ষা করে ছিল তাঁর জন্য।

একের পর এক মাটির নমুনা পরীক্ষা করেও, সেগুলিতে কোনও জীবাণুর অস্তিত্বের হদিস পেলেন না বিজ্ঞানী ফিয়েরার। তিনি গিয়ে ছিলেন ওই মেরু প্রদেশের জীবাণুদের সম্পর্কে জানতে, কিন্তু আবিষ্কার করে বসলেন সম্পূর্ণ অন্য কিছু  - এই পৃথিবীর সম্পূর্ণ জীবাণুহীন কিছু মাটি। যেন, ওই মাটির নমুনা এ গ্রহেরই  নয়। তা যেন ছিটকে এসে পড়েছে কোনও এক সুদূরের প্রাণহীন নীহারিকা থেকে।

তিনি যা দেখলেন তা এতটাই অবিশ্বাস্য যে, তা সঠিক বলে নিজেও বিশ্বাস করেতে পারলেন না। তাই কয়েক বছর ধরে চলল নানা ধরনের পরীক্ষা। কোনও একটি পরীক্ষায়  জীবাণুর সন্ধান না পাওয়া  গেলে, তাদের খুঁজে বার করার চেষ্টা চলে অন্য নানা পদ্ধতির সাহায্যে। তাই বছর বছর, নানা ভাবে চেষ্টা করা সত্ত্বে, অ্যান্টার্কটিকার সেই মাটির নমুনায় কোনও জীবাণুর অস্তিত্ব যখন লক্ষ করা গেল না, তখন ফিয়েরার ওই জীবাণুহীন, বিচিত্র মাটির কথা প্রকাশ্যে  জানালেন তাঁর গবেষনা পত্রে।

সেটি গত জুনে প্রকাশিত হয় জার্নাল অফ জিওফিজিক্যাল রিসার্চ’-এ।

ফিয়েরারের গবেষণা কিছু নতুন প্রশড়ব উস্কে দিয়েছে। তাহলে কি পৃথিবীতে এমনও জীবাণু থাকতে পারে, যেগুলিকে আমাদের বর্তমান প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান দিয়ে শনাক্ত করা যাচ্ছে না? এবং এই প্রশ্নেবর ভেতর থেকে আবার উঠে আসছে আরও এক গভীর জিজ্ঞাসা।

তাহলে কি মহাকাশে, গ্রহ গহান্তরে ছড়িয়ে আছে এমন সব জীবাণু, যেগুলিকে চিহ্নিত করার মতো সরঞ্জাম এখনও আমরা তৈরি করতে পরিনি।



Comments

  1. অনেক অনেক ধন্যবাদ। এক অজানা তথ্যকে আমাদের সামনে তুলে আনার জন্য।

    ReplyDelete
  2. আমাদের পরিবেশ পত্রিকা ‘জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা বার্তা’। আপনার সাথে একটু যোগাযোগ প্রয়োজন।একটু হোয়াটসঅ্যাপ করলে উপকৃত হবো 97340 67466

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

জল - চাহিদা বড়ছে, যোগান কমছে

গাছেরা কি দেখতে পায়

এক চিলতে বাগানে হাজারও প্রাণীর বাস