শুয়োরের কিডনি নির্বিঘ্নে চললো মানুষের দেহে
শুয়োরকে
মানুষ সুনজরে দেখে না। যদিও, দেশে
দেশে তারা নিজেদের প্রাণ দিয়ে, নানা
জাতির মানুষকে, খাদ্য যুগিয়ে এসেছে যুগ যুগ ধরে। তা
ফুটফুটে শুয়োর ছানাই হোক বা প্রাপ্ত বয়স্ক শুয়োর। তারা প্রতিনিয়ত বাধ্য হয়েছে
সুস্বাদু মাংস হয়ে খাওয়ার টেবিলে হাজির হতে। উৎকৃষ্ট প্রোটিনের জোগানদাতা শুয়োরের
ওপর, পুষ্টির জন্য নির্ভর করে এসেছে
মানুষ। কিন্তু এবার কি সেই শুয়োরেরা
মুমূর্ষু রোগীকে প্রাণভিক্ষাও দেবে? এমন কি হতে পারে যে, বরাহ
অবতার রূপে মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠবে সাদা, কালো নানা বর্ণের ছোট বড় শুয়োরেরা?
মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রে এক গবেষণায় তেমনই আভাস পাওয়া গেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনেক কিছু পারে, আবার পারেও না এখনও। যেমন, খারাপ হয়ে যাওয়া কিডনিকে ভাল করে তোলার
উপায় এখনও খুঁজে পায়নি চিকিৎসাশাস্ত্র। হ্যাঁ, নানা ভাবে অসুস্থ কিডনির অবনতির হার কমানো যায় ঠিকই। কিন্তু তাকে
আবার আগের মতো সজীব, সচল করে তোলা সম্ভব হয় না। অথচ কিডনি আমাদের শরীরের পক্ষে অপরিহার্য।
কিডনি বিকল হয়ে গেলে, গোটা শরীরটাই একটু একটু করে অচল হয়ে
যেতে থাকে। কিডনির কাজ হল শরীর থেকে বাড়তি জল বার করে দেওয়া। তার সঙ্গে শরীরে জমে
ওঠা অ্যাসিড, ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনাইনের মতো বর্জ্য পদার্থগুলিকেও সে বার করে দেয় প্র¯্রাবের সঙ্গে। সে শরীরে জল, নুন ও সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পোট্যাসিয়ামের মতো খনিজ পদার্থগুলির মধ্যে একটা ভারসাম্যও বজায় রাখে।
কিন্তু এতেই কিডনির গুরুদায়িত্ব শেষ হয় না। তার কাজের মধ্যে পড়ে এমন সব হরমোন তৈরি
করা যেগুলি আমাদের রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। সে তৈরি করে রক্তের লোহিত
কণা। আর আমাদের হাড়গুলোকে শক্ত রাখে। এত গুরুত্বপূর্ণ সব কাজ করে চলে যে অঙ্গটি, সেটি যদি বিগড়ে যায়, তাহলে কঠিন সমস্যায় পড়তে হয় আমাদের।
তখন কিডনির কাজটা মেশিন দিয়ে করাতে হয়। সেই পদ্ধতিটি ডায়লিসিস নামে পরিচিত। কিন্তু
দেখা গেছে, কিডনির প্রকৃত বিকল্প হয়ে উঠতে পারে না
মেশিন। একটা সময় আসে যখন ডায়ালিসের ধকল আর সইতে পারে না শরীর।
সম্প্রতি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এনওয়াইইউ ল্যাঙলন হাসপাতালে মেশিনের বদলে এক
জিন-পরিবর্তন-করা শুয়োরের কিডনি জুড়ে দেওয়া হয় এক মৃতপ্রায় ব্যক্তির শরীরে। ওই
ব্যক্তি ছিলেন ‘ব্রেন ডেড’। অর্থাৎ, তাঁর মস্তিষ্ক মারা গিয়েছিল কিন্তু
ভেন্টিলেটারের সাহায্যে চালু রাখা হয়ে ছিল তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাস। তাঁর আত্মীয়রা
চিকিৎসাশাস্ত্রের গবেষণার স্বার্থে তাঁর দেহ দান করেছিলেন। ফলে, সম্ভব হয় ওই পরীক্ষা। সাধারণভাবে, অন্য
যে কোনও প্রাণীর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মানুষের শরীরে বসালে, আমাদের শরীর তা প্রত্যাখ্যান করে।
কিন্তু এ ক্ষেত্রে, জিন প্রযুক্তির সাহায্যে এমনভাবে বদলে
দেওয়া হয়েছিল শুয়োরের কিডনি যে, মানুষের
শরীরে সেটি জুড়ে দেওয়া হলেও, কোনও
বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়নি। শুয়োরের কিডনি নির্বিঘ্নে কাজ করে ওই ব্যক্তির শরীরে। ঠিক যেমন এক
ব্যক্তির দান-করা কিডনি কাজ করে অন্য এক ব্যক্তির দেহে। ওই পরীক্ষাটি ৫৪ ঘন্টা
চালানো হয়।
যিনি
ওই গবেষণাটি করেন তাঁর নাম রবার্ট মন্টগমারি, একজন বিশ্ববিখ্যাত শল্যচিকিৎসক। উনি বলেছেন যে, অন্য প্রাণীর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মানুষের
শরীরে প্রতিস্থাপন করার ক্ষেত্রে, ওই
পরীক্ষার ফলাফল এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে চলেছে। উল্লেখ করা যেতে পারে,
ভারতের
অসমে, হৃদযন্ত্রের বিখ্যাত শল্যচিকিৎসক ডা:
ধনি রাম বড়ুয়া, ১৯৯৭ সালে, শুয়োরের হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন
করেছিলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত ৩২ বছর বয়সী রোগীর
শরীরে। সাত দিন শুয়োরের হৃদপিণ্ড নিয়ে বেঁচে ছিলেন ওই রোগী। ডা: বড়ুয়ার
ওই কাজ, সে সময় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে দেশ-বিদেশে। শুয়োরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যে মানুষের
শরীরেও ভবিষ্যতে কাজ করতে পারে, সেই
ইঙ্গিত ছিল তাঁর পরীক্ষায়।
কিন্তু
আশ্চর্য, ওই যুগান্তকারী পরীক্ষার জন্য ডা: বড়ুয়া ভারত সরকারের বা কোনও গবেষণা সংস্থার কাছ থেকেও অভিনন্দন পাননি।
উপরন্তু ওই পরীক্ষা চালানোর জন্য অসম পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। অথচ ২৩ বছর পর, ইংল্যান্ডের প্রখ্যাত শল্যচিকিৎসক স্যার টেরেনস ইঙ্গলিশ বলেন, মানুষের শরীরে যদি শুয়োরের কিডনি সফল
ভাবে বসানো সম্ভব হয়, তাহলে শুয়োরের হৃদপিণ্ডও একদিন বসানো যাবে। তিনি সেই
শল্যচিকিৎসক যিনি, ১৯৭৯ সালে, ইংল্যান্ডে প্রথম সফলভাবে মানুষের
হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন করেছিলেন। তার আগে ৩ ডিসেম্বর ১৯৬৭-এ, বিশ্বে প্রথম হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন
করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার শল্যচিকিৎসক খ্রিস্টান বারনার্ড।
খুবই ভালো ,নতুন নতুন অনেক তথ্য আমরা পৃথিবীর ডায়েরি পত্রিকাতে পাই, অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই এমন সুন্দর সুন্দর তথ্যসমৃদ্ধ লেখা উপহার দেয়ার জন্য,,।
ReplyDeleteধন্যবাদ
Delete