প্রাণী জগতে দুই সমাজের মায়েরা


HERMANN BREHM/MINDEN PICTURES

দুই সমাজের, দুই ছবি। বেজিদের মধ্যে শিশুদের ক্ষেত্রে কোনও ভেদাভেদ নেই। সেখানে সবাই সমান। আর হায়নাদের  সমাজে বাচ্চারা বৈশম্যের শিকার হয়।

বেজিদের মধ্যে সব মায়েরা সব বাচ্চাদের দেখাশোনা করে।  নিজের বাচ্চাদের বেজি মায়েরা বেশি দেখাশোনা করে আর  অন্যের বাচ্চাদের দূরে সরিয়ে রাখে, এমনটা হয় না। একটা বেজি-আস্তানায়, সব মায়েদের একই রাতে, এক সঙ্গে বাচ্চা হয়। ফলে, কে কার বাচ্চা তারা নিজেরাও স্থির হয়ত স্থির করতে পারে না। তাই সব মায়েরা, সব বাচ্চাদের একই সঙ্গে পালন করে। তাদের সমাজে প্রকৃতি কেন এই নিয়ম বলবদ করেছে, তা জানা যায়নি এখনও। তবে, শিশু মৃত্যুহার কমানর ক্ষেত্রে এ যে এক অব্যর্থ উপায়, বে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

গবেষকরা বিষয়টিকে আরও গভীরে গিয়ে দেখতে চান। সিত্যিই কি বেজিদের মধ্যে এই ধরনের উদারতা আছে? ব্রিটেনের এক্সেটার ও রোহ্যাম্পটন ইউনিভারসিটির বজ্ঞিানীরা আফ্রিকার উগান্ডায়, কয়েকটি সন্তানসম্ভবা বেজিকে নিয়ে একটি পরিক্ষা চালান । সাতটি দলে ভাগ করা হয় তাদের। কয়েকটিকে খুব ভাল করে খাওয়ান হতে থাকে, আর কয়েকটিকে প্রয়োজনের তুলনায় কম খাবার দেওয়া হয়। এর ফল যা হওয়ার তাই হয়। যে সন্তানসম্ভবা বেজিরা যথেষ্ট্য খাবার পায়, তাদের বাচ্চাগুলি বেশ হৃষ্টপুষ্ট হয়। আর যারা একটু অপুষ্টির শিকার হয়, তাদের ছানারাও হয় ছোটখাট, দুর্বল। এরপর আর তাদের অলাদা আলাদা দলে ভাগ করে না রেখে, সকলকে একসঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়।

দেখা যায়, যে বেজিরা ভাল খাবার পেয়ে বেশ স্বাস্থ্যবতী হয়ে উঠেছিল, তারা তাদের গোলগাল বাচ্চাদের বদলে দুর্বল ছানাগুলির প্রতি বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। তাদের সুস্থ সবল করে তোলাই সকলের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।



হায়নাদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ঠিক উল্টো। বাচ্চারা ভালমন্দ খেতে পাবে কিনা তা নির্ভর করে তাদের মায়েদের সামাজিক অবস্থানের ওপর। হায়নাদের সমাজে সাম্যের কোনও বালাই নেই। দলে যারা ক্ষমতাবান, তাদের বাচ্চারাই বেশি খেতে পায়। ‘সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা পত্র থেকে এমনটাই জানা গেছে।

ক্ষমতাশালী মেয়ে হায়নাকে ঘিরে থাকে তার কিছু বান্ধবী। ফলে ক্ষমতার ভাগিদার হয় তারাও। ওই ক্ষমতাশালী মেয়ে হায়নারা নিশ্চিত করে যে, তাদের বাচ্চারা শিকারের ভাল টুকরোগুলই পায়। আর যে মায়েরা ওই ক্ষমতাভোগীদের দলে স্থান পায় না, তাদের ছানাদের কপালে কেবল ঝড়তি-পড়তি টুকরোগুলোই  জোটে। তাই ওই সব বঞ্চিত বাচ্চাদের পক্ষে বেঁচে থাকা কঠিন হয়।

দেখা গেছে, সুবিধাভোগী শ্রেণীর বাচ্চারা তাদের মায়ের বন্ধুদের কছাকাছি থাকে। তাদের গ্রহণও করা হয় বিনা দ্বিধায়। গবেষকরা বলেছেন, এটা যেন একটা নেটওয়ার্কের মত কাজ করে। ক্ষমতাশালীরা তাদের একটা গোষ্ঠী তৈরি করে। যেখানে তারা নিজের বাচ্চাদের দেখাশোনার করার জন্য নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা করে। কিন্তু যারা দুর্বল, তাদের বাচ্চারা অবহেলিত থেকে যায়। যারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখে,  সেই সম্ভ্রান্তদের ক্লাবে তারা সহজে প্রবেশ করতে পারে না।

তবে এই ধরনের সামাজিক বৈষম্য কেবল হায়নাদের মধ্যেই দেখা যায় এমন নয়। প্রাণী জগতে মানুষের নিকটতম আত্মীয় শিমপাঞ্জিদের মধ্যে, ওই ভেদাভেদ বেশ প্রকট। অন্যান্য বেশ কিছু প্রাণীদের মধ্যেও শ্রেণীভেদ লক্ষ্যণীয়। ক্ষতার শীর্ষে থাকে যারা, তারা সবার আগে খায়। তাদেরর রক্ষা করার জন্য থাকে এক দল সাগরেদ বা মাস্তান।  কেউ দল নেতাকে উৎখাত করার চেষ্টা করলে, হুলুস্থুলুস বেধে যায়। 

 

 


Comments

Popular posts from this blog

জল - চাহিদা বড়ছে, যোগান কমছে

গাছেরা কি দেখতে পায়

এক চিলতে বাগানে হাজারও প্রাণীর বাস